Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

Monday, December 28, 2015

বট গাছে ভূত

রফিকুল ইসলাম সাগর
 
পাড়ার অনেকেই বলাবলি করে বাড়ীর পেছনের বট গাছটায় নাকি ভূত থাকে। প্রায় শত বছরের পুরোনো বট গাছটাকে দেখতেও একটা ভূতুরে ভাব আছে। গোটা বট গাছেই ফুটোর মতো অসংখ্য গর্ত। অনেকে বলে এই গর্ত গুলোতে সাপের বাসা। ছোট থাকতে আম্মাও এই বট গাছটাকে নিয়ে ভয় দেখাত। বট গাছের ওখানে একা একা যেতে নিষেধ করত। বলতো, বট গাছ থেকে ভূতে ধরবে, সাপে কামড়াবে। কথায় আছে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি। আম্মার নিষেধ শুনতাম না, বট গাছটার আশেপাশেই বেশি ঘুরাঘুরি করতাম। বন্ধুরা মিলে বট গাছের ডালে দড়ি বেধে টারজানের মতো ঝুলতাম। আবার দোলনা বানিয়ে দোল খেতাম।  
বট গাছ ঘেষে যে রাস্তা তাতে দিনের বেলায়ই মানুষের আনাগোনা কম থাকে। আর রাতের বেলায় তো একেবারেই কমে যায়। চার-পাচ জন একসাথে হলে এই রাস্তা ব্যবহার করে, একা হলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যায়। বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করলে অনেক ঘুরে আসতে হয়। অনেকে সাহস করে একা বট গাছের রাস্তা ব্যবহার করেন। যারা করেন তারা মনে প্রচন্ড ভয় রেখে বট গাছ অতিক্রম করেন, বট গাছ অতিক্রম করে যেন শান্তির নিশ্বাস ফেলেন। মনে মনে বলেন আহ! বাচলাম। প্রায়ই দেখা যায় বট গাছের সামনে এসে অনেকে দৌড় দেন। বিশেষ করে দুপুরে ও রাতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। আরেক শ্রেনীর লোক যারা কোনো কিছুকেই ভয় পাননা তারা রাস্তাটি ব্যবহার করেন। অনেকে রাতের বেলা দূর থেকে এ শ্রেনীর লোককে বট গাছের নিচ দিয়ে হেটে যেতে দেখেই ভূত যাচ্ছে ভাবেন।
বট গাছটিকে নিয়ে অনেক ভৌতিক ঘটনা শুনলেও আজ পর্যন্ত বট গাছে ভূত দেখিনি। ভূত খুজতেও গিয়েছি কিন্তু ভূল মামারা দেখা দেয়নি। ভূত মামারা মনে হয় শুধুমাত্র তাদের আসল ভাগিনাদেরই দেখা দেয়।
আমার বয়স যখন ১২-১৩ বছর। পাড়ার বড় ভাই ছোট ভাই মিলিয়ে পনের থেকে বিশ জনের গ্রুপ আমাদের। গোটা এলাকা দাঁপিয়ে বেড়াতাম। অনেক বেশি দুষ্টু ছিলাম। টইটই করে ঘুরে বেড়িয়ে ঘরে ফিরলেই শুনতাম, আম্মার কাছে পাড়ার লোকেদের দেয়া পাহাড় সমান বিচারের কথা। আম্মাকে খুব একটা ভয় পেতাম না, আম্মার কাছে জমা বিচারের পাহাড় এক ফুতেই গুড়িয়ে দিতাম। তখন আম্মা আব্বার কাছে বলার মিছে ভয় দেখাত তবে জানতাম এমন কাজ আম্মা করবে না। 
প্রতিদিন রাতেই কারেন্ট চলে গেলে চোর পুলিশ খেলতাম। এ খেলায় যারা চোর হতাম লুকাতাম বট গাছের আশেপাশের ঝোপে-ঝাড়ে। কেউ কেউ বট গাছের ডালেও উঠে লুকাত। যে পুলিশ হতো তার পক্ষে সবাইকে খুঁজে পাওয়া ছিল কষ্টকর। কারেন্ট না আসা পর্যন্ত সে শুধু খুজতই। 
একদিন গ্রুপের সবাই চোর-পুলিশ খেলার সময় প্লান করলাম, বট গাছের এখান দিয়ে রাতের বেলা যারা চলাচল করে তাদের ভয় দেখাব। আইডিয়াটি প্রথম বের হয়েছিল সিনিয়র জুয়েল ভাইয়ের মাথা থেকে। যেই কথা সেই কাজ। কিভাবে কি করব সব ঠিক করে ফেললাম। পরের দিন রাত দশটায় আমাদের ভয় দেখানোর মিশন। একে একে সবাই একত্র হলাম। একসাথে গেলাম বট গাছের দিকে। সাথে ঘর থেকে লুকিয়ে নিয়ে এসেছিলাম পড়নের জন্য সাদা কাপড় আর বোতল ভর্তি পানি। চার-পাচ জন সাদা কাপড় পড়ে গাছে উঠলাম। আলাদা আলাদা ডালে বসলাম। হাতে পানির বোতল। বাকিরা সবাই পাশের ঝোপে-ঝাড়ে লুকিয়ে পড়ল মজা লুটবে বলে। এবার অপেক্ষা পথচারীর জন্য। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর ভয় দেখানোর জন্য মানুষ খুঁজে পেলাম। তিন-চারজন লোক বট গাছের নিচে আসতেই তাদের উদ্দেশ্য করে উপর থেকে পানি ছুড়ে মারলাম। পানি যখন তাদের উপরে পড়ল উপরের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল সাদা কাপড়ে ভূত বসে আছে আর সেকি দৌড়.... তা দেখে আমাদের হাসতে হাসতে গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার দশা। এরপরেই আরো দু'জন বট গাছের নিচ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল। তাদেরকেও উদ্দেশ্য করে পানি ছুড়ে মারার পর ইহ হি হি হি... করে হাসতে শুরু করলাম। দু'জনের একজন তো জুতা খুলেই দৌড়ালো। পরের দিন তাদের মাধ্যমে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে যায় বট গাছে ভূত। তারা যখন আমাদেরকেই সেই ভূত দেখার অভিজ্ঞতা শোনালো তখন হাসি চাপিয়ে রাখা দায় হয়ে পরেছিল। ওদিনের পরে প্রায়ই আমরা এরকম ভয় দেখাতাম। সেই স্মৃতি গুলো প্রায়ই মনে করে করে হাসি। 


চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘প্রিয় লোহাগাড়া’ ম্যাগাজিন এর বিজয় দিবস সংখ্যা’ ১৫-তে প্রকাশিত 

সিগারেট

রফিকুল ইসলাম সাগর

এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট কিনে আনার জন্য বাড়ীর দারোয়ানকে টাকা দিয়ে দোকানে পাঠালেন জামাল সাহেব। যদিও তিনি ধুমপান করেননা। 
জামাল সাহেবের দুই ছেলে। বড় ছেলের নাম জহির। আর ছোট ছেলের নাম জমির। স্ত্রী, দুই ছেলে ও বড় ছেলের বউসহ একই ফ্লাটে থাকেন জামাল সাহেব। বাড়িটা নিজের। ছয় তলা। তারা থাকেন তৃতীয় তলায়। প্রতি তলায় ২৮০০ স্কয়ার ফিটের বিশাল ফ্লাট। 
বড় ছেলে জহিরের মেয়ে জামাল সাহেবের একমাত্র নাতনী চার মাস বয়সের শিশু নাবিলা। ও এখনো বসতে শিখেনি। 
দারোয়ান চাচা যখন সিগারেটের প্যাকেট হাতে ফিরলেন তখন গেইটের সামনে জামাল সাহেবের ছোট ছেলে জমির দেখে বলল, চাচা বেনসন সিগারেট কার জন্যে? 
: তোমার আব্বা আনতে পাঠালো। উত্তর দিলেন দারোয়ান চাচা। 
: জমির এবার প্রশ্ন করলো, বাসায় আব্বার কোনো গেষ্ট আসছে নাকি?
: দারোয়ান চাচার উত্তর, কাউকে দেখতি পেলাম নাতো।
ও আচ্ছা ঠিক আছে যান দিয়ে আসেন এই বলে জমির মনে মনে ভাবছে, 'আব্বা তো ধুমপান করেননা। তাহলে সিগারেট কার জন্য আনাইলো? কাহিনী কি? নাকি আব্বায় লুকাইয়্যা লুকাইয়্যা সিগারেট খায়? হ্যা মনে হয় লুকাইয়্যা লুকাইয়্যা সিগারেট খায়। আর আমগো কাছে সাদু সাজে।' এসব কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ী থেকে বাইরে বেরিয়ে যায় জমির। 

