Showing posts with label কলাম. Show all posts
Showing posts with label কলাম. Show all posts

Saturday, July 4, 2015

কসবা বর্ডারে বিচিত্র অভিজ্ঞতা!


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 


ছয়-সাত বছর আগের কথা। কসবা রেল ষ্টেশনের পেছনে যে খুব কাছাকাছি ভারতের বর্ডার তা আমার জানা ছিলনা। সৌন্দর্যের খোঁজে ষ্টেশনের পেছনের দিকটায় একটু ভেতরে গ্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। হটাত করে পেছন থেকে একজন গ্রামবাসী আমাকে ডাকলেন। আমি থামলাম। তিনি এগিয়ে এলেন। আমাকে বললেন, ওদিকে কই যান? ওদিকে যাইয়েন না, সমস্যা আছে। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, কি সমস্যা। জানেন না? সামনে ভারতের বর্ডার তিনি উত্তর দিলেন। আরো বললেন, 'এখন সময় ভালো না। গন্ডগোল চলতাছে। বিএসএফরা ক্যাম্প থ্যাকা দেখলে আপনেরে গুলি করতে পারে। আবার ধইরা নিয়া যাইতে পারে। আপনি বিদেশি মানুষ, যান গা।'
আমি বললাম, আমাকে শুধু শুধুই কি গুলি করবে, আমি কিছু না করলে ধরে নিয়ে যাবে? লোকটি উত্তর দিল, 'হ্যা! শুধু শুধুই ধরে নিয়ে যাবে। ওরা খুব খারাপ। ওরা কি জানেনা এখানে কারা কারা কোন বাড়ীতে মাল (মাদক) বেচে। সব জানে। ওগোরে ধরব না, ধরব আপনের মতো বিদেশি মানুষরে।' তিনি আরো বলেন, 'আপনেরে ধইরা নিয়া গেলে কি করব জানেন? গাঞ্জা-ফেনসিডিল এগুলো দিয়া কইব আপনের কাছে পাইছে। সাংবাদিক খবর দিয়া ছবি তুলব। আমি আপনার ভালোর লাইগা কইতাছি। এইবার আপনের ইচ্ছা। গেলে যান, আমার কি।' 
লোকটার কথা শুনে আর সামনে যেতে সাহস পেলাম না। সাথে সাথে সেখান থেকে চলে এলাম। তার আগে লোকটাকে ধন্যবাদ জানালাম। 
লোকটার কথা গুলো মিথ্যা ভাবার কারণ নেই। সত্যিই তো, বর্ডারের আশেপাশের গ্রাম গুলোতে কারা মাদক পাচার এবং ব্যবসা করে তারা সব জানে। তবে জানলেই কি লাভ? এদের বেলায় তো তাদের এমন ভূমিকা যে, তারা কিছু জানেই না, দেখেই না। যদি দেখতই তাহলে বাংলাদেশে এতো মাদক আসে কিভাবে?
যারা প্রতিদিন ভারতের বর্ডার ক্রস করে বাংলাদেশে মাদকের চালান নিয়ে আসে তাদের কিছু হয়না। তাদের কেউ আটকে রাখেনা, তারা বিএসএফের গুলিতেও মরেনা। ওদের ধরার নামে নাটকীয়তায় প্রাণ দিতে হয় ফেলানীদের মতো নিরীহ মানুষদের। আর যারা প্রাণ নেয় তাদের বিচার হয়না।

Tuesday, June 30, 2015

মালয়েশিয়ায় গৃহবন্দি বাংলাদেশিরা

রফিকুল ইসলাম সাগর 

অবৈধদের ধরতে মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মালয়েশিয়া জুড়ে চলছে গ্রেফতার আতঙ্ক। নতুন অভিবাসীদের জন্যও ইমিগ্রেশনে কড়াকড়ি ব্যবস্থা। এই অভিযান এই পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবৈধ গ্রেফতার অভিযান গুলোর মধ্যে সব চেয়ে কার্যকরী অভিযান। সুযোগ দেয়ার পরেও যারা মালয়েশিয়া থাকতে বৈধ কাগজপত্র করার সুযোগ কাজে লাগাননি তারা এখন আছেন ভয়ে। কেউ কেউ নিজেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে, কেউ দালালের মাধ্যমে। কেউ প্রতারক দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন কাগজপত্র বৈধতা করার জন্য কিন্তু দালাল আশ্বাস দিয়ে দিয়ে কাগজপত্র বৈধ করে দেয়নি টাকা নিয়ে ধরা ছোয়ার বাইরে চলে গেছে। প্রতারণার শিকার এই সব প্রবাসীরা পড়েছেন মহা বিপদে। এছাড়া অনেক পুরাতন প্রবাসী আছে যারা নিজের ইচ্ছেতেই বৈধতা করনের সুযোগ নেয়নি। এবারের গ্রেফতার অভিযান এতো কার্যকরী হবে তারা ধারণা করতে পারেনি। 
অবৈধরা চলছেন খুব সতর্কতার সাথে। অনেক অবৈধ বাঙালি কাজ ছেড়ে গৃহবন্দী দিন যাপন করছেন। যাদের বৈধতা আছে তারাও গ্রেফতার এড়াতে চলাফেরা করছেন খুব সতর্কভাবে। বৈধ কাগজপত্র, পাসপোর্ট সব সময় সঙ্গে রাখছেন। 

