Showing posts with label রম্য রচনা. Show all posts
Showing posts with label রম্য রচনা. Show all posts

Sunday, March 4, 2018

TOILET - Ek Prem Katha (টয়লেট - একটি প্রেমের কথা)



একটি ভারতীয় সিনেমার কথা-->
খোলা আকাশের নিচে, খোলামেলা জায়পায়, ঝোপে, জঈলে, ক্ষেতে, রেল-লাইনে
পেট সাফের কাজ করার তালিকায় বিশ্বের জরিপে ভারতের নাম ১নম্বর তালিকায় থাকার কারন কি সিনেমাটি দেখে ধারনা পেলাম।

কাহিনী সংক্ষেপঃ
সিনেমার শুরুতে নায়ক-নায়িকার বিয়ের পর নায়িকা নায়কের বাড়িতে এসে দেখে তাদের বাড়িতে কোন টয়লেট নাই। বাড়ির সব মানুষ খোলা জায়গায় পেট সাফ করতে যায়।নায়িকা, নায়ক মানে তার স্বামীর কাছে দাবী করে ঘরের ভেতর পায়খানা বানাতে হবে। 
নায়ক তার নিজ বাপের সাথে কথা বলতে যায়, ঘরের ভেতর টয়লেট বানাতে হবে জানায়। নায়কের ইচ্ছায় তার বাপের চরম আপওি। নায়কের বাপ নায়ক কে একটি ডায়লগে বলেন, পেট সাফ করতে হয় খোলা আকাশের নিচে। বেশি লেখা-পড়া করলে যা হয় আরকি। দুই দিনের শিক্ষিত মাইয়া শত বছরের সংসক্রিতি ভাইংগা আইছে ঘরের ভেতর টয়লেট বানাইতে...যা যা আমি মরলে শ্বশানে না নিয়া আমার চিতা ঘরেই জ্বালাইস, তারপর ঘরের ভেতর টয়লেট বানাইস বলে নায়ককে তাড়িয়ে দেন।
চেষ্টার পর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরেও বাপকে রাজি করাতে পারছে না। একের পর এক আইডিয়া। প্রতিদিন সকালে বাইকে চেপে রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে দাড়িয়ে থাকা ট্রেনের ভেতর পায়খানায় পেট সাফ করতে নায়ক তার বউকে নিয়ে যায়। বেশ কয়েকদিন চলতে থাকে এভাবে। প্রতিদিনের মতো পেট সাফাই করতে গিয়ে একদিন টয়লেট থেকে বেরিয়ে নায়িকা ট্রেনের দরজায় এসে দাড়ায়।
প্লাটফর্মে দাড়িয়ে নায়ক ইশারায় ডাকছে, নামো। নামো।
নায়িকা সেদিন রেগে দাড়িয়েই রইল।
ট্রেন আস্তে আস্তে চলতে শুরু করলে নায়ক তখন উওেজিত গলায় বলতে থাকে, নামো। তারাতারি নামো।
সেদিন নায়িকা আর নামে না। ট্রেনে চড়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। মোবাইল ফোনে নায়কের সাথে কথায় জানায়, ঘরের ভেতর টয়লেট না বানালে সে আর ফিরবে না।
এ খবর পএিকায় পর্যন্ত প্রকাশ করলে নায়ক পএিকা অফিসে সাংবাদিককে পেটাতে গিয়ে ফিরে আসার সময় দেখতে পায় বাজারে সিনেমার শূটিং চলছে। সেখানে তার নজর পরে ভ্রাম্মমান টয়লেটের দিকে। এক বন্ধুর সহযোগিতায় সেখান থেকে একটি টয়লেট চুরি করে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাপ বাইরে গেলে ঘরে ঢুকাবে ঠিক করে আপাতত ঢেকে লুকিয়ে রাখে।
শ্বশুুর বাড়িতে লুকিয়ে রাতে বউয়ের সাথে দেখা করতে গিয়ে ফিরে আসতে অনুরোধ করে। বউকে বলে, গিয়ে যা দেখবা খুশি হবা।
পরের দিন ভ্রম্মমান টয়লেট চুরির দায়ে নায়ককে পুলিশ ধরে নিয়ে লকাপে আটকায়। নায়িকা অভিযোগকারীর সাথে সমঝোতা করে মামলা তুলে নায়ককে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
এরআগে পএিকা অফিসে সাংবাদিককে পেটাতে গিয়ে জানতে চায় চায়, ওই বেটা সাংবাদিক এমন খবর প্রকাশ করে আমার সাথে মজা করলি কেন বল?
সাবাদিক সাফাই দেয়, যা করেছি আপনার লাভ বলেই করেছি।
লাভ। এতে আবার লাভ কিসের?
এবার আপনার বউয়ের বাড়ির মানুষ লজ্জায় আপনার বউকে ফিরে যেতে চাপ দিবে।
কিন্ত এমন হলোনা। নায়িকার বাড়ির লোকেরাও একই দাবিতে নায়িকার সিদ্ধান্তে অটল।
থানা থেকে নায়ককে ছাড়িয়ে নায়িকা এবার আরো বেশি রাগ নিয়ে বাপের বাড়ি যায়। দূরত্ব আরো বাড়ে। বিচ্ছেদের যন্তনায় গান গায়।
এক পর্যায়ে টয়লেটের সিদ্ধান্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নায়ক সরকারের নামে মামলা দায়ের করেন। হয়তো শ্বশুর বাড়িতে বউদের ঘরে টয়লেট দিতে হবে, নয়তো আমার বউকে তালাক।


-রফিকুল ইসলাম সাগর
ঢাকা

Saturday, June 27, 2015

বউয়ের পিটুনি

  • রফিকুল ইসলাম সাগর 
বড় আপার বাসায় যাবো। সেই উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। প্রচন্ড রোদ পড়েছে। দাড়িয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু কোনো রিকশাওয়ালা যেতে রাজি হচ্ছে না। কোনো কোনো রিকশাওয়ালা আবার ভাড়া বেশি চাচ্ছে। উপায় না পেয়ে এবার হাটা শুরু করলাম। অনেক কষ্টে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গেলাম। বাসে ওঠার পর এক ভদ্রলোকের সাথে সামান্য ধাক্কা লাগল। ওমনি আমাকে বলল, ওই মিয়া ধাক্কা দেন কেন? আমি বললাম ভাই sorry, ভিড়ের মধ্যে বুঝতে পারিনি। রেগে গিয়ে সে বলল sorry বললেই সব শেষ হয় নাকি। আমি আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে রইলাম। সেই লোকটি একা একা বকবক করছেই। মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম আল্লাহ তার সাথে যেন আমার জীবনে আর কোনো দিন দেখা না হয়। তার বকবক থামছে না। পাশে দাড়িয়ে শুনতে হচ্ছে, মেজাজটা প্রচন্ড রকম খারাপ হচ্ছিল। বললাম, এই আপনি এবার চুপ করবেন? আর তক্ষনি আমার পাশের ভদ্রলোক তাকে বলে উঠলেন, ভাই আপনার সমস্যা কোথায়? সকাল সকাল কি বউয়ের পিটুনি খেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছেন? তা না হলে এমন করছেন কেন? এ কথা শোনার সাথে সাথে আমি আমার মুখের হাসি বন্ধ করে রাখতে পারলাম না। সাথে সাথে লোকটি লজ্জায় বাস থেকে নেমে পড়লেন। 
​

২০১০ সালে দৈনিক নয়া দিগন্তের ফান ম্যাগাজিন থেরাপিতে প্রকাশিত।

Tuesday, June 23, 2015

জার্নি বাই লোকাল ট্রেন

রফিকুল ইসলাম সাগর 
একরাতে বহু ঠেলা ঠেলি করে দশ বিশেক মানুষের চাপা খেয়ে অবশেষে ট্রেনে উঠতে সক্ষম হই। আরেকটু চাপা খাইলে মইরাই যাইতাম। মাগনা মাগনা কত চাপা খাইলাম। ট্রেনের ভিতরে প্রবেশ করতেই একজন পায়ে পারা দিয়ে দাড়িয়ে রইল। বললাম ভাই পা-টা সরান। লোকটি বলল আমার পা আমি জেনে মন চায় হেনে রাখমু আপনার কী? আমি বললাম আপনি আমার পায়ের উপর দাড়িয়ে আছেন। পা সরিয়ে সে বলল--হু ! তো কী হইছে? লোকাল ট্রেনে উঠলে পায়ে পারা লাগবই, এত ইয়ে থাকলে লোকাল ট্রেনে উঠছেন কে? আমি আর কিছু বললাম না। সেখান থেকে অন্যত্র সরে দাড়ালাম। এই অবস্থা দেখে মনির আমার উপর বিশাল ক্ষ্যাপা। বারবার তার রক্ত চক্ষু আমার দেখতে হচ্ছে কারণ এই লোকাল ট্রেনে চড়ার আইডিয়াটা আমার।
আমিও ঠিক বুঝতে পারিনি পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হবে। ট্রেন ভর্তি মানুষ আর মানুষ। একজনের মুখের সামনে আরেকজন। বারবার পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখি মোবাইল মানিব্যাগ ঠিক আছে তো। এরই মধ্যে একজন বুড়া বিড়ি জালিয়ে ধুয়া আমার মুখে ফুকতে থাকল। সেখান থেকেও সরে এলাম। ট্রেন চলছে.....