ওদিকে জামাল সাহেব সিগারেটের প্যাকেট হাতে পেলেন। পকেটে ঢুকালেন প্যাকেটটা। ঘড়ির কাটায় বেলা সাড়ে বারোটা। ছেলের বউ টুম্পা এবং নিজের স্ত্রী দুজনেই রান্না ঘরে ব্যস্ত। দুই ছেলেই বাড়ীর বাইরে। তবে বড় ছেলে ফেরার সময় হয়েছে। বড় ছেলের ঘরে গিয়ে জামাল সাহেব দেখতে পেলেন চার মাস বয়সি নাতনী বিছানায় আরাম করে ঘুমোচ্ছে। তিনি সিগারেটের প্যাকেট থেকে সবগুলো সিগারেট বের করলেন। সিগারেট গুলো বিছানায় নাতনীর চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখলেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে নাতনীর ঘুম ভাঙ্গে। খুব শান্ত শিশু ঘুম ভাঙ্গার পর অন্যান্য শিশুদের মতো কান্না করেনা। জামাল সাহেব বারান্দায় দাড়িয়ে বড় ছেলে জহিরকে দেখতে পেলেন রাস্তায় সিগারেট টানতে টানতে বাড়ীর দিকে আসছে। তিনি তারাহুরা করে ছেলের ঘর থেকে নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকলেন। 

জহির ফিরল। নিজের ঘরে গিয়ে দেখল, তার মেয়ের চারিদিকে সিগারেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অবুজ শিশুটি বিছানায় গড়াগড়ি করছে আর সিগারেট দিয়ে খেলছে। হাত দিয়ে সিগারেট চটকাচ্ছে। একটি সিগারেট মুখের ভেতরে ঢুকিয়েছে। এমন দৃশ্য দেখে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে টুম্পা.....টুম্পা....আম্মা....আম্মা....বলে চিত্কার শুরু করে জহির। চিত্কার শুনে রান্না ঘর থেকে দৌড়ে আসে টুম্পা সাথে আম্মাও এলো। কি হয়েছে প্রশ্ন করল? পাশের ঘর থেকে জামাল সাহেবও এলেন। বললেন, কিরে কি হয়েছে? ঘরে এসেই এমন চিল্লা চিল্লি শুরু করলি কেন? 
জহির বলল, এখানে এতো সিগারেট কিভাবে এলো? নাবিলা সিগারেট মুখেও দিয়েছে। 
জামাল সাহেব বললেন, 'তোর মেয়ে একটা দুইটা সিগারেট মুখে দিয়েছে এতেই তোর এই অবস্থা। তোর খারাপ লাগছে, যার জন্য চিল্লাইয়া পুরা বাড়ী মাথায় তুললি। আর তুই যে এতো বছর ধরে প্রতিদিন এতগুলা কইরা সিগারেট টানিস আমাদের কেমন লাগে? সন্তান কি জিনিস বুঝতে পেরেছিস? তোর সন্তানকে সিগারেট খেতে দেখে তোর ভিতরটা যেমন পুড়াচ্ছে। আমার সন্তানের জন্যেও আমার এরকম পোড়ায়।' 
জামাল সাহেবের এসব কথা শুনে জহিরের আর বুঝতে বাকি রইলো না কাজটা কে করেছে। কেন করেছে।

Saturday, July 25, 2015

জানালাতে কে উকি দেয়?