গত কিছুদিনে অসংখ্য বৈধ-অবৈধ বাঙালি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারের পর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষমদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশ এম্বাসীতে প্রচন্ড ভির দেখা গেছে। অবৈধরা গ্রেফতার এবং জেলে বন্দী জীবন এড়াতে ট্রাভেল পাশ করার জন্য আসছেন এম্বাসীতে। এই সুযোগে এম্বাসীর সামনে বেড়েছে দালালের আনাগোনা। ইতিমধ্যে অনেক মালয়েশিয়া প্রবাসী বাঙালি ট্রাভেল পাশ নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। অনেকে ট্রাভেল পাশ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। অবৈধদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রাভেল পাশের সুযোগ আছে। কিন্তু ট্রাভেল পাশ পেতে নানান রকমের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ এম্বাসীতে ট্রাভেল পাশ নিতে আশা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বাঙালির কাছে জানা যায় ''তিনি পাচ বছর আগে মালয়েশিয়া এসেছিলেন। শাহ-আলম নামক জায়গার যেই কোম্পানিতে কাজ করতেন গতবছরের প্রথম দিকে সেই কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। তাকে দেশে ফিরে যেতে বলা হলে তিনি ফিরে আসেননি। তার পাসপোর্ট কোম্পানিতে রেখেই পালিয়ে আসেন কুয়ালালামপুর শহরে। আশ্রয় নেন এক বন্ধুর কাছে। তারপর থেকেই সে অবৈধ। বৈধতাকরনের জন্য এক দালালকে দিয়েছিলেন পনেরশ রিঙ্গিত। দীর্ঘদিন দালাল পাসপোর্ট ও ভিসা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এখন ধরা ছোয়ার বাইরে। এখন তিনি গ্রেফতার এড়াতে ট্রাভেল পাশ নিয়ে দেশে ফিরে যেতে চান।'' 

চট্টগ্রামের সালাউদ্দিন জানায় এক বছর আগে দালাল মারফত মালয়েশিয়া আসে ট্যুরিস্ট ভিসায়। মালয়েশিয়া আসার আগে সে বুঝতে পারেনি তাকে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাঠানো হচ্ছে। পৌছারপর দালাল তাকে একটি হোটেলে কাজ দিয়ে উধাও হয়ে যায়। সেই কাজ টিকে মাত্র এক মাস। পরবর্তিতে দিন কাটায় খুব করুন ভাবে। পরিচিতদের আশ্রয়ে কাজ পায় ঠিকই কিন্তু সব সময় পুলিশের ভয়। বর্তমানে গ্রেফতার অভিযান চলছে সেই ভয়ে কাজে যায় না। দেশে ফিরে আসতে ট্রাভেল পাশের জন্য আবেদন করেছেন। 

মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত ৫-৬ বছর পুরাতন অনেক বৈধ বাঙালি নতুন করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে না। ওয়াংসামাজু নামক জায়গায় ঢাকার মিলন নামে এক বাঙালির সাথে কথা হয়। জানা যায় মালয়েশিয়াতে পাচ বছর যাবৎ আছেন। প্রতিবছর বছর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পেলেও এই বছরের শুরুতে পাচ বছর শেষ হওয়ার পর আর ভিসা পাননি। কয়েকমাস যাবৎ তিনি অবৈধ। এখন দেশে ফিরে যাবেন বলে ঠিক করেছেন। ট্রাভেল পাশ হাতে পেয়েছেন। সব ঠিক থাকলে অক্টোবর মাসে দেশে ফিরে যাবেন। 

কথা হয়েছে আরো কিছু সংখ্যক অবৈধ প্রবাসী বাঙালিদের সাথে। সরকারের কাছে তাদের দাবি দেশে ফিরে আসতে তারা যেন সহজ ভাবে ট্রাভেল পাশ পায়। বাঙালি যাদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সরকারের একটি সুষ্ঠু সিধান্তের অপেক্ষায় আছেন। দীর্ঘদিন জেলে বন্দী না থেকে দেশে ফিরতে চান অবৈধরা। 

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩ দৈনিক বর্তমানে প্রকাশিত।

Thursday, June 18, 2015

মিনা আপুর গল্প

রফিকুল ইসলাম সাগর 

কিছুদিন আগে মিনা নামের এক আপুর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। কথা বলার পর জানতে পারলাম চার বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। তার বিয়ের ব্যাপার কিছুটা নাটকীয়। ছেলের সম্পর্কে এবং ছেলের পরিবার সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনেশুনে মিনা আপার বাবা-মা তার বিয়ে দেন। বিয়ের আগে তাকে বলা হয়েছিল ছেলে উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু বিয়ের পর তিনি জানতে পারলেন ছেলে মাত্র এইচএসসি পাস। কিছুদিন পর দেখলেন, তার স্বামী নেশা করে। প্রতিদিন নেশা করে বাড়ি ফিরে। মিনা আপু প্রতিবাদ করলে তাকে স্বামী শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। স্বামী প্রতিদিন রাত দু'টা-তিনটার দিকে বাড়ি ফিরে। একদিন স্বামী ভালো হয়ে যাবে এই চিন্তা করে মিনা আপু বাবা-মাকে এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি। যতই হোক তার স্বামী। এভাবে চার বছর পার হল। কিন্তু স্বামী এখনও ভালো হয়নি। তার স্বভাবের কোন পরিবর্তন হয়নি বরং সে আপুর সঙ্গে আগের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ ব্যবহার করে। ইদানিং তার স্বামীর সঙ্গে নাকি কয়েকটা মেয়ের সম্পর্ক হয়েছে। এ কথা বলতে বলতে তিনি কেদে ফেললেন। আমাকে বললেন, 'আমার সব শেষ। এখন ওর সঙ্গে আমার সংসার করা আর সম্ভব না। ও এখন খুব ভয়ংকর হয়ে গেছে। আমাকে যে কোন সময় মেরেও ফেলতে পারে।' কথাগুলো শুনতে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল। ভাবলাম এমন ঘটনা তো আমাদের সমাজে এখন কম নয়। মিনা আপু একা নন, এভাবে হয়তো আরও অনেক আপুর জীবন নষ্ট হচ্ছে, সংসার ভাঙছে। এমনটি হচ্ছে হবে একথা ভেবে যদি আমরা বসে থাকি তাহলে তো নারী নির্যাতন চলতেই থাকবে। সমাজ একটুও বদলাবে না। তাই আজ আমাদের সব পুরুষের শপথ নেয়া উচিত, আমরা পরিবারে নারী নির্যাতন বন্ধ করব। এমন এক শপথ থেকেই তো এসিড সন্ত্রাসের বিপক্ষে প্রবল জনমত তৈরি হয়েছে। সচেতন পুরুষরা ঐক্যবদ্ধ হলে ক্ষতি কী?