টঙ্গী ও পুবাইল স্টেশন অতিক্রম করে আড়িখোলা স্টেশনে ট্রেন থামল। ট্রেনের ভিতরে লাইট নেই, অনেক অন্ধকার তার সাথে মশার কামর তো আছেই। মানুষের চরম হইচই। স্টেশনেও অন্ধকার, কারেন্ট নেই। আরো কিছু মানুষ ট্রেনে উঠল। এবার কেউ কেউ বড় বড় টুকরি নিয়ে উঠল। টুকরি ভর্তি শাক-সবজি। কিছু বুড়ি ট্রেনের ফ্লোরে আরাম করে বসে পান চিবুচ্ছে যেন তার নিজের ঘর। একজন এসে বলল ভাই টিকেট আছে। আমি বললাম আছে।
-কই দেখান। পকেট থেকে টিকেট বের করে দেখালাম। আমার পাশের একজন বলল আমার টিকেট নাই। এই লন আমরা তিনজন পনের ট্যাহা। চেকার বলল কই যাইবেন। নরসিংদী।
-তিনজন পনের ট্যাহা হইব না। 
-আর ট্যাহা নাই বাজান। আমরা গরিব মানুষ। 
আপনারা টেকা থাকলেও কইবেন নাই বলে আরেজনের কাছে গেল চেকার। এভাবে যাদের টিকেট নেই যে যত টাকা দিচ্ছে কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্ক করে টাকা পকেটে ভরছে চেকার। আমি মনে মনে ভাবছিলাম টিকেট না কিনলেই তো ভালো হত, হুদাই টিকেট কিনলাম। আরেজনের সাথে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। লোকটির পাতিল ভর্তি মাছ। চেকার বলল তোমার ভাড়া দিলা মাছের ভাড়া কই? মাছ কী মাগনা যাইব?
আবার স্টেশনে থামল। আমরা নিচে নেমে দাড়ালাম। এক ঘন্টার আগে ছাড়বে না এটা নিশ্চিত। কারণ এতক্ষণ যাবত দেখছি স্টেশনে থামলেই একঘন্টা। ধরে নিলাম আমরা ভৈরব পৌছতে সকাল পেরিয়ে দুপুর হবে। একটি চায়ের দোকানে চা-পান করলাম। অনেকক্ষণ হলো ট্রেন ছাড়ছে না। বিপরীত দিক থেকে নাকি একটি আন্ত-নগর ট্রেন এই স্টেশন অতিক্রম করবে তারপর ছাড়বে। আমরা খুজতে থাকি কোন বগিতে মানুষ কম সেই বগিতে উঠব। কিন্তু সব বগিতে প্রায় একই অবস্থা। ট্রেন চালকের ইঞ্জিন বগির ভিতরেও অসংখ্য যাত্রী। এত যাত্রী দেখে ঠিক বুঝতে পারলাম না চালক কে। এরই মধ্যে একটি অন্ত-নগর ট্রেন স্টেশন অতিক্রম করল। এখন ট্রেন ছাড়বে। একটি বগিতে উঠলাম। এবার ঠিক দরজার সামনে দাড়ালাম। ভিতরে দিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ কেউ ফ্লোরে শুয়ে কত আরাম করে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। 
দরজার যে পাশটায় হেলান দিয়ে আমি দাড়ালাম সেই পাশটায় টয়লেটের দরজা। একটু পর পর একজন আসে আর টয়লেটের ভিতরে যায়। দরজার ভিতরের লক ভাঙ্গা। ভিতর থেকে দরজা ধরে বসতে হয়। যারা প্রকীতির ডাকে সারা দিতে আসে আমাকে প্রশ্ন করে ভাই টয়লেটের ভিতরে কেউ আছে? আমি যেন টয়লেটের ইজারাদার। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে গেলাম। টয়লেটের ভিতর একজন ঢুকল আরেকজন এসে আমাকে প্রশ্ন করল- ভাই টয়লেটে কেউ গেসে? 
রাগে আমি বললাম--'না, দরজা জোরে ধাক্কা দেন'। 
আমার কথা মত লোকটি জোরে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ফেলল। টয়লেটের ভিতরে থাকা লোকটি দাড়িয়ে গিয়ে বলল-- 'দুর মিয়া আপনেগো ল্যাগা ঠিক মত কামটাও করণ যায়না' বলে দরজা লাগিয়ে দিল। আমি সহ অনেকে এই দৃশ্য দেখে হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। আমি লোকটিকে বললাম ভাই কিছু মনে কইরেন না টয়লেটের ভিতরে কেউ ছিল খেয়াল করিনি। 


টুনস ম্যাগে প্রকাশিত : http://bd.toonsmag.com/2015/06/230726.html

Monday, June 22, 2015

দুই নায়ক এক নায়িকা


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 

প্রেমিক : গত রাতে তোমার মোবাইল বিজি ছিল কেন? তুমি জানো না তোমার সাথে কথা না বললে আমি ঘুমাতে পারি না।
প্রেমিকা : কই না তো! আমি তো তোমার ফোনের অপেক্ষায় সারারাত জেগেছিলাম। মনে হয় নেটওয়ার্ক প্রবলেম ছিল।
প্রেমিক : মিথ্যা কথা বলবে না। মফিজ আর তোমার দুজনের মোবাইল একসাথে বিজি পেয়েছি। আমি জানি তুমি মফিজের সাথে কথা বলছিলে। 
প্রেমিকা : জানু, বিশ্বাস করো। আমি মফিজ ভাইয়ের সাথে আগে কথা বলতাম, এখন শুধু তোমার সাথে কথা বলি। মফিজ ভাই আমার এ নাম্বার জানেই না। 
(একথা বলার পরপরই প্রেমিকার মোবাইলে ফোন এলো।)

প্রেমিক : দেখি, দেখি কার নাম্বার। মফিজ না তোমার এ নাম্বার জানে না। এখন তো মফিজই ফোন করেছিল। যাও তোমার সাথে আজ থেকে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি চললাম।
প্রেমিকা : (প্রেমিক চলে যাওয়ার পর) ভালোই হলো। এখন আমি মফিজ ভাইয়ের সাথে চুটিয়ে প্রেম করতে পারবো। 
 
​সাপ্তাহিক এখনে প্রকাশিত 

মশারা সবচেয়ে ক্ষমতাশালী

  • রফিকুল ইসলাম সাগর 

এক.
ভারতীয় টিভি চ্যানেল গুলোতে মশা মারার কয়েলের নতুন একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে দেখানো হয়- পুলিশের ডিয়াইজির ছেলে বাবাকে প্রশ্ন করে, বাবা তুমি তো অনেক বড় পুলিশ অফিসার। তোমাকে সবাই খুব ভয় পায় তাইনা? ছেলের এমন প্রশ্নে ডিয়াইজি বাবার ভাব বেড়ে যায়। সীনা ফুলিয়ে ছেলেকে উত্তর দেন, হ্যা! হ্যা! তোর বাবাকে বড় বড় সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাতরা খুব ভয় পায়। আরো বলেন, তোর বাবার যে এলাকায় পোস্টিং হয় বড় বড় সন্ত্রাসীরা তোর বাবার ভয়ে সেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বাবার এসব কথা শুনে ছেলে বলে উঠে, সবাই তোমাকে এতো ভয় পায়। কিন্তু সামান্য ক্ষুদ্র মশারা তোমাকে ভয় পায়না! ছেলের এমন জবাবে ডিয়াইজি বাবা লজ্জা পেয়ে যান। আর তখন মা মশা মারার কয়েল জ্বালাতেই মশারা পালিয়ে যায়।

দুই.
মশারা অতি ক্ষুদ্র হলেও তাদের ক্ষমতা সবার উর্ধে। মশার কামড়ের ভয়ে আমরা এতো বড় বড় মানুষরা লুকিয়ে থাকি মশারির ভেতরে। এই মশারির ভেতরে যদি কোনভাবে একটি দু'টি মশা ঢুকে যায় তাহলেই হলো। শিল্পীদের গান শুনি আমরা টাকা খরচ করে। অথচ মশারা আমাদের মাগনা মাগনা গান শুনালেও সেই গান আমাদের পছন্দ না। এখন এমন এক জামানা এসেছে যে কম দামী কয়েলে মশা মরেনা। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকের মনে প্রশ্নের ঝড় উঠে যায়, মশা যে ক্যান সৃষ্টি হইল! মশা না সৃষ্টি হইলেই ভালো হইতো। তবে আমার প্রশ্ন, মশা না সৃষ্টি হইলে কি আসলেই ভালো হইতো? মশা না থাকলে কয়েল ও এরোসল কোম্পানির মালিকরা কি করত? টিভি চ্যানেল গুলোতে মশার কয়েল ও এরোসলের হাস্যকর বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া বিনোদন থেকে আমরা বঞ্চিত হতাম। মশা আছে বলে নেতারাও নির্বাচনে পাশ করে। বলা যায় নির্বাচনের আগে মশা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। নির্বাচনের আগে নেতারা জনগনদের প্রতিশ্রুতি দেন, এলাকার সব মশা দমন করা হবে। আর সেই প্রতিশ্রুতিতে খুশি হয়ে জনগণও খুশি মনে ভোট দিতে যান। একবারও এটা চিন্তা করেন না যে, নেতা নিজের ঘরের মশাই তাড়াতে পারেননা, এলাকার মশা তাড়াবেন কিভাবে।