হ র র গল্প 

--রফিকুল ইসলাম সাগর :: জানালাতে কে যেন উকি দিল! ঘড়ির কাটায় রাত দেড়টা। এত রাতে কে উকি দিল। একা ঘরে মনের মধ্যে কেমন জানি ভয় ঢুকে গেল। নাহ! বাড়ির গেইট তো লাগানো, কে উকি দিবে। এটা আমার মনের ভুল। এই ভেবে ড্রয়িং রুমের সোফায় শুয়ে আবার টিভি দেখতে থাকলো রিফাত। টিভিটা টেবিলের উপর রাখা। তার পিছনেই ঘরের জানালা। জানালার একটি পার্ট খোলা। টিভি দেখতে দেখতে জানালার খোলা পার্টটিতে চোখ পরতেই কে যেন উকি দিয়ে সরে গেল। এবার ভয় দিগুন বেড়ে যায়। ভয়ে গোটা শরীর কেমন জানি নিস্তব্দ হয়ে গেল। কান যেন গরম হয়ে গেছে। গলা শুকিয়ে শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। রিফাত ভাবলো জানালার পার্ট বন্ধ করে দিবে। কিন্তু সামনে এগিয়ে এ কাজটি করতে ভয় পাচ্ছে। যদি ভূত টুত হয়ে থাকে। জানালা বন্ধ করতে গিয়ে ভূত যদি হাত ধরে ফেলে। এমন ভাবলেও সাহস করে জানালার পার্টটা সূরা পড়তে পড়তে এগিয়ে গিয়ে বন্ধ করেই দিল। 

এত বড় বাড়িতে রিফাত একা। বাবা-মা গেছে বোনের বাড়িতে বেড়াতে। বড় ভাই বাইরে। ভাইয়া ফিরলে গেইট খুলতে হবে। বড় ভাই প্রতিদিন দেরিতেই বাড়ি ফিরে। টিভি বন্ধ করে নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল রিফাত। খা খা গরমে কাথা দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে শুয়ে আছে। এমনকি মুখও ঢাকা। ত্রিশ মিনিট হবে শুয়ে থাকলো। তবে আজেবাজে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক করায় ঘুম আসছে না। ঘামে গোটা শরীর ভিজে একাকার। বড় ভাই এখনো বাড়ি আসছে না, খুব রাগ হচ্ছে ভাইয়ের ওপর। মনে মনে গালাগাল করল বড় ভাইকে। অস্থিরতায় ড্রয়িং রুমে এসে আবার টিভি ছাড়ল। সোফায় না এবার বালিশ নিয়ে এসে ফ্লোরে শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছে। একটুপর চোখ পড়ল দরজার নিচে একটু ফাঁকা জায়গায়। কে যেন হাটছে দেখা যাচ্ছে। ভয়ে ডোগ গিলল রিফাত। এসব কি হচ্ছে! কান্দন আসছে। মনে হলো বড় ভাই ভয় দেখাচ্ছে নাতো। হ্যা তাই হবে মনে মনে ভাবলো। সাহস করে দরজা খুলল। বাইরে তাকিয়ে দেখল কেউই নেই। মুহুর্তেই তাড়াহুড়া করে দরজা লাগিয়ে দিল। আর তখনই কনিং বেল বেজে উঠল। ওহ! ভাইয়া এসেছে। নিশ্চিন্তে শ্বাস ফেলল। 

ঘরের দরজা খুলে এক দৌড়ে বাড়ির গেইট খুলল। কিন্তু গেইট খুলে কাউকে দেখতে পেলনা। শরীর ভয়ে কাপুনি দিয়ে উঠল। বামে ডানে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলনা। হটাত বাড়ির সামনের  তালগাছ থেকে নিচে কি যেন একটা পরার শব্দ কানে এলো। পরপর দু'বার। ভয়ে ভয়ে তালগাছের দিকে তাকায় রিফাত। তালগাছের একেবারে উপরে আগুনের গোল্লার মতো কি যেন জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। ভয়ে শরীরের সব গুলো লোম দাড়িয়ে যায়। সাথে সাথে গেইট না লাগিয়েই দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেল। দরজা আটকিয়ে দিল। সবগুলো ঘরের বাতি জ্বালিয়ে রাখল। 