২০০৯ সালে দৈনিক যুগান্তরের সুরঞ্জনা পাতায় প্রকাশিত।

Saturday, June 13, 2015

জামালদের ভবিষ্যত কী

রফিকুল ইসলাম সাগর
প্রতিদিন চা খেতে বাড়ির পাশে জামালের চায়ের দোকানে যাইI জামালের বয়স ১২I এই বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা কিন্তূ সে চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে I প্রায় চার-পাচ বছর হলো জামালকে এই চায়ের দোকানে দেখছি I দারিদ্যের কারণে জামাল স্কুলে যায় নাI তার বাবার বয়স ৬৫ বছরI তিনি কিছু করতেও পারবে না, তাই জামালকে বসিয়ে দিয়েছে চায়ের দোকানেI আমাদের দেশে এরকম লাখ লাখ জামাল আছে- কেউ চায়ের দোকানে চা-সিগারেট বিক্রি করছে, কেউ গাড়ির গেরেজে কাজ করছে, কেউ পত্রিকা বিক্রি করছে, আবার কেউ ভিক্ষা করছেI তাদের ভবিষ্যত কীI এক পথ শিশুকে প্রশ্ন করেছিলাম বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও? সে আমাকে বলেছিল, আমি বড় হয়ে রিক্সা চালামুI কী দারুন উত্তর! সে একজন ভবিষ্যতের রিক্সা চালকI এসব শিশুরা শিক্ষার আলো দেখতে পায় নাI স্কুলে যাওয়ার সময় নেই ওদেরI স্কুলে গেলে খাবেই বা কীI ওদের সহযোগিতা করার কী কেউ নেই?

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত।

Monday, June 1, 2015

দেশি বনাম বিদেশি পণ্য



রফিকুল ইসলাম সাগর
আমাদের বাজারে-মার্কেটে বিদেশি অনেক পণ্য পাওয়া যায়। এসব বিদেশি পণ্যের প্রতিই আমাদের বেশি আকর্ষণ। দেশীয় পণ্যের প্রতি আমাদের আস্থার অভাব রয়েছে। যারা স্বল্প আয়ের মানুষ শুধু তাদেরই দেশি পণ্যের প্রতি আস্থা। তবে আস্থা বললে ভুল হবে, তারা এক ধরনের বাধ্য হয়ে দেশি পণ্য কেনে বলা যায়। তারাও চায় বিদেশি পণ্য ব্যবহার করতে। সাধ আছে, সাধ্য নেই আর কী। আমাদের দেশীয় পণ্যের মান ভালো হলেও মন দুর্বল। আমাদের মধ্যে নেই দেশপ্রেম। বিদেশি পণ্যের ব্যবহার অনেক বড় ক্রেডিট মনে করি আমরা।

বিদেশি পণ্য আমাদের বেশি দামে কিনতে আপত্তি নেই; কিন্তু দেশি পণ্য কিনতে আপত্তি। অনেকের মন এমন যে, দেশি পণ্যকেও বিদেশি বলে অন্যের কাছে জাহির করে।

বিদেশে অনেক বাংলাদেশীর বসবাস। প্রতিদিন অসংখ্য প্রবাসী দেশে যাওয়া-আসা করে। একজন প্রবাসী যখন দেশে ফেরে তখন তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব তার কাছ থেকে বিদেশি গিফট পাওয়ার আশায় থাকে। কেউ কেউ আগেই জানিয়ে দেয় বিদেশ থেকে কী কী আনতে হবে। যদি সেই প্রবাসী বলে যে, বিদেশ থেকে কিনতে বেশি টাকা লাগে, দেশ থেকে কিনে দেব, তাহলে দেখা যাবে স্বজনদের দেশ থেকে সেই পণ্যগুলো কিনে দেয়া হলেও মুখ গোমরা থাকবে। কারণ পণ্যগুলো বিদেশ থেকে কিনে আনা হয়নি। আর যদি বিদেশ থেকে বাজে এবং তার চেয়েও সস্তা পণ্য কিনে এনে দেয়া হয়, তাহলে স্বজনকে খুশিতে লাফালাফি করতে দেখা যাবে। আমাদের মানসিক অবস্থার এই হলো বাস্তবতা।

একটি বাস্তব ঘটনা। এক বন্ধু তার প্রবাসী বন্ধুকে ফোন করে অনুরোধ করল দেশে আসার সময় তার জন্য একটা বিদেশি জিন্সের প্যান্ট কিনে আনতে। প্রবাসী বন্ধু বলল_ দোস্ত, এখানে জিন্স প্যান্টের অনেক দাম তোকে আমি দেশ থেকে দামি ভালো প্যান্ট কিনে দেব। বন্ধু উত্তর দিল_ দেশ থেকে কিনলে তো আমিই কিনতে পারি। আর দোস্ত, বাংলাদেশে এরকম জিন্সের প্যান্ট পাওয়া যায় না। কী আর করা, প্রবাসী বন্ধু তার বন্ধুর জন্য বিদেশ থেকে কিনে আনল 'দেশি বিদেশি প্যান্ট'। দেশি বিদেশি প্যান্ট বললাম এ কারণে যে, প্যান্টটি 'মেড ইন বাংলাদেশ'। বাংলাদেশ থেকে প্যান্টটি বিদেশি বায়ার কিনে নিয়ে মার্কেটে বিক্রি করেছে। সে প্যান্ট আবার একজন বাংলাদেশি কিনে দেশে এনে যখন তার বন্ধুকে দিল বন্ধু তো মহাখুশি। প্যান্টটা পরে পরিচিত সবাইকে বলে বেড়াতে শুরু করল তার বন্ধুর দেয়া বিদেশি প্যান্ট বলে। তার এই কথা যারা শুনেছে তারাও না বুঝেই হিংসায় মনের ভেতরে জ্বলেপুড়ে একাকার হয়েছে।