তিন.
পাড়ার এক চাচার বাসায় গেলাম তাকে খুজতে। সাথে আমার এক বন্ধু। দরজার বাইরে দাড়িয়ে আওয়াজ দিলাম, কাকা...। কোনো সাড়া না পেয়ে পাশ থেকে বন্ধু বলল, কাকায় মনে হয় বাসায় নাই। কাকা ঘরে থাকলে হুশশ হুশশ.... করার শব্দ শুনতে পাওয়া যেত। আমারও তাই মনে হলো কাকা বাসায় নেই। কাকা ঘরে থাকলে খেয়াল করেছি একটু পর পর ঠাস ঠুস থাপ্পড় দেন মশা তাড়াতে। সাথে মশা তাড়াতে হুশশ হুশশ করেন। তাকে যেন মশারা একটু বেশি-ই কামড়ায়। তার ঘরে তিন-চারটা কয়েল একসাথে জালালেও একটু পর পর ঠাস ঠুস মশা মারেন। একটুপর চাচী দরজা খুললেন। বললেন চাচা দোকানে গেছে, এখনই এসে পরবে। ঘরে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতেই কয়েল হাতে কাকা ফিরল। কাকা কই গেছিলেন? প্রশ্ন করলাম। অনেক মশা বাবা! কয়েল আনতে গেছিলাম। মশার জ্বালায় বইতে পারতাছিলাম না। কথাগুলো চাচা উত্তর দিলেন। এবার দুটি কয়েল একসাথে জ্বালিয়ে চাচা বসলেন। বসে পায়ের পাতায় ব্যান্ডিজের মতো কাপড় প্যাচাতে শুরু করলেন। আমি কিছু না বলে তাকিয়ে রইলাম। তিনি আমার দিক তাকিয়ে বললেন, 'অনেক মশা বাবা। খালি কামড়ায়। এর লাইগা পাও ঢাইকা রাখতাছি।' চাচার এমন চিত্র নিয়ে যদি কোনো বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মান করা হয় তাহলে নিশ্চিত সেই বিজ্ঞাপন চিত্র হিট। 

চার.
অন্যদিকে এক সন্ধায় পাড়ায় ঘনিষ্ট এক বন্ধুর সাথে তার এক বড় ভাই আমাদের সাথে চায়ের দোকানে আড্ডায় যোগ দিল। এক মুহুর্তে খেয়াল করলাম তিন-চারটি মশা একসাথে ভাইটির হাতে বসে আরামসে রক্ত খাচ্ছে। কিন্তু তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি মশা মারতে তার হাতে দিলাম থাপ্পড়। মশা মরল। রক্তে হাত মাখামাখি অবস্থা। বললাম, ভাই মশা বসছিল। দেখেন কতগুলা রক্ত খাইছে। তিনি আমার দিকে ফিরে উত্তর দিলেন, 'দুররর ভাই মশা গুলা মারলেন ক্যান? খায়তাছিল খাইত। কত আর খাইত? আপনে খাবার খাননা? মশাগো কি দোষ ওগো খাবারই তো রক্ত। এতটুকু রক্ত খাইলে আপনার শরীরের রক্ত কমব? মশা মারলে গুনাহ হয়। মশা মারবেন না।' তার এরকম কথাবর্তা শুইনা মনে হইল আমি কত বড় ভুল করে ফেললাম। থাক ভাই ভুল হইয়া গেছে। আর মশা মারমু না বলে কোনরকমের রেহাই পাইলাম।


মাসিক 'কিশোর ভুবন' এর মধুমাস, জুন ২০১৬ সংখ্যায় প্রকাশিত

Thursday, June 18, 2015

সুমনের একাধিক নাম

রফিকুল ইসলাম সাগর 

এলাকায় একাধিক সুমন থাকায় প্রতিটি সুমনের নামের একটা টাইটেল আছে। আমার বন্ধু সুমন তার টাইটেল একটেল। অনেক আগে সুমন একটেল (বর্তমানে রবি) মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করত। তখন সুমনের নামের আগে 'একটেল সুমন' টাইটেল বসে পড়ল। একদিন চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। হটাত এক বাইদানি এসে বন্ধু সুমনকে সাপ দেখিয়ে বলল টাকা দে, তাহলে তুই সুন্দর একটা বউ পাবি। সুমন বলল, আমার বউ দরকার নেই। টাকা নেই অন্য কারো কাছে যাও। বাইদানি সুমনকে বলল, দেখ তোর রাহর দশা চলছে। সামনে তোর আরো বিপদ আছে। টাকা দে মঙ্গল হবে, না হলে বিপদ নিশ্চয়ই আসবে। সুমন বলল, রাহর দশা চললে চলুক, এখান থেকে যাও, টাকা নেই। সেদিন বিকেলে সুমনের দুই হাজার টাকা হারিয়ে গেল। সুমন বলল, দোস্ত ওই বাইদানির কথাই ঠিক। আমার মনে হয় সত্যি সত্যি রাহর দশা চলতেছে।

এই কথা ছড়িয়ে পড়ল গোটা মহল্লায়। সুমনের নতুন নাম হলো রাহর দশা। আমরা সবাই সুমনকে রাহর দশা বলে ডাকতাম। বন্ধু সুমন কয়েক দিন আগে বিয়ে করেছে। সুমন আমাদের বন্ধু মহলের আড্ডা থেকে প্রতিদিন আগে আগে বাসায় চলে যায়। সব কিছুতেই তার এখন পরিবর্তন ও ভদ্র ভদ্র ভাব। প্রশ্ন করলাম- কী রে তুই কি তোর বউকে ভয় পাস? সুমন বলল, বিয়া করো তার পড়ে বুঝবা। বিয়ের পরে সব বেটাই তার বউরে ভয় পায়।
সুমনের এ রকম উত্তরে আমরা সব বন্ধু হেসে দিলাম। সুমনের নতুন নাম রাখলাম ভীতু সুমন। বন্ধুরা এখন সুমনকে ভীতু সুমন বলেই ডাকি। 


২০১২ সালে দৈনিক নয়া দিগন্তের ফান ম্যাগাজিন থেরাপিতে প্রকাশিত।

আমার লুঙ্গি কই


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 


প্রায় পাচ বছর আগে দশ জন বন্ধু মিলে এক বন্ধুর গ্রামের বাড়ী ব্রাক্ষণবাড়িয়া গিয়েছিলাম। রাতে ঘুমানো নিয়ে সবাই খুব চিন্তিত। শীতের দিন। একটি মাত্র কম্বল দেখতে পেলাম। দশজন এক কম্বলে ঘুমাব কী করে। সবাই মিলে এর জন্য দায়ী মূল নায়ক যে তাকে গালাগাল শুরু করলাম। বন্ধু সব আগে থেকেই জানতো। আগে বললে আমরা কেউ আসতাম না তাই সে বলেনি। যাই হোক, এতগুলো বন্ধু একসাথে এই আনন্দের চেয়ে ঘুমানোর আনন্দটা বেশি না। সবাই মিলে কার্ড খেলে রাত পার করার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু কার্ড খেলে সারারাত পার করা সম্ভব হলো না, ঘুম চলে এলো। কোনো রকমে চাপাচাপি করে সবাই শুয়ে পড়লাম। ঘুমের মধ্যে একজন আরেকজনের শরীরের উপর পা তুলে দেয় আবার হাত তুলে দেয়। কেউ আবার জড়িয়ে ধরে। আমরা তিনজন বাদে বাকি সবাই গভীর ঘুমে। ভাবলাম কী করা যায়। এভাবে তো ঘুম আসবে না। বুদ্ধি করে বিছানার তোষক ও চাদর সরিয়ে মাটিতে নামিয়ে আমরা তিনজন আলাদাভাবে শোয়ার ব্যবস্থা করলাম। সাথে কায়দা করে তিন বন্ধুর লুঙ্গি খুলে নিয়ে এলাম গায়ে দেওয়ার জন্য। যাক এবার কোনো রকমে রাত পার করা যাবে। সকাল হতেই চিত্কার--আমার লুঙ্গি কই? সবার ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম থেকে উঠেই ননস্টপ হাসি। 


​৩ জুন ২০১২, দৈনিক ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় প্রকাশিত।

Wednesday, June 10, 2015

বাংলা সিনেমার ডায়লগ : ফান উত্তর

রফিকুল ইসলাম সাগর 
ডায়লগ : এখানে পাচ লাখ টাকা আছে, নিয়ে আমার মেয়ের জীবন থেকে চলে যা। 
উত্তর : চৌধুরী সাহেব এখনকার যুগে পাচ লাখ টাকায় কিছু হয়না, পাচ কোটি হলে ভেবে দেখতাম। 