এবার বাইরে থেকে একজন মহিলার গলা শুনতে পেল, 'মাগো আমার বাচ্চারে একটু দুধ খাইতে দিবেন'।  এতো রাতে ভিক্ষুক! কিছুটা অবাক হলেও সাহস পায়। কে? বলে জবাব দেয় রিফাত। দরজার বাইরে থেকে মহিলাটি এবার বলল, ভাইজান আমার মাইয়্যাটারে একটু দুধ খাইতে দিবেন? দাড়ান বলে দরজা খুলে রিফাত। কিন্তু যা দেখল তার জন্য সে প্রস্তুত ছিলনা। দরজা খুলে দেখতে পেল কেউই নেই। সাথে সাথে দরজা লাগিয়ে দিল। আর ভাবল তাহলে কে কথা বলল! এর মধ্যেই দরজার ওপাশ থেকে বড় ভাইয়ের গলার আওয়াজ, রিফাত দরজা খোল। দরজা খুলেই বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরে রিফাত। এবং সব ঘটনা ভাইয়্যাকে কাদো কাদো গলায় বলে।

Thursday, May 28, 2015

আনু ও মাহী

  • রফিকুল ইসলাম সাগর



ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে কাঁপছে সারা দেশ। মাহী আর্যেন্টিনার সমর্থক। প্রিয় দলের পতাকা ওড়াতে বাড়ির ছাদে গিয়ে উঠলো মাহী। সাথে আরো কজন বন্ধু। ছাদের এক কোণায় পতাকা ওড়াতে গিয়ে দৃষ্টি গেলো পাশের বাড়ির বারান্দায়। তারপর বার বার চোরা চোখে তাকাতে থাকে সেদিকে। সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। মেয়েটিকে দেখার পর, সেদিক থেকে আর মাহীর দৃষ্টি ফেরাতে ইচ্ছা করছে না। কাছে গিয়ে কথা বলতে
ইচ্ছা করছে, নাম জানতে ইচ্ছা করছে। মাহী বন্ধুদের কিছু বুঝতে দিলো না।
বিকেলে বাড়ির ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আছে মাহী। দৃষ্টি সেই বারান্দায়। এদিক-সেদিক পায়চারি করছে। বারান্দায় অন্য একটি মেয়ে এসে দাঁড়ালো; মনে হচ্ছে ঘুড়ি ওড়াবার সময় দেখা, সেই মেয়েটার বড় বোন ও। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘আপু, তোমরা কী এখানে নতুন এসেছো? আমি এই বাড়িতে থাকি।’
এভাবেই শুরু। অনেকক্ষণ কথা বলার পর অপুটির সাথে ভাব জমে গেলো মাহীর। মাহী যাকে খুঁজতে ছাদে এসেছিলো, জানতে পারলো ওর নাম আনু। আনুকে ডেকে আনলো তার বড় বোন তনু। আনু ও তনু দুজনের সাথে বন্ধুত্ব হলো মাহীর। কাছে আসার প্রথম পরীক্ষায় সে পাশ। মোবাইল নাম্বার নিয়ে শুরু হলো কথা বলা। কথা বলতে বলতে কোনো কোনো দিন ভোর হয়ে যায়। বন্ধুরা মাহীকে ফোন করে পায় না। বন্ধুদের সাথে আড্ডাও দিতে যায় না সে এখন। সারাদিন থাকে বাড়ির ছাদে। আনুকে দেখলে ওর সাথে কথা বললেই শুধু মাহীর ভালোলাগে। এক দিন, দুজনে বাইরে ঘুরতে বের হয়। খুব কাছাকাছি দুজন। অনেকটা সময় এক সাথে থাকার সুযোগ পায়। অনেক কথা হয়, অনেক কিছু জানা হয় দুজন দুজনার। ভালোলাগা আরো বাড়ে। কিন্তু বলা হয় না, ভালোবাসি।
মাহী ভাবে, আনুও হয়তো আমাকে ভালোবাসে। ভালো না বাসলে একসাথে ঘুরতে যায় কেনো, এতো কথা বলে কেনো? থাক, ভালোবাসি বলার কী প্রয়োজন আছে, বাকি সব কিছু তো ঠিকই আছে।
এরপর আবারো এক দিন ঘুরতে বের হয়েছিলো ওরা, মাহী বলে, ‘আচ্ছা আনু, তোমার কী আর কোনো ছেলেবন্ধু আছে?’