ঢাকা।

কথা বলতেও টাকা লাগে



রফিকুল ইসলাম সাগর
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। হাসপাতালে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারও সঙ্গে কথা বলতেও টাকা লাগে- এমন অভিযোগ মহাখালী থেকে আসা সোহেলের। তিনি জানালেন, তিন দিন ধরে তার মা এ হাসপাতালে ভর্তি। মাকে নিয়ে তাকে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওয়ার্ডবয়, আয়া, নার্স ও দারোয়ানসহ কর্তব্যরত প্রায় সবাই নাকি টাকা ছাড়া কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন না। তিনি বললেন, প্রয়োজনে কাউকে যদি কোনো প্রশ্ন করি, এমন এক ভাব ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন, যেন তিনি কথা বলতেই জানেন না, অথবা তিনি কথাটা শোনেননি। দশবার প্রশ্ন করলে একবার উত্তর পাওয়া যায়। আর যদি পকেট থেকে দশ-বিশ টাকা হাতে তুলে দেয়া হয়, তাহলে উত্তর পাওয়া যায় সঙ্গে সঙ্গেই।  
তিনি আরও জানালেন, প্রতিদিন প্রতিবার হাসপাতালের ভেতরে মহিলা ওয়ার্ডে, যেখানে তার মা ভর্তি- সেখানে ঢুকতে গেটে একবার দারোয়ানকে টাকা দিতে হয়। আরেকবার ওয়ার্ডে ঢুকতে দারোয়ানকে টাকা দিতে হয়। নয়তো ঢুকতে দেয়া হয় না। তিনি জানান, তিন দিনে তার প্রায় দুই হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে শুধু ঘুষ দিয়ে। মহিলা ওয়ার্ডের পরিবেশ ভালো না বলে মাকে কেবিনে ভর্তি করাতে চান সোহেল। বলা হচ্ছে, কেবিন খালি নেই। তিনি অভিযোগ করলেন, আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি, তিনটি কেবিন খালি আছে।
১৮ জানুয়ারি দেখা গেল, গেটের ভেতরে ঢুকতে অনেকেই দারোয়ানের বাধা পেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গেটের সামনের চিত্রটা মোটামুটি রকমের ভিড়ই বলা চলে। এরই মধ্যে একজনকে দেখে দারোয়ান সবার উদ্দেশে বলল-
: এই সরেন, সরেন। স্যার আইছে।
ভাবলাম লোকটি হয়তো হাসপাতালের বড় কোনো কর্মকর্তা। কিন্তু না, মূল কাহিনী ভিন্ন। অনুসন্ধানে জানা গেল, লোকটির এক আত্মীয় এ হাসপাতালে ভর্তি। বেশ কয়েকদিন ধরে এখানে তার আসা-যাওয়া। তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় দারোয়ানকে বড় অংকের বকশিশ দিয়ে যান। তাই তার প্রতি দারোয়ানদের এত ভক্তি!
কেবিন খালি থাকার পরও দেয়া হয় হচ্ছে না কেন- এ প্রশ্নের উত্তরে একজন নার্স জানালেন-
: যদি উপরের লেভেলের কাউকে দিয়ে ফোন করানো যায়, তাহলেই মিলবে কেবিন।

 ঢাকা 


প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ঢাকা থেকে মানুষের চাপ কমাতে হবে




রফিকুল ইসলাম সাগর
দিনে দিনে ঢাকায় মানুষের চাপ বাড়ছে। বলা যায়, ঢাকা মানুষ বাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মানুষের ভিড়ে রাস্তায় হাঁটাচলা করা যায় না। বাসে মানুষের চাপাচাপিতে ঠিকমতো দাঁড়ানো যায় না। তার পরও আমাদের ঢাকায় থাকতে হবে, ঢাকায় আসতে হবে। ঢাকায় যে টাকা ওড়ে! বর্তমানে ঢাকায় যে হারে মানুষ, সে অনুযায়ী বাড়ি কম। আর এ কারণেই বাড়িওয়ালারা দিন দিন বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। থাকলে থাকেন, না থাকলে নেই, ভাড়াটিয়ার অভাব নেই। বাড়িওয়ালারাই বা করবে কী- দিন দিন দ্রব্যমূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ভাড়া না বাড়িয়ে উপায় নেই। আগে যেই বাড়িটি নির্মাণ করা যেত ১০ লাখ টাকায়, এখন সেই বাড়িটি নির্মাণ করতে লাগে ৭০ লাখ। ঢাকায় যেখানে জায়গার দাম ছিল ১০ লাখ, এখন সেই জায়গার দাম এক কোটি টাকা। ভাড়াটিয়ারা যখন বাড়িতে থাকে তখন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ বিল তাকেই বহন করতে হয়। দিনে দিনে এসব বিলও বেড়েছে। তাই ভাড়া আরো বেড়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ময়লা ফেলানো ও দারোয়ান বিল তো আছেই। এখন ঢাকায় থাকাটা একধরনের প্রতিযোগিতা; তাই যে বেশি বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকতে পারবে, সেই ঢাকায় থাকার যোগ্য। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে বাড়ির মালিকরা।
বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে লাগাম দেওয়ার একমাত্র উপায় ঢাকা থেকে মানুষের চাপ কমানো। গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রগুলো ঢাকার বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। ঢাকায় যদি মানুষ কম হয়, বাড়ি নিয়ে যদি মানুষের প্রতিযোগিতা না থাকে, তাহলে অবশ্যই বাড়িভাড়া কমবে। তবে এ কাজটি সম্ভব না অসম্ভব, আমার জানা নেই। এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যে লাগাম দেওয়াটা জরুরি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্য অসহনীয় পর্যায়ে। মানুষের আয় বেশি হলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু আয় তো কম। যে কৃষক উৎপাদন করছে তাকে দেওয়া হচ্ছে নামমাত্র মূল্য; কিন্তু আমরা কিনছি আকাশছোঁয়া দামে।