ডায়লগ : আমার বাড়ীর বাথরুমের টাইলসের দাম কত জানিস? গিয়ে দেখে নে যা। 
উত্তর : মতিন সাহেব আমি বাথরুমে গিয়েছি বলে আপনি বাথরুমের লাইট নিভিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আপনি জানেন না আমার মোবাইলেও লাইট আছে, সেই লাইট দিয়ে আমি আপনার বাথরুমের টাইলস দেখেছি। যেদিন আমি এরকম টাইলস আমার বাড়ীর বাথরুমে লাগাতে পারব, সেদিন এসে আপনার মেয়েকে নিয়ে যাবো।

ডায়লগ : বস দেখেন কী সুন্দর একটা মাইয়া যাইতাছে, গিয়া তুইল্লা নিয়া আসি?
উত্তর : নাহ: দেশে ইভটিজিং নিয়ে তোলপাড় চলতেছে। মামুর হাতে ধরা পড়ে গেলে সাত বছর জেল খাটতে হবে।

ডায়লগ : ছেড়ে দে শয়তান! তোর্ ঘরে কি মা-বোন্ নেই? 
উত্তর : মা বোন্ আছে, তবে প্রেমিকা নেই। তুমি আমার প্রেমিকা হইবা?

ডায়লগ : বাবা তার বন্ধুর মেয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছে। চল আমরা পালিয়ে যাই।
উত্তর : আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখলাম তোমার বাবার কোম্পানির টাকা সব লোনে নেয়া। সুতরাং তোমার মতো ফকিরনির লগে আমি পালাইতে পারমু না।

ডায়লগ : আমি তোমার জন্য কদম পার্কে অপেক্ষা করব। মর্জিনা তুমি আসবে তো?
উত্তর : সিএনজি ভাড়া দিয়ে দাও ঠিকই চলে আসব। দেরি হলে ফোন করে জানাব। মোবাইলে টাকা পাঠিয়ে দিও।

১৬ মে ২০১২, দৈনিক নয়া দিগন্তের ফান ম্যাগাজিন থেরাপিতে প্রকাশিত।

Tuesday, June 9, 2015

তখন আপনি কী করবেন?

রফিকুল ইসলাম সাগর 

  • প্রেমিকার সাথে নতুন দেখা। রিক্সাওয়ালার সাথে ২০টাকা ভাড়া ঠিক করে চলে গেলেন রমনা পার্ক, যাওয়ার পর রিক্সাওয়ালা বলে বসল, ভাড়া ৩০০ টাকা তখন আপনি কী করবেন?
  • বাসে করে নিজ গৌন্তব্যে যাওয়ার পথে কন্ডাক্টর বলল, ভাড়া দেন: অথচ আপনি আগেই ভাড়া দিয়েছেন। কন্ডাক্টরকে বললেন, আমি ভাড়া দিয়েছি। তখন সে বলল, ঐ মিয়া আপনি কখন ভাড়া দিছেন? আমার মনে আছে আপনি ভাড়া দেন নাই। তখন আপনি কী করবেন?
  • আপনি নিয়মিত বাজারে যান না, আপনার আব্বাজান আপনার হাতে টাকা তুলে দিয়ে বলল, যা বাজার করে নিয়ে আয়। বাজার থেকে ফিরে এসে আব্বাজানকে হিসেব দিচ্ছেন তখন জানতে পারলেন সব জিনিস আপনি বেশি দাম দিয়ে কিনে এনেছেন। কিন্তু আপনার আব্বাজান বলছে, তুই এখান থেকে টাকা মেরে দিয়েছিস। ওদিকে আম্মাজান বলছে, পঁচা মাছ ফেরৎ দিয়ে আয়। তখন আপনি কী করবেন?
  • গুলিস্তান গিয়েছেন। এক শার্ট বিক্রেতা হকার আপনাকে ডেকে বললো, ভাই শার্টটা পইরা দেখেন। পরলেই কিনতে হইব না, শার্টটা পড়ে দেখার পর দাম জিজ্ঞাসা করলেন। সে বললো, ৫০ টাকা। আপনি রাজি হয়ে প্যাকেট করে দিতে বললেন। ৫০ টাকা দেয়ার পর বিক্রেতা বললো, ঐ মিয়া ৫০ টাকা দেন কেন? আমি বলছি, ৫৫০ টাকা। তখন আপনি কী করবেন?
  • ঠাট্টায় পাঠানো আপনার শত শত লেখার একটিও ছাপা হয়না। অবশেষে আপনি রাগে দুঃখে পাঠালেন একটি নকল লেখা। সেই লেখাটি ছাপা হলো আপনার ছবি সহ। তখন আপনি কী করবেন?


২৯ এপ্রিল ২০১২, দৈনিক ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় প্রকাশিত।

Wednesday, June 3, 2015

থাপ্পড়


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 

এই মাত্র তুলির আম্মু তুলির গালে একটি থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ কেদে কেদে চুপ হয়ে গেল। মাথার ভেতর একটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আম্মু শুধু আমাকে থাপ্পড় দেয় কেন? গালে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর তুলি অনুভব করল তার গাল আগের চেয়ে শক্ত হয়ে গেছে। হায়! হায়! এভাবে থাপ্পড় খেলে তো গাল আরো শক্ত হয়ে যাবে। আজই তো ১০-১২ বার আম্মু থাপ্পড় দিলো। সকালে দাত ব্রাশ করার সময় একবার, নাশতা খেতে দেরি হওয়ার জন্য, পড়তে না বসায়, বাথরুমের দরজা বন্ধ করেনি বলে...। এভাবে হিসাব করছিল তুলি।

নাহ, এর জন্য প্রতিবাদ করতে হবে। ঠিক তখনি আম্মু এসে আরেকটি থাপ্পড় বসিয়ে দিয়ে গেলেন 'এখনো ঘুমাতে যাওনি কেন' একথা বলে। আরো থাপ্পড় থেকে বাচতে হলে এখনি ঘুমাতে হবে। ঘুমিয়ে পড়ল তুলি।
ঘুমে স্বপ্নে এলো এক দৈত্য। তুলি দৈত্যকে বলল - আমি তোমার কাছে একটা জিনিস চাই। কী চাও বলল দৈত্য। আমি থাপ্পড় থেকে মুক্তি চাই। থাপ্পড় থেকে মুক্তি পেতে হলে তোমাকে বড় হতে হবে। ঘুম ভেঙ্গে গেল তুলির। বড় হবো কিভাবে? এই চিন্তায় সকাল হয়ে গেল। আম্মুকে গিয়ে বলল- আম্মু আমি বড় হতে চাই। আম্মু থাপ্পড় দিয়ে বলল, এখনো বড় হতে চাও? তুলি বলল না।

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২ দৈনিক নয়া দিগন্তের ফান ম্যাগাজিন থেরাপিতে প্রকাশিত।

কয় ট্যাকা ভিক্ষা করলি?


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 

আমাদের দেশ নাকি এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের আর কিছু হোক আর না হোক, সবার হাতে হাতে মোবাইল পৌছে গেছে। রিক্সা চালক রিক্সা চালাতে চালাতে মোবাইলে কথা বলছে এমন ঘটনা প্রতিদিনই চোখে পড়ে। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে দেখি ফকিরও তার নিজের মোবাইল দিয়ে কথা বলছে-'হ্যালো তর উনে কুনু সমস্যা হইতাছে নাতো? কয় ট্যাকা ভিক্ষা করলি? এরকম টাইপের কথাবার্তা। মোবাইল ব্যবহার করে মানুষের সবকিছু অনেক সহজ হয়ে গেছে। 
কিন্তু বেড়ে গেছে মিথ্যা কথা বলা। আমাদের মহল্লার বাবু ভাই আমাদের খুব প্রিয় এবং তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। বন্ধুর মতোই। পৃথিবীতে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসের নাম হচ্ছে মোবাইল। তার একটা গুন আছে, তিনি সারাদিন মোবাইলে কথা বলেন আর প্রচুর চাপাবাজি ও মিথ্যা বলেন। তার মোবাইল বিজি থাকে। তার অনেক মোবাইল বান্ধবী আছে, যাদের সঙ্গে সারাদিন কথা বলেন। একদিন বাবু ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ক'জন গিয়েছিলাম গাজীপুর নুহাশ পল্লী। সেখানে হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি ঘুরে দেখার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এখানে রাতে থাকব। পাশেই আমাদের এক বন্ধুর বাড়ি। রাতে বসে টিভি দেখছি, এমন সময় বাবু ভাই তার এক বান্ধবীকে ফোন করল। 
বলছে- এই জানো আমি এখন কোথায়? আমি এখন হুমায়ূন আহমেদের বাড়িতে। 
তুমি সেখানে কী কর? তার বান্ধবীর প্রশ্ন? 
বাবু ভাইয়ের উত্তর- শুটিংয়ে আসছি। এখন শুটিং হচ্ছে। 
তো পাঠক বুঝতেই পারছেন বাবু ভাইয়ের চাপাবাজি। মিথ্যা বলা গুলো কি রকম। এটি মাত্র একটি উদাহরণ।

দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার ফান ম্যাগাজিন ভিমরুলে প্রকাশিত।

Friday, May 29, 2015

মোবাইল সমাচার

রফিকুল ইসলাম সাগর


এক পাওনাদার তার দেনাদার বন্ধুকে ফোন করেই যাচ্ছে। তিন দিন হয়ে গেল সে ফোন রিসিভ করে না। তিন দিন পর সেই বন্ধুর সঙ্গে পথে দেখা।
কি রে, তুই আমার ফোন রিসিভ করিস না কেন?
আরে বন্ধু, তুই যখন ফোন করেছিলি তখন আমি বাথরুমে ছিলাম।
তা তিন দিন ধরে কি বাথরুমেই ছিলি? আমি ফোন করেছিলাম, একবারও দেখিসনি?
আরে পেটে যা সমস্যা হইছিল, বদনা হাত থেকে রাখার সুযোগই তো পাইনি।
আমার পাওনা টাকা দিবি কবে?
দিয়ে দিব বন্ধু, পেটের সমস্যা এখনও ভালো হয়নি। ওরস্যালাইন কেনার জন্য আরও কিছু টাকা ধার দে, একসঙ্গে সব টাকা দিয়ে দেব।

* বিপদে পড়ে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে ফোন করল। দোস্ত আমার খুব বিপদ, আমাকে দুই হাজার টাকা ধার দিতে হবে। তুই কি দিতে পারবি? আরে বন্ধু মাত্র দুই হাজার টাকা, এইটা কোনো ঘটনা হইলো? তা এখন তো আমি বিজি আছি, সকালে তুই টাকা পেয়ে যাবি।
যাক বন্ধু আমি নিশ্চিত হলাম, তাহলে আমি তোকে সকালে আবার ফোন করব।
সকালে ফোন করার পর বন্ধু ফোন রিসিভ করে না। দিন পার হয়ে রাত হয়ে গেল, বন্ধু ফোন রিসিভ করল। 
কিরে দোস্ত তুই ফোন রিসিভ করিস না কেন? আর বলিস না, সকালে তোকে টাকা দেয়ার জন্য আসার পথে আমাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সারাদিন থানায় ছিলাম, যা টাকা ছিল পুলিশ মামাদের দিয়ে বাসায় এলাম। 

* এক পাওনাদার দেনাদারকে ফোন করল। রিং হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন কেটে গেল। আবার ফোন দেয়ার পর মোবাইল বন্ধ। তিন দিন পর দু’জনের পথে দেখা হলো।
ক’দিন আগে তোমারে ফোন করলাম, লাইন কাইটা দিয়া ফোন বন্ধ করে রাখলা, কাহিনী কী?
আর বইলেন না ভাই, খালার বাসায় বেড়াইতে গেছিলাম। আপনি যখন ফোন করলেন তখন মোবাইল বন্ধ হয়ে গেছিল চার্জ না থাকার কারণে। খালার বাসায় কারেন্ট থাকে না, তাই চার্জও দিতে পারি নাই। এখনি আপনারে ফোন দিতাম, কিন্তু দেখি মোবাইলে টাকা নাই। পকেটে হাত দিয়া দেখি পকেটেও টাকা নাই। তাই আপনার বাসায় যাইতাছিলাম আরও কিছু টাকা ধার নেয়ার জন্য। এখনি যদি মোবাইলে টাকা লোড কইরা আমার জান কৈতুরীরে ফোন না করি আমার প্রেম শেষ, আমি মইরা যামু ভাই। আমারে আরও কিছু টাকা ধার দিয়া বাঁচান। আমি মইরা গেলে আপনারও ক্ষতি, আপনার পাওনা টাকা দিতে পারমু না। 

৮ মার্চ ২০১২, দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার ফান ম্যাগাজিন ভিমরুলে প্রকাশিত 

ডিজিটাল বাংলাদেশ


২৯ ফেব্রুয়ারী ২০১২, দৈনিক নয়া দিগন্তের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় প্রকাশিত 

Tuesday, May 26, 2015

বাংলা সিনেমার তিনটি নাম ও কাহিনী সংক্ষেপ


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 


থাপড়াইতে থাপড়াইতে গাল লাল কইরা ফালামু 
একটি নদীতে গোসল করার সময় নায়ক নাইকাকে প্রথম দেখে। বিপরীত পাশের আরেকটি পাহাড় থেকে সিনেমার ভিলেন সেই একই দৃশ্য দেখে নাইকার প্রেমে পড়ে যায়। ভিলেন তার চাল্লিদের পাঠায় নাইকাকে তুলে আনতে। চাল্লিরা নাইকাকে জোর করে তুলে আনতে গেলে নায়ক বাধা দেয়। মারামারি,হাতাহাতি হয়। নায়কের মার খেয়ে ভিলেনের চাল্লিরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় নায়ক বলল তোদের বসকে বলিস এর পর যদি আমার সামনে সে আসে তাহলে থাপড়াইতে থাপড়াইতে গাল লাল কইরা ফালামু। সেই ঘটনার পর নায়ক নাইকার প্রেম হয় এভাবেই এগোতে থাকে সিনেমার কাহিনী। 

জোর যার দেশ তার 
সিনেমার নায়ক ছোট বেলায় একজন পকেটমার থাকে। বহুবার হাতে নাতে ধরা খেয়ে পাবলিকের গণধোলাই খায়। মাঝে আন্দোলন কর্মসূচি,হরতাল সহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত টাকা আয় করে। একদিন হরতালে সে সাত জনকে হত্যা করে,সেই দৃশ্য সব টিভি চ্যানেলে দেখানো হয়। টিভিতে দেখানোর পর সব নেতাদের নজরে আসে সে। তাকে সন্ধান করতে লোক পাঠানো হয়। নায়ক একটি রিক্সার গ্যারেজে বসে মাদক সেবন করিতেছিলো। সেখান থেকে নায়ককে নিয়ে আসা হয় নেতার সামনে। নেতা তাকে পলিথিন ব্যাগ ভর্তি টাকা দিয়ে বলল আজ থেকে তুমি আমার দলের লোক। আমার বিরোধী দলের কেউ উল্টা-পাল্টা করলে তাদের বুঝাইয়া দিবি জোর যার দেশ তার, এভাবেই চলতে থাকে কাহিনী।

ধর মার কাট 
মহল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসীর টিন চুরিতে প্রতিবাদ করায় খুন হয় নায়কের বাবা। ছোট নায়ক তার মাকে জড়িয়ে ধরে কাদে। নায়কের মা নায়ককে বলে তুই বড় হয়ে এইসব চোরদের নিজ হাতে শাস্তি দিবে। তারা ঢাকা আসে। রেল লাইন দিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বড় হয়ে যায় নায়ক। একদিন টিন চোর সন্ত্রাসীর ভাই নাইকাকে দেখে টিচ করে। নাইকার পক্ষ হয়ে নায়ক ঝাপিয়ে পড়ে। মারামারি হয়। নাইকা নায়কের প্রেমে পড়ে। নায়ক তার বন্ধুদের নিয়ে একটা ক্লাব বানায় নাম ধর মার কাট। এই ক্লাবের সদস্যদের কাজ টিন চোরদের পেলেই ধরবে মারবে কাটবে। তার পর কী হবে দেখুন সিনেমা হলের পর্দায়। 

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ দৈনিক ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় প্রকাশিত

বাসে উঠলে যাদের সাথে দেখা হবেই


  • রফিকুল ইসলাম সাগর 



প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় যেতে আমরা প্রধান যান বাহন হিসেবে বেছে নেই বাসকে। ক্ষনিকের এই চলতি পথে আমাদের দেখা হয় নানান কিসিমের মানুষের সাথে। আসুন জানা যাক বাসে উঠলে যাদের সাথে দেখা হবেই। 

ডিজিটাল ভিক্ষুক 

আমাদের ডিজিটাল দেশে বর্তমানে ডিজিটাল ফকিরের আমদানি হয়েছে। প্যান্ট শার্ট পড়া এই সব ডিজিটাল ফকিররা চলতি পথে সামনে এসে বলে আমি বিপদে পড়েছি বাড়ি ফিরে যাওয়ার ভাড়া নাই,সামনে পরীক্ষা পরীক্ষার ফিস দেয়ার সামর্থ্য নাই সাহায্য করেন। আবার মানুষের বিশ্বাস যোগ্যতা পাওয়ার জন্য সাথেদু'একটা ইংলিশ মাইরা দেয়।  

স্টাফ-স্টুডেন্ট 

বিনা ভাড়ায় যাওয়ার জন্য কেউ কেউ বলে বসে আমি অমুক বাসের স্টাফ। কেউ কেউ স্কুল-কলেজে না গিয়েই হাফ ভাড়া দেয়ার জন্য নিজেকে স্টুডেন্ট দাবী করে। এই সব স্টুডেন্টদের চেহারার দিকে তাকালে স্টুডেন্ট এর কোনো ছাপ পাওয়া যায় না। 