মঙ্গলবার ২৪ জুলাই ২০১২ প্রকাশিত

সুষ্ঠু সড়ক ব্যবস্থাপনা : নিরাপদ ভ্রমন


২৫ এপ্রিল ২০১২, দৈনিক সকালের খবরে প্রকাশিত 

Friday, May 29, 2015

ঢাকা মেডিক্যালে এক রাত

  • রফিকুল ইসলাম সাগর 
ছবি : সংগৃহীত 
আমার ছোট খালু তখন ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি। রাতে তাঁর সঙ্গে আমার থাকতে হবে। তাই রাত ১২টায় ঢাকা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সিতে যাই এবং ভেতরে প্রবেশ করার পর দেখি প্রতিটি ওয়ার্ড ও বেডে যত রোগী তার চেয়ে বেশি রোগী ফ্লোরে শুয়ে আছে। তিন তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে যাই। দেখি খালু সিট পাননি। বারান্দার ফ্লোরে শুয়ে আছেন। আমাকে সকাল পর্যন্ত থাকতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর রোগী আসছে ভর্তির হতে। নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তাদের। এ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়রা তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে টাকা আদায় করে। রাত ২টায় এক রোগী মারা যান, কিন্তু তার পরিবারের লোকজনকে লাশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। ওয়ার্ডবয় খালেক বলেন, এটা পুলিশ কেস। সকাল ৮টায় পুলিশ আসার পর লাশ নিতে হবে। ওয়ার্ডবয়কে এক ঘণ্টা পর ডেড সার্টিফিকেট করে দেওয়ার জন্য কিছু গ্রহণ করতে দেখলাম। রাত সাড়ে ৩টায় চিৎকার শুনে নিচে গিয়ে দেখি, চার আনসার সদস্য দুই ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনসেট চুরির অপরাধে পেটাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর দেখি ওই মোবাইল চোরদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জানতে পারলাম, তারা আনসারদের ম্যানেজ করে নিয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর এসব অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বললেন, 'ভাই, কী বলবেন, সব সরকারি হাসপাতালের একই অবস্থা।' প্রশ্ন হলো, এ অবস্থার পরিবর্তন কি কখনো হবে না?


তেল উত্তোলনে বিদেশী হস্তক্ষেপ নয়

  • রফিকুল ইসলাম সাগর
পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, পেট্রোবাংলার অধীন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি (বাপেক্স) পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপে সিলেটের হরিপুর ও কৈলাসটিলা গ্যাসক্ষেত্র দুটিতে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। তথ্য মতে, ক্ষেত্র দুটি থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল উত্তোলন করা যাবে, যা দিয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী আড়াই বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এই সংবাদ আমাদের দেশের জন্য খুবই আনন্দের। জ্বালানি তেলের জন্য সরকারকে যে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় তা থেকে আপাতত মুক্তি পাওয়া যাবে। পত্রিকার খবরে আরও জানতে পেরেছি, ভূগর্ভস্থ মাটির স্তর বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, অচিরেই এ ধরনের আরও তেলক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা যদি সত্য হয় তাহলে আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমাদের আর তেল আমদানি করতে হবে না। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের এই কৃতিত্বে দেশবাসী গর্বিত। 
আমরা জানতে পেরেছি, ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে পুরো তেল ক্ষেত্রের আকার-আয়তন, তেলের মোট পরিমাণ ও উত্তোলনযোগ্য মজুদের পরিমাণ ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়েছে, তা আগে কখনো করা হয়নি। তাই বিজ্ঞানীরা একে নতুন আবিষ্কার হিসেবেই গণ্য করছেন। বাপেক্স ইতিমধ্যে কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রও আবিষ্কার করেছে। এটি বাংলাদেশের অনেক বড় সাফল্য। দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, সিলেট থেকে তেল উত্তোলন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে হোক। এখানে কোন রকমের বিদেশী হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি যাতে কাজ না করে সেদিকে সবার নজর দিতে হবে। ধারাবাহিকতা রক্ষা করে তেল উত্তোলন করতে পারলে আশা করা যায়, দেশের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল কিনতে পারবে। এর ফলে শুধু পরিবহন ব্যয় নয়, মানুষের অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে। এর ফলে স্বস্তির সুবাতাস বইবে নাগরিকদের মনে। কাজেই তেল উত্তোলনের কাজটি অবশ্যই সঠিকভাবে করতে হবে। এমন যেন না হয় তেল আমরা পেলাম ঠিকই কিন্তু তার সুফল ভোগ করল বিদেশীরা। 

পোস্টারের ছড়াছড়ি


  • রফিকুল ইসলাম সাগর

গোটা দেশেই দেয়ালে, গাছে কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে নানা রকমের পোস্টার, ব্যানার ইত্যাদির সমাহার। বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার, রাজনৈতিক প্রচারণা যেমন- মুক্তি চাই, নির্বাচিত করায় ধন্যবাদ, অভিনন্দন, শুভেচ্ছা, দোয়া চাই- এরকম নানা ধরনের বক্তব্য ও ভাষায় সাজানো থাকে পোস্টারগুলো। অধিকাংশ পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডের সঙ্গে অমুক ভাই, তমুক ভাই-এর ছবিও সংযুক্ত থাকে। সদ্য কারামুক্ত কোনো দবির ভাই অথবা খবির ভাইয়ের গলায় ফুলের মালা শোভিত ছবিও চোখে পড়ে। দেখে মনে হয়, কে কত বেশি নিজের ঢোল নিজে বাজাতে পারে- দেশে যেন তার একটা প্রতিযোগিতা চলছে। এসব অপ্রয়োজনীয় ও অরুচিকর পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ড যত্রতত্র সাঁটানোর ফলে একদিকে প্রতিটি এলাকা ও স্থাপনার সৌন্দর্যহানি যেমন ঘটছে, তেমনি কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে। এ টাকা যদি অভাবগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে ব্যয় হতো তাহলে তারা উপকৃত হতো। আগে কেবল নির্বাচনের সময় পোস্টার চোখে পড়ত, অথচ এখন কোনো সময় নেই। বারোমাসি ফলের মতো সারা বছরই পোস্টারের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যায়। আইন করে এ অপকর্ম বন্ধ করা উচিত।

Thursday, May 28, 2015

নিজেকে প্রশ্ন করুন

  • রফিকুল ইসলাম সাগর
যেই দেশের মানুষ যেমন সেই দেশের সরকার, প্রশাসন সেই রকম এমনটাই জানি। যুগ যুগ ধরে আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা আমাদের ঠকিয়েই যাচ্ছেন। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে ব্যর্থ। আমরা যদি ঠিক থাকতাম তাহলে দেশও ঠিক থাকত। আমরা প্রতিবাদ করতে জানি না। জানলেও জায়গামতো প্রতিবাদ করি না। নিজেরা নিজেরা চায়ের কাপে ঝগড়ার ঝড় তুলি। তর্ক-বিতর্ক যা-ই করি সব চার দেয়ালের ভেতরে। নিজের দাবি আদায়ে পথে নামতে ভয় পাই। শুধু নিজে বিপদে পড়লেই আমাদের টনক নড়ে, অন্যের বিপদে আমাদের কিছু যায়-আসে না।
আমাদের মধ্যে সচেতনতা নেই, নেই ঐক্যবদ্ধতা। আমরা অনেক কিছুই জানি না, জানার আগ্রহও নেই। জেনেও অপরাধীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করি, আবার তার কাছেই ভালো কিছু আশা করি। অধিকার আদায় করতে জানি না, তাই আমরা বঞ্চিত। সরকারি কাজে ঘুষ দেয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তারপরও ঘুষ দিতে বাধ্য হই। সবকিছুতেই আমাদের নীরব ভূমিকা। অনিয়মই সর্বত্র নিয়ম। আমরা দেখতে থাকব, সব এভাবেই চলতে থাকবে। শেষ হবে না কিছুই। সরকার, সরকারি অফিস চলবে আমাদের টাকায়। রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নামক রোলারের নিচে পিষ্ট হব। আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা হয়ে যায় মিথ্যা। সত্যকে মিথ্যা বলে মেনে নিতে হয়। সব যেন সিনেমা। ইতিহাস সাক্ষী, দেশের মানুষ সব ক্ষমতার উৎস। দেশের মানুষ যদি নিঃস্বার্থভাবে দেশপ্রেম থেকে অধিকার আদায়ে এক হয়ে পথে নামে তাহলে বিজয় আমাদেরই হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না। নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি কী চান!
অনেক আগে একজন নেতার একটি গল্প শুনেছিলাম অন্য একজনের কাছ থেকে। হুবহু গল্পটি এবং সেই নেতা কে ছিলেন ঠিক মনে নেই। গল্পটি আমি আমার মতো করে উপস্থাপন করলাম নেতার নেতৃত্বে সন্তুষ্ট হয়ে এবং তার প্রতি চরম ভালোবাসা থেকে দেশের একজন সাধারণ কৃষক নিজ ক্ষেতের মিষ্টিকুমড়া নিয়ে নেতার বাড়ির সামনে গেলেন তাকে উপহার দেয়ার জন্য। প্রতিদিনকার মতো নেতার বাড়ির চাকর বাজার করতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিল্ডিংয়ের নিচে নামল। দেখতে পেল একজন লোক মিষ্টিকুমড়া হাতে দাঁড়িয়ে আছে। চাকর মনে করল, লোকটি মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করতে এসেছে। দ্রুত লোকটিকে সাইডে নিয়ে গেল, যেন ওপর থেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে নেতা নিচের দিকে উঁকি দিলে কিছু দেখতে না পান। মিষ্টিকুমড়ার বাজার দর ২০ টাকা হবে। চাকর লোকটির হাতে ১০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে মিষ্টিকুমড়া তার হাতে তুলে নিয়ে বলল, যা যা জলদি যা, কোনো কথা কবি না, চুপচাপ চলে যা বলে তাড়িয়ে দেয়। নেতার চাকর বলে কথা, তাই ভয়ে লোকটি কিছু না বলে চলে গেল। উপরে গিয়ে চাকর নেতাকে হিসাব দিলেন, মিষ্টিকুমড়া ২০ টাকায় কেনা। এভাবে ১০ টাকা গেল চাকরের পকেটে। কিছুদিন পর সেই কৃষকের সঙ্গে নেতার দেখা হয়। নেতা ওই দিনের ঘটনা জানতে পারেন। কৃষকের কাছে তার চাকরের আচরণের জন্য ক্ষমা চান! নিজ বাড়ির চাকরের এমন আচরণে হতাশ হয়ে নেতা একান্তে বলেছিলেন, যে দেশে মিষ্টিকুমড়ার দাম নিচতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে আসতে আসতে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা হয়ে যায়, সেই দেশের মানুষের কী হবে? দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন নেতার খুব অভাব বোধ করছি।