মলম পার্টি 

মলম পার্টি যারা তাদের চেনা যায় শুধূ যারা তাদের খপ্পরে পড়লেই। ভদ্র পোশাকে কৌশলে বসে থেকে আপনারসাথে কুশল বিনিময় করবে। সুযোগ বুঝে আপনাকে পছন্দ করে ধর্মের ভাই বানিয়ে তার বউয়ের হাতের রান্না করা হালুয়া আপনাকে খেতে দেবে। ব্যস তারপর আপনি অজ্ঞান। 

পকেট মার 

সুযোগ বুঝে আপনার পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিবে। ধরা পড়লেই বলবে... ও ভাই এইটা আপনার পকেট? আমি তো নিজের পকেট মনে করে হাত দিয়েছিলাম sorry মাইন্ড কইরেন না। 

এনালগ ভিক্ষুক 

হটাত করে একজন এনালগ ভিক্ষুক এসে আপনার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিবে। কাগজে লেখা থাকবে আমরা পাচ ভাই বোন আমার বাপ নাই,আমি পরিবারের সবার বড়। যে যা পারেন সাহায্য করেন। 

বউয়ের সাথে ঝগড়ায় পরাজিত জামাই  

বাসে উঠেই ঝগড়া বাধিয়ে দিবে। ওই মিয়া আমার পায়ে পারা দিলেন ক্যান? ওই মিয়া আমারে ধাক্কা দিলেন ক্যান। বাসা থেকে বেড় হওয়ার সময় বউয়ের সাথে পরাজিত এই সব জামাই মানুষের সাথে ফাও ঝগড়ায় জড়াবে। বেচারা বউয়ের সাথে না পাইরা.......। 

হেলপার,কন্ডাক্টর ও ড্রাইভার 

এরা হলো বাসের সব চেয়ে জনপ্রিয় পরিচিত। একজনের মুখে শুনা যায় ওস্তাদ বায়ে প্লাস্টিক আরেকজনের মুখে ভাড়া দেন। একজনের কাছে কন্ডাক্টর দুইবার ভাড়া চাইলেই বাংলা সিনেমার নায়করা যেভাবে ঝাপিয়ে পড়ে ভিলেনের উপর ঠিক সেভাবে ঝাপিয়ে পড়তে দেখা যায় যাত্রীদের। তার জামার কলার সরকারী ভাড়া বেশি চাইলেই সেখানে হাত চলে যায় আমাদের সাথে গালি ফ্রি। এছাড়া ড্রাইভার তো জনগনের শালা একজাগায় একটু দেরী করলেই যাত্রীদের যার যত গালি আছে তা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তার উপর। 

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১২, দৈনিক ইত্তেফাকের ফান ম্যাগাজিন ঠাট্টায় প্রকাশিত 

Friday, May 15, 2015

খোয়াব!

রফিকুল ইসলাম সাগর 
১
আনলিমিটেড চিন্তা-ভাবনা সারাদিন মাথার ভিতরে দৌড়ায়। আমাকে শান্তি দেয় না। দিনের আলোতেই জেগে জেগে দেখি স্বপ্ন। আর রাতের আধারের গভীরতা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তো স্বপ্নের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। আজব যতসব স্বপ্ন দেখি আমি। তবে স্বপ্ন দেখায় অন্য রকম শান্তি আছে। স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলে মানুষের জীবনের আনন্দও সব শেষ। স্বপ্ন হাসায়, কাদায় আবার ভাবায়।

২
কিছুদিন আগে স্বপ্নে দেখি আমি একটা লাল গাড়ি কিনেছি। কোনো এক হরতালের দিনে লাল গাড়িটি নিয়ে রাস্তায় বের হই। একটি সরকারী কলেজের সামনে গাড়িটি রেখে চা পান করতে গিয়েছিলাম। রাস্তার বিপরীত পাশের চায়ের দোকানে দাড়িয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম আর গাড়িটির দিকে দৃষ্টি দিচ্ছিলাম। এমন সময় দেখতে পাই আমার নতুন গাড়িটির সামনের, পিছনের ও জানালার গ্লাস ভাঙ্গছে হরতাল সমর্থনকারীরা। যারা ভাঙ্গছে তারা আমার পরিচিত। আমি রাস্তার বিপরীত পাশ থেকে এই দৃশ্য দেখে মনে মনে বলছিলাম, ভাং ভাং তোদের তো চিনেই ফেলেছি। তোদের নেতাদের কাছে বিচার দিয়ে জরিমানা আদায় করব দেখিস। এর মধ্যেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। কিছুই করা হলো না।

৩
পরেরদিন গভীর রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্নে দেখি, আমি তিন কোটি টাকা পেয়েছি। এতো টাকা পেয়ে বিশাল ঝামেলা হয়ে যায়। কি করা যায় এতো টাকা দিয়ে সেই ঝামেলা। প্রথমেই একটি গাড়ি আর একটি মোটর সাইকেল কিনি। বাকী থাকে দুই কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা। এই টাকায় কি করা যায় বুদ্ধি নিতে একজন উপদেষ্টার কাছে যাই। তিনি বললেন, অবৈধ ব্যবসা শুরু করেন। আমিও রাজি। উপদেষ্টার ওখান থেকে বের হয়ে দেখি আমার গাড়ি নাই। চুরি হয়ে গেছে। গাড়ি খুজতে খুজতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। 

৪
দুইটা মোবাইল অফ করে ঘুমাতে যাই বিছানায়। চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকা অবস্থায় বারবার মনে হচ্ছিল আমার মোবাইলের রিং বাজছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি মোবাইল তো বন্ধ। এভাবে করতে করতে ঘুমিয়ে যাই। এবার স্বপ্নে আমার মোবাইলের রিং বাজছে......অপরিচিত নাম্বার। রিসিভ করে বললাম, হ্যালো কে বলছেন? অপরপ্রান্ত থেকে ভারী কন্ঠে একজন বললেন, আরে আমারে চিনতে পারলেন না? আমি নায়ক কাতুকুতু বলছি।
-তা কাতুকুতু ভাই, আমাকে কি কারণে ফোন করেছেন?
-আপনাদের পত্রিকায় ছাপানোর জন্য আমার একটা লেখা পাঠিয়েছি।
-বলেন কি আপনি আবার লেখালেখিও করেন নাকি।
-আরে আপনি জানেন না? আমি নায়ক, লেখক, পরিচালক এবং প্রযোজক। 
আচ্ছা ঠিক আছে কাতুকুতু ভাই আপনার লেখাটা দেখব ভাব নিয়ে কথাটা বলে লাইন কেটে দিলাম। ঘটনা শেষ না হয়েই ঘুম ভাঙ্গলো। উঠে স্বপ্নে নয় বাস্তবে ল্যাপটপ অন করলাম। মেইল চেক করে দেখি নায়ক কাতুকুতুর কোনো লেখা আসেনি। আবার ঘুমিয়ে গেলাম।

৫
এক পাগল আমারে দেইখা বলছিল আগের জন্মে আমি নাকি জমিদার আছিলাম। তবে খালি ঘুমাই, খাই আর টো টো করি বইল্লা আমার আম্মাজান আমারে এই জনমেই জমিদার কয়। তার সাথে আমার প্রিয়াও টিটকারী মাইরা কয় আমি নাকি জমিদার। আমি যে কি তা শুধু বুজছে আমগো দুই রাজনৈতিক নেত্রী। এই তো সেদিন তারা দুইজনই আলাদা আলাদা ভাবে স্বপ্নে আমার সাথে দেখা করতে আসে। দুই জনেই আমার কাছে পরামর্শ চাইল, আগামী ইলেকশনে বেশি ভোট পামু ক্যামনে? আমি দুই জনরেই একই পরামর্শ দিলাম, আপনারা জনগনরে আশ্বাস দিতে থাকেন। পাল্টাপাল্টি যে বেশি আশ্বাস দিতে পারবেন ভোট সেই বেশি পাবেন। এরকম পরামর্শ পাইয়া দুই নেত্রীই খুশি হয়ে আমারে প্রস্তাব দিয়েছিল, আপনি নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হয়ে যান। আমি কইছিলাম, ভেবে বলব। ভাবতে ভাবতে স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।

৬
শুধু রাতেই নয় দিনেও জেগে জেগে স্বপ্ন দেখার কঠিন ব্যাধি আমার। ভাবতে ভাবতে এমন গভীরে চলে যাই যে হাওর-বাওর, বান্দরবান, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, কুয়াকাটা, কক্স-বাজার সহ শেষ ছেড়ে বিদেশে গোয়া, বালি, পাতায়া, লাংকাউই, ব্রাজিল, আমেরিকাতেও চলে যাই। মাঝে মাঝে পশু-পাখির সাথেও কথা বলি। 
গত ঈদে কুরবানী দেয়ার জন্য আমাদের কেনা লাল গরুটার খুব মন খারাপ। গরুর মুখখানি দেখে আমার খুব মায়া লাগলো। দুই চোখের কোনে পানি জমে আছে। আমি বললাম, কিরে লালু তোর মন খারাপ কেন? 
-আমার মনের গরুর জন্যে।
-বলিস কি তোরো আবার মনের গরু আছে নাকি।
-মানুষের যেমন মনের মানুষ থাকে আমাদেরও তেমন মনের গরু। আমার মনের গরুরে ছাড়া আমার ভালো লাগতাছে না। 
-কি আর করবি বল? সবই তোর ভাগ্য। 
-আমার মনের গরুরে আইন্না দেন নাইলে আমি আমার গলায় বান্ধা দড়ির সাথে ফাস দিয়া মইরা যামু, কাদো কাদো কন্ঠে বলল গরু। আমি বললাম, তুই জানিস না? আত্মহত্যা মহাপাপ।
-এতো কিছু জাইনাও মানুষ যদি এই কাজ করতে পারে তাইলে আমি ক্যান পারুম না? আমি তো আর মানুষ না আমি 'গরু'। মানুষ কতো লেখাপড়া করে তারপরেও অবৈধ টাকায় কুরবানী দেয়। এটা পাপ না? এই জালিম দুনিয়ায় আমি থাকুম না। 

গরুর এইসব কথা শুনে আমি চুপ খেয়ে গেলাম। ঠিকই তো বলেছে। 



Monday, May 4, 2015

সময় খারাপ ভাই...

জাস্ট ফর ফান

সময় খারাপ ভাই 
আপনি মাইনকা চিপায় তাই


রফিকুল ইসলাম সাগর 
রাজপথে চরম গ্যাঞ্জাম, হটাত বোমা ফুটল। নিজের জীবন বাঁচাতে আপনি দৌড় দিতেই পিছন থেকে 'ঐযে জামাত শিবিরের লোক, অয় বোম ফাটাইয়্যা দৌড় মারছে' বলে ক'জন আপনার পিছনে চাপাতি-রড নিয়ে দৌড় শুরু করল। বুঝতে হবে আপনার সময় খারাপ, আপনি মাইনকা চিপায় পড়েছেন।
আপনার জানের জান কৈতরীর সাথে রাতের আধারে দেখা করতে গিয়েছেন তার বেডরুমে। সাক্ষাত শেষে ফিরে আসতে চাইলে দেখলেন প্রিয়ার বেডরুমের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। বুঝতে হবে আপনার সময় খারাপ, আপনি পড়েছেন মাইনকা চিপায়।
ঘুম থেকে দেরিতে উঠার কারণে প্রতিদিন দেরিতে অফিসে পৌছেন, কারণ হিসেবে বসকে প্রতিদিন একই কথা বলেন। তা হলো- যানজট। এবার বস সাবধান করলেন, এটাই শেষ সুযোগ- আর লেট হলে চাকরি থাকবে না। ঠিক তার পরদিনই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে অফিসের উদ্দশ্যে বের হয়ে দেখলেন পথে মিছিল-সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশাল যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যা রাতের আগে শেষ হওয়ার নয়। বুঝতে হবে আপনার সময় খারাপ, আপনি পড়েছেন মাইনকা চিপায়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা খোঁজাখুজি করছেন। বাবা-মায়ের ঘরে খুঁজে পেলেন পত্রিকা। মা-ছিল রান্না ঘরে, বাবা ছিল বাথরুমে। ঘন্টাখানেক পরে বাবা বলল, তার মানিব্যাগ থেকে ৫০০শ টাকা গায়েব। ছোট ভাই টাকা গায়েব করে ফাসিয়ে দিল আপনাকে বলল, মনে হয় বড় ভাই নিয়েছে। পাশ থেকে বড় বোন বলল, হ্যা আমি ওরে দেখেছি বাবার ঘরে কী খোঁজাখুজি করছে। অতএব বুঝতে হবে আপনার সময় খারাপ ভাই, আপনি মাইনকা চিপায় আটকা পড়েছেন তাই।..

লেখাটি কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল কি হয়নি! ঠিক মনে করতে পারছিনা।

Tuesday, April 28, 2015

বাংলা সিনেমায় নির্বাচনীয় ডায়লগ

রফিকুল ইসলাম সাগর 

নায়ক : চৌধুরী সাহেব, আমরা গরিব হতে পারি কিন্তু আমার ভোটটা দামী। আপনি যদি আপনার মেয়ে ছখিনাকে আমার হাতে তুলে না দেন তাহলে এই নির্বাচনে আমি আপনাকে ভোট দিবনা।
নায়িকা : শুনে নাও বাবা তুমি কুদ্দুসের সাথে আমার ভোটটাও হারাবে যদি ওর সাথে আমার বিয়ে না দাও! এখন তুমি বল তুমি ভোট চাও নাকি কুদ্দুসের সাথে আমার বিয়ের বাধা দিতে চাও?
বাবা : ঠিক আছে! ঠিক আছে! আমি আর কি বলব, তোরা যা চাস তাই হবে। নির্বাচনের পরেই আমি তোদের দুজনের বিয়ে দিব।

একটুপর নায়িকার বাবা ভাড়াটে গুন্ডা বুলেটকে ফোন করল,
বাবা : শোন বুলেট, নির্বাচনের দিন তোর সাঙ্গু-পাঙ্গুদের নিয়ে ভোট কেন্দ্রের সামনে থাকবি। কুদ্দুস ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরুলেই ওকে শেষ করে দিবি। এই কাজের জন্য তুই যা চাইবি তোকে দিব।
গুন্ডা : চৌধুরী সাহেব, কুদ্দুসরে শেষ কইরা দিমু তার বিনিময়ে আপনার মাইয়্যার লগে আমার বিয়া দিতে হইব।
বাবা : তুই কুদ্দুসকে খতম কর ছখিনার বিয়ে তোর সাথেই হবে।
গুন্ডা : আপনি কোনো চিন্তা করবেন না আব্বাজান, কুদ্দুস নির্বাচনের দিন ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে ঠিকই কিন্তু আর বাড়ী ফিরে যাবেনা। ওর লাশ আমি কেটে টুকরো টুকরো করে মাটিতে পুতে ঢালাই করে দিব! হা হা হা....


Wednesday, April 22, 2015

বিচ্ছুতে লেখা এবং নোবেল প্রাইজ

রফিকুল ইসলাম সাগর 
বিচ্ছু প্রথম আমাকে লেখক হিসেবে আবিস্কার করেছিল। আমার প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিলবিচ্ছুতে। আমার গোবর ভরা মাথার কোনো এক কোনায় সারের সন্ধান পেয়েছিলেন বিচ্ছুসম্পাদক। সেই থেকে আমার লেখা লেখি শুরু। আজ অনেকদিন পর বিচ্ছুতে লিখছি। বিচ্ছু ৬০০ সংখ্যায় পদার্পণ করেছে। বয়স বৃদ্ধি হওয়ার সাথে আমার যেমন পরিবর্তন হয়েছে দিনে দিনেবিচ্ছুর পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে আরও পরিবর্তন হবে। বিচ্ছু বেচে থাকবে আজীবন। বিচ্ছুর জন্য শুভ কামনা।

বিচ্ছুতে আমার প্রথম প্রথম লেখার অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করবো। পাঠক ভয় পাবেন না এই শেয়ার ফেসবুকের অথবা শেয়ার বাজারের শেয়ার না। আজকাল ফেসবুকে কেউ কেউ যেভাবে ছবি শেয়ার করেন এতে হয়তো বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারী বিরক্ত। একটা ছবি তুললেই হলো ব্যাস সেই ছবি আপলোড করে শেয়ার করতে দেরী হয় না। ছবিতে যদি দেখতে লাগে কদম খান কেউ কেউ কমেন্টস করেন সাকিব খান নয়তো নাসির উদ্দিন খান। এই শেয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেককে ফেসবুক থেকে ব্লগ করেছি। আরে ভাই ছবি আপলোড দিলে তো নিউজেই দেখা যায় শেয়ার করে কদম খানের মতো কাজ করার দরকার আছে? কেউ কেউ ফেসবুক লাইক পেজ বানিয়ে ছবি আপলোড দিয়ে লিখেন ভাল লাগলে শেয়ার নাইলে লাইক। যাই হোক একটু বেশিই বললে ফেললাম মনে হয়। অনেকে হয়তো ইতিমধ্যে সাকিব খান থেকে ভিলেন মিশা সৌদাগরের ভূমিকায় আমাকে খোজা শুরু করেছেন। মনে মনে বলছেন তোমারে যদি পাইতাম তাইলে উপরে শেয়ার করে দিতাম। 