আমাদের চলচ্চিত্র

  • রফিকুল ইসলাম সাগর
আমাদের মিডিয়াগুলো ভারতীয় নাটক-সিনেমার আকর্ষণীয় খবর প্রকাশ করে মানুষের দেখার আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। ভারতীয় সেলিব্রেটিদের নিয়ে না ভেবে আমাদের সেলিব্রেটিদের নিয়ে ভাবা উচিত বলে মনে করি। ভারতীয় চ্যানেলগুলো যেভাবে আমাদের আসক্ত করেছে, সেগুলো ছাড়া এখন আর চলেও না। এখন যদি আমাদের দেশে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করা হয়, তাহলে ডিশের গ্রাহক সংখ্যা কমে যাবে নিশ্চিত। এমন হলে ডিশ ব্যবসায়ীদের করুণ অবস্থা দেখা দেবে। ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করা মানে এ সমস্যার সমাধান নয়। সম্প্রচার বন্ধ করে দর্শকদের ভারতীয় অনুষ্ঠান দেখা থেকে বিরত রাখা যাবে বলে মনে হয় না। চ্যানেল যদি বন্ধ করা হয় তাহলে এখন ইন্টারনেটের যুগে দর্শকরা বিকল্প পথ ঠিকই বের করে নেবেন, ক্ষতির মুখে পড়বেন ডিশ ব্যবসায়ীরা।
আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো বেশি সময় সংবাদ, বিজ্ঞাপন ও টকশোর দখলে থাকে। এটিও দর্শক ধরে না রাখতে পারার একটি কারণ। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। দর্শকদের চাওয়া-পাওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের টিভি চ্যানেলগুলো দর্শকদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করলে রিমোট চেপে ভারতীয় চ্যানেলে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঘন ঘন সংবাদ, বিজ্ঞাপন বেশিরভাগ দর্শকের পছন্দ নয়।
আমাদের নাটকের মান অনেক ভালো। তবে সিনেমার মান নিয়ে দর্শকরা সন্তুষ্ট নন। বহু বছর আগের সেই সাদা-কালো সিনেমাগুলোর মান আর এখনকার সিনেমার মানে কত পার্থক্য। তখনকার অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের অভিনয়, সেই সিনেমাগুলোর গান, নাচ এখনও হৃদয়ে নাড়া দেয়। এখন ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে না তা বলব না। দেখার মতো ভালো সিনেমাও নির্মাণ হচ্ছে। তবে ভালো সিনেমার সংখ্যা কম হওয়ায় দর্শক ধরে রাখা যাচ্ছে না। স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা আর অর্থের দাপটে অল্প দক্ষ, অজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক দ্বারা সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে। অল্প কজন বাদে প্রতিভাবান দক্ষ অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালকরা সুযোগ পাচ্ছে না ভালো কিছু করে দেখানোর।
আমরা এমন একটা দেশের নাগরিক, যে দেশে প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। যার ক্ষমতা আছে, অর্থ আছে সে-ই নায়ক, গায়ক, পরিচালক সব। দেশে কিছু কিছু পরিশ্রমী, অভিজ্ঞ অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক, প্রযোজক আছে, যাদের স্যালুট করা যায়। তারা আসলেই সিনেমা নিয়ে ভাবেন, আমাদের সিনেমায় বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টায় আছেন, আমাদের চলচ্চিত্র সব শ্রেণীর মানুষের কাছে টিকিয়ে রেখেছেন এই অল্প কিছু মানুষ।
সরকারি অনুদানে যে সিনেমা নির্মাণ হয় তার সংখ্যা ও অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। বিনোদনের জন্য না হোক, সহযোগিতা এবং নির্মাতাদের উৎসাহ প্রদানের জন্য আমাদের হলে গিয়ে সিনেমা দেখা উচিত। আমাদের চলচ্চিত্র বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।



বাসে মহিলা আসন


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 

পাবলিক বাসে মহিলা আসন থাকে মাত্র ৫-৬টি। বড় বাসে ৯টি থাকে। কিন্তু শিশু, পঙ্গু ও মহিলা মিলিয়ে লেখা থাকে। সবসময় পুরুষের সঙ্গে ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে গেলে মহিলাদের শুনতে হয় মহিলা সিট খালি নেই। বেশির ভাগ সময় মহিলা সিট খালি না থাকলে তাদের বাসে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। তার পরেও সমাজে টিকে থাকার লড়াইয়ে জীবনের প্রয়োজনে মহিলাদের ভিড় ঠেলে বাসে উঠতে হয়। লক্ষ করেছি সেই সুযোগে অনেক অভদ্র তাদের শরীরে হাত দিয়ে বসেন। অসংখ্য পুরুষের মাঝে যখন একজন নারী দাঁডিয়ে থাকেন তখন মানবতার খাতিরে কেউ নিজ আসন ছেড়ে দিয়ে বলেন না, এখানে বসুন। অনেকে আবার বলেন, নারীরা পুরুষের সমান অধিকার চায়, এখন পুরুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাক। অনেক সময় দেখা যায় মহিলা আসনে পুরুষ বসে আছে, মহিলা দাঁড়িয়ে। সম্মানের ভয়ে অনেক নারী প্রতিবাদ করেন না। এই রকম কা- করার সময় বিবেক কী একবারও বাধা দেয় না? লজ্জা লাগে না? এখনকার সময়ে আমাদের মধ্যে মানবতা বলতে কিছু নেই। আমাদের ঘরেও কিন্তু মা বোন আছে। তারাও কিন্তু এরকম ভোগান্তি পোহাচ্ছে। নারীরা সমাজে সব ক্ষেত্রে অবহেলিত। আমরা পুরুষেরা তাদের আমাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছি না। প্রতিনিয়ত তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছি।


Monday, March 4, 2013

ভারতীয় সিনেমা বনাম বাংলাদেশী সিনেমা


  • রফিকুল ইসলাম সাগর


হিন্দি ছবির প্রতি আমাদের চরম আগ্রহ। যার ১০ ভাগের দুই ভাগ বাংলা ছবির প্রতি নেই। বাংলা ছবি আমরা পছন্দ করি না কেন? বেশিরভাগ দর্শক উত্তরে কারণ বলবেন, অশ্লীলতা অথবা কাহিনী নকল। তাহলে আমি জানতে চাই হিন্দি ছবিতে কি অশ্লীলতা নেই? হিন্দি ছবির কাহিনী কি নকল হয়না? বর্তমানে হিন্দি প্রতিটা ছবিই কিন্তু অশ্লীল। হিন্দি কোন ছবিতে পোশাকে অশ্লীলতা নেই? সব ছবিতে ছোট পোশাক পরছে মেয়েরা। এই দৃশ্য কিন্তু আমরা আনন্দের সাথে পুরো পরিবার নিয়ে দেখি। তখন কারো কোনো আপত্তি থাকে না। বাংলা সিনেমায় নাইকার পোশাক একটু ছোট হলেই সেটা অশ্লীল। বাংলা ছবি পরিবার নিয়ে দেখলে আমাদের লজ্জা লাগে। তরুণ অনেকের ধারণা বাংলা ছবি দেখলে মান ইজ্জত কমে যায়। অনেককেই দেখেছি হিন্দি বুঝেনা কিছুই তার পরেও হিন্দি ছবি দেখে গান শুনে।

হিন্দি অনেক ছবি ইংলিশ ছবির নকল। ইংলিশ ছবি অনেকেই দেখেন না বলে অনেকেই জানেন না। বাংলা ছবি যেগুলো হিন্দি ছবির নকল সেই ছবি দেখলেই বলি এটা অমুক হিন্দি ছবির নকল কারণ আমরা হিন্দি ছবি দেখি বেশি। নিয়মিত ইংলিশ ছবি দেখে হিন্দি ছবি দেখলে বলবেন ইন্ডিয়ানরা কাহিনী চুরির দিক থেকে আমাদের চেয়েও বড় চোর। আমাদের সিনেমায় সব চেয়ে বড় সমস্যা বাজেট। বাজেট বড় হলে সিনেমাও ভাল হবে। দর্শক হলে গিয়ে সিনেমা না দেখলে প্রযোজকরা বড় বাজেটের সিনেমা নির্মান করবেই বা কেন?

ইদানিং বাংলার নারীদের মন জয় করে নিয়েছে ভারতীয় নাটক গুলো। এর প্রথম কারণ হিসেবে আমার মনে হয় আমাদের চ্যানেল গুলোর অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন। দিনে দিনে নাটকের কাহিনীর চেয়ে বিজ্ঞাপনের সময় বড় হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নাটকের ফাকে সংবাদ তো আছেই। বিজ্ঞাপনে বিরক্ত হয়ে রিমোট হাতে নিয়ে চ্যানেল পরিবর্তন করেন প্রায় সব দর্শক। ভারতীয় বাংলা নাটকে বিজ্ঞাপন একটু কম যে কারণে অবসর সময়ে আমাদের দেশের নারীরা ভারতীয় নাটক দেখেন। এখন ভারতীয় বাংলা নাটক দেখা এক প্রকার নেশায় পরিনত হয়েছে তাদের। নাটক
দেখে এই নেশা ভারতীয় শাড়ির প্রতি, গয়নার প্রতি। মার্কেটে গেলেই দেখা যায় ভারতীয় শাড়ি, ভারতীয় গয়না।

ভারতীয় নাটকের কাহিনীর চেয়ে আমাদের নাটকের কাহিনী অনেক ভাল। তাদের কাহিনীতে বাস্তবতা নেই। তারা নাটকে দেখায় ঘুমাতে গেলেও দামী গয়না পড়ে ঘুমায়। খাওয়ার সময় দামী শাড়ি। নাটক নয় যেনো শাড়ি গয়নার বিজ্ঞাপন। তার পরেও আমাদের ভারতীয় নাটকের প্রতি আগ্রহ। আমার মনে হয় আমাদের নাটকের ভিতরেও এমন টাইপের বিজ্ঞাপন করা উচিত। তাহলে আমাদের দর্শক আমাদের সাথেই থাকবে।

Saturday, June 2, 2012

জীবন রাঙাতে হবে নতুন আলোয়

রফিকুল ইসলাম সাগর
বর্তমানে আমাদের দেশে যেভাবে মাদকের ছড়াছড়ি কয়েক বছর আগেও এতটা ছিল না। অল্প ক’জন গাঁজা-হেরোইন, ফেনসিডিল সেবন করত। তাদের সমাজের সবাই খারাপ চোখে দেখত। আগে যারা মাদক সেবন করত সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে সেবন করত। কিন্তু এখন সবাই প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে। মাদককে বর্তমান যুবসমাজ ফ্যাশন হিসেবে দেখছে। অভিভাবকদের এ বিষয়ে তেমন মাথাব্যথা যেন নেই। মাদক ব্যবসায়ী বেড়েছে বহুগুণে। বলা যায়, ঘরে ঘরে মাদক ব্যবসায়ী। যে কেউই রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার আশায় জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। আগে মহল্লার কিছু সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসা করত। কিন্তু এখন ভালো ভালো শিক্ষিত ছেলে এ ব্যবসা করছে। তারা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে মাদক ব্যবসায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুব সহজেই ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সহপাঠীকেও আসক্ত হতে বাধ্য করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। বর্তমানে নতুন মাদক ইয়াবার ব্যাপক ছড়াছড়ি। বিশেষ করে যারা হেরোইন ও ফেনসিডিল সেবন করত তারা ইয়াবা সেবনের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। এ ছাড়া তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েরা তো আছেই। অন্যান্য নেশার চেয়ে ইয়াবা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। ইয়াবা সেবনের ফলে মেয়েদের বাচ্চা প্রসবের সময় সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া মানসিক, শারীরিক সমস্যা তো আছেই-যে সমস্যা ছেলেমেয়ে উভয়ের দেখা দেয় তাত্ক্ষণিকভাবেই। সহজেই বহন করা যায় বলে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যাও অনেক বেশি। যারা অন্যান্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল তারা সবাই ইয়াবা ব্যবসায় নেমেছে।
১৯ মে পৌনে তিন লাখ ইয়াবা আটক হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইয়াবা গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত আবদুর রশিদ খুলুসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ চালানটি নাকি বাংলাদেশে আটককৃত এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান। এর আগেও আমাদের দেশে ছোট ছোট ইয়াবার চালান ধরা পড়েছে। তার সঙ্গে ধরা পড়েছে ছোট ছোট ব্যবসায়ী। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। অল্প ক’দিনে তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। যে কারণে বন্ধ করা যায় না মাদকের চালান, বাংলাদেশে প্রবেশ ও মাদক ব্যবসা। এসব মাদকের চালান বিদেশ থেকে আমাদের দেশে আনার মূল নায়ক যারা তারা আমাদের দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের ছত্রছায়ায় মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং সারা দেশে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। ছোট ছোট ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় প্রভাবশালীরা। তাদের আদেশেই ধরা পড়া ছোট ছোট মাদক ব্যবসায়ীর জামিন হয়। ধরা পড়লে মিডিয়াতে আসে। কিন্তু ক’দিন পর যখন আসামি ছাড়া পায় সেই খবর মিডিয়াতে আসে না। মাদক ব্যবসা বন্ধে সর্বপ্রথম সীমান্তপথে কঠিন নজরদারি বসাতে হবে। কেননা সীমান্ত দিয়েই মাদক প্রবেশের সূচনা। সমাজের প্রভাবশালী যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের কঠিন নজরদারি করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। যেসব মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাদের নামে জামিন অযোগ্য মামলা করতে হবে, যেন তারা জামিনে ছাড়া না পেতে পারে। সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ করতে হবে। সেই সমাজে নতুন প্রজন্ম তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।