ফেসবুক শেয়ার নিয়ে বললাম এবার শেয়ার বাজারের কথা একটু বলি। বর্তমান শেয়ার বাজারের যেই অবস্থা তাতে হয়তো শেয়ার শব্দ শুনলে অনেকের বুকে চিপ মাইরা উঠে। এই বুঝি দর পতন হলো। শেয়ার নিয়ে অনেক কথা হলো মূল গল্পে আসি। বিচ্ছুতে প্রকাশিত লেখা পড়ে মনে মনে চিন্তা করতাম এই লেখা গুলো লেখক ক্যামনে লেখে? লোক গুলোতো পুরাই তার ছেড়া। আমারও লেখার ইচ্ছা জাগে। দিনের পর দিন চিন্তা করে পড়ার টেবিলে বসে স্যারের দেয়া পড়া না পড়ে বিচ্ছুর জন্য লিখতে চেষ্টা করতাম। খাতার কত যে পৃষ্ঠা নষ্ট হইছে। পাঠ্য বইয়ের পড়া না পড়ে বিচ্ছু পড়ার কারণে স্কুলে গিয়ে কানে ধরে ব্যাঞ্চের উপর দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে। অবশেষে বুক ভরা আশা নিয়ে,টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে চিঠির খাম কিনে পাঠিয়ে দিলাম একটি লেখা। ব্যাস ! এখন অপেক্ষা লেখা ছাপা হইব কিনা। ঠিক মতো চিঠি বিচ্ছুর ডেস্কে পৌছালো কিনা,আমার হাতের লেখা সম্পাদক বুঝব কিনা এরকম চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাইতে থাকলো। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় আলোচনার বিষয় থাকতো বিচ্ছুতে আমার লেখা। বলতাম আগামী বিচ্ছুতে আমার লেখা আসবো দেখিশ। লেখা প্রকাশ না হওয়ার আগেই তো আমি হীট। 
রাতে স্বপ্নের জগতে গেলে দেখতাম বিচ্ছুর বুকে আমার লেখা শত শত তরুণী আমার অটোগ্রাফের জন্য আমার বাড়ির সামনে লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। আহ আমার যে কী ভাব। দুই সপ্তাহ তিন সপ্তাহ রবিবার সকালে সবার আগে পত্রিকার দোকানের সামনে দাড়িয়ে থাকতাম। কিন্তূ না আমার লেখা নাই। আশা নিয়ে আগামী সপ্তাহের অপেক্ষা। অবশেষে এক রবিবার আমার লেখা খানা বিচ্ছুর বুকে দেখতে পাইয়া ছিলাম। মনে খুশির জোয়ার। আমি যেন নোবেল প্রাইজের খুব কাছে চলে গেলাম। নোবেল আমার দরজার সামনে। দরজা খুললেই আমার। নিজেরে খুব বড় লেখক মনে হইছিল। আমি যেন অসাধ্যকে সাধ্য করে ফেলেছি । আম্মাজান আমারে নিয়া গর্ভো করবো আব্বাজান কইব তুই আমাগো বংশের নাম উজ্জল কইরা ফালাইলিরে। খুশিতে আব্বাজান আমার সাথে কুলাকুলি করবো,বাড়ির সামনে মিষ্টির ট্রাক নিয়া আসব এই সব আশা নিয়া জলদি বাড়িতে গেলাম। পথেআরও দুই তিনজনরে জোর করে আমার লেখা পড়িয়েছিলাম। প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা শুধূ বলেছিল মিষ্টি খাওয়া। বাড়িতে গিয়ে সবার প্রথম প্রিয় আম্মাজানকে খবরটা দিয়েছিলাম। আম্মাজানের আচরণে মনে হলো আমারে পুলিশ দিয়া ধরাইয়া দিবো আমি অনেক বড় অপরাধ করে এসেছি। আব্বাকে আর দেখানোর সাহস হলো না। মন খুব খারাপ হলো। মুহুর্তের মধ্যে আমি নোবেল পুরস্কার পাওয়া লেখক থেকে দলিল লেখক হয়ে গেলাম। তার পরেও মনে আনন্দ ছিল জীবনেরপ্রথম লেখা পত্রিকায় প্রকাশ বলে কথা। আব্বা-আম্মা রিজেক্ট করছে তো কী হইছে বন্ধুদের সাথে তো ভাব মারা যাবে। কিছুক্ষণ পর আম্মা আব্বাকে গিয়ে বললো। আব্বা আমাকে ডেকে বললো কিরে তোর নাকি লেখা প্রকাশ হয়েছে? কই দেখি। আব্বা পড়ে বললো ভালোই তো। আব্বা খুশি হয়েছিল তাই আমাকে একশ টাকা দিয়েছিল। ওহ আমি আবার নোবেলের কাছে......। এর পর থেকে বিচ্ছুতে আমার অনেক লেখা প্রকাশ হতে শুরু হলো। মহল্লায় যেদিক দিয়ে যাই কারো সাথে দেখা হলে বলে কী সাংবাদিক খবর কী? আমার ভাব কে দেখে আমি তো মহল্লার নায়ক। পুরো হীট।

১৪/১০/২০১২, দৈনিক যুগান্তর, ফান ম্যাগাজিন বিচ্ছুতে প্রকাশিত 

ডাউনলোড ময়না ভাই

রফিকুল ইসলাম সাগর পাড়ার এক বড় ভাইয়ের নাম ''ডাউনলোড ময়না ভাই''। মোবাইলে নতুন নতুন সফটওয়্যার কালেকশন করা তার নেশা। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে তার মোবাইল টিপাটিপি করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারাদিন নতুন নতুন সফটওয়্যার ডাউনলোডের কাজে তার খুব ব্যস্ততা। যখন মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য কেনা এমবি শেষ হয়ে যায় তখন তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কখনো কখনো একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড পুরোপুরি শেষ না হতেই এমবি শেষ হয়। সে মুহুর্তে আবার নতুন করে এমবি কেনা এবং পুনরায় ফাইলটি ডাউনলোড করে তা ইনস্টল না করা পর্যন্ত অস্থির থাকে ময়না ভাইয়ের মন। এরকম চরিত্রের জন্য পাড়ায় ময়না ভাইয়ের নাম ছড়িয়ে গেছে ''ডাউনলোড ময়না ভাই'', নামে। 

এখানে সেখানে ময়না ভাইয়ের সাথে দেখা হলে-
-ভাই কী অবস্থা?
ময়না ভাই না বুঝেই উত্তর দেয়, এইতো নতুন একটা সফটওয়্যার ডাউনলোড করি। অতপর, আইচ্ছা পরে কথা কমু নে তাইলে টাইপের কথা বলে নিরিবিলিতে চলে যায়।
ইদানিং তার পকেটের অবস্থা ভালো না, সফটওয়্যার ডাউনলোড করা ছাড়া তার ভালোও লাগে না। প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এমবি কেনার খরচ তার জন্য ব্যয় বহুল হয়ে পরেছে। মনে মনে সে ভাবে ইশ আরো কম টাকায় যদি আরো বেশি এমবি কেনা যেতো। আর যদি ফ্রি হতো তাহলে তো আরো ভালো হতো। এসব ভেবে ভেবে তার মন খারাপের মুহুর্তে পাড়ার এক ছোট ভাই খুশির খবর নিয়ে আসে, ''কোপা মোবাইল কোম্পানির বন্ধ সংযোগ চালু করে যেকোনো পরিমান রিচার্জে ১জিবি ইন্টারনেট একদম ফ্রি। পাশাপাশি কোপা সংযোগে ইন্টারনেট প্যাকেজের রেট্ অনান্য অপারেটরের চেয়ে অনেক কম।'' এই সংবাদ জেনে ময়না ভাই তো ভীষণ খুশি। নগদ হিসেব করে ফেলল, ১জিবি ইন্টারনেটে কতগুলো সফটওয়্যার ডাউনলোড করা যাবে। এখন সমস্যা হলো তার কোনো বন্ধ কোপা সংযোগ নেই। প্রথমে বার্তা নিয়ে আসা ছোট ভাইটির কাছেই একটি কোপার বন্ধ সংযোগ চাইল। সে জানিয়ে দিলো, তার কাছে একটি বন্ধ সংযোগই আছে সেটা দেয়া যাবেনা কারণ- ১জিবি ফ্রি ইন্টারনেটে সে নিজেই অনেক ফাইল ডাউনলোড করবে।


এবার বন্ধ সিম খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ময়না ভাই। এর কাছে ওর কাছে খোঁজা শুরু করে বন্ধ সিম। কারো কাছে পাওয়া গেল না। কারো কাছে না পেয়ে শেষে রাস্তায় খুজতে শুরু করে সিম। কিছু খুজছে বুঝতে পেরে এক ভদ্রলোক এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করে, ভাই কী খুজেন? ট্যাকা হারাইছে নাকী? ময়না ভাই উত্তর দেয়- বন্ধ সিম খুজি। লোকটা পাগল এই ভেবে ভদ্রলোক চলে যায়। এবার সেই পথে যাওয়ার সময় ময়না ভাইয়ের এক বন্ধু দেখতে পেয়ে-

- কিরে ময়না কী হইছে? কোনো সফটওয়্যার হারাইছে নাকী?
- নাহ! সিম খুজি। তোর কাছে আছে? থাকলে দে....
অবশেষে বন্ধুর কাছ থেকে কোপা মোবাইল কোম্পানির বন্ধ সংযোগ পেয়ে ময়না ভাইয়ের মুখে আনন্দের হাসি।


এই গল্পটি কল্পনাবিলাসী অলস মস্তিস্কের সৃষ্টি। বাস্তবের সাথে কোনো মিল নেই। কারো সাথে মিলে গেলে তার জন্য কেউ দায়ী নয়।