‘নাহ!’
‘আমাকে তোমার কেমন লাগে?’
‘বারে! ভালোলাগে বলেই তো তোমার সাথে কথা বলি, তোমার সাথে ঘুরে বেড়াই।’
মাহীর আনন্দ আরেকটু বেড়ে গেলো। আনু তাকে ভালোবাসে, এই কথা বুঝার আর বাকি নেই।
এভাবেই পার হয়ে গেলো দুবছর। এক দিন মাহী জানলো, আনুরা বাসা ছেড়ে চলে যাবে। মাহীর খারাপ লাগে। আনু বললো, ‘আমি দূরে চলে যাচ্ছি তো কী হয়েছে? মোবাইলে তো কথা হবেই।’
মাহী কেবল মুচকি হাসে।
আনুরা বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর, কয়েকদিন ঠিক মতোই মোবাইলে যোগাযোগ হয় ওদের। হঠাৎ এক দিন আনুর মোবাইল বন্ধ। সারা দিন ওর মোবাইলে কল দিয়েই যাচ্ছে মাহী, কিন্তু বন্ধ… বন্ধ… বন্ধই বলে যাচ্ছে…
কী করবে ভেবে পায় না মাহী। চরম উত্তেজনা আর ভয়ে হাত-পা কাঁপছে ওর। কোনো বিপদ হলো না তো? আনুদের নতুন বাসার সামনে গিয়ে প্রতিদিন ঘুরঘুর করে সে; একবার যদি দেখা হয়ে যায়; এই আশায়। কয়েক দিন এভাবে পার হয়ে গেলো। ফলাফল শূন্য। বুক ফেটে কান্না আসে মাহীর। এর মধ্যেই অন্য একটা ছেলের সাথে আনুকে দেখতে পায় মাহী।
এই দৃশ্য দেখার পর ওর মরে যেতে ইচ্ছে হয়। অনেক চেষ্টার পর আনুর সাথে কথা বলার সুযোগ হলো। ‘আনু, আমার সাথে এমন করলে কেনো? কী করেছি আমি? তুমি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে যে?’
আনু সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়, ‘যোগাযোগ বন্ধ করেছি তাতে কী হয়েছে? তোমার সাথে আমার এমন কোনো সম্পর্ক তো ছিলো না যে, যোগাযোগ বন্ধ করা যাবে না।’
মাহী ভাবে, মানুষ যখন নতুন জায়গায় যায়, তখন সেখানে অনেক বন্ধুবান্ধব হয়। আবার যখন সেখান থেকে আরেক জায়গায় চলে যায়, তখন সেখানে আরো নতুন বন্ধুবান্ধব পায়; তখন হয়তো পুরানো বন্ধুদের ভুলে যেতে হয়! এটাই কি বাস্তবতা?
মাহীর আর কিছু বলার থাকে না। শুধুই অবাক হয় সে। খুব কষ্ট হচ্ছে। বিধাতা কেনো ভালোবাসা সৃষ্টি করেছে? ভালোবাসা সৃষ্টি না করলে, কী এমন ক্ষতি হতো! তবু সৃষ্টিকর্তার প্রতি সে মনে মনে প্রার্থনা করে, আনু যেখানেই থাকে, ভালো থাকে যেনো। []
::

Friday, May 15, 2015

একজন দুঃখিনী মায়ের গল্প

রফিকুল ইসলাম সাগর 
একজন মা যতো কষ্টেই থাকুক তিনি সব সময় তার সন্তানের সুখ কামনা করেন। সন্তান যতো বড়ই হোক মায়ের চিন্তার শেষ নেই। সকল আপদ-বিপদ, বাধা, ঝড়-তুফান সব কিছু থেকে সন্তানকে আগলে রাখেন যিনি তিনি আমাদের মা। নিজের সুখ সখ-আল্লাদ বলি দিয়ে আমাদের সুখের কথা চিন্তা করেন মা। পৃথিবীতে সন্তানের জন্য মায়ের ভালবাসা পুরোপুরি নিস্বার্থ। এই পৃথিবীতে এমন অনেক মা আছেন যারা সাংসারিক জীবনে সুখ পান না। আমাদের দেশের অনেক মা স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকদের করা শত অত্যাচার নিশ্চুপ সহ্য করে যান সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে। ধৈর্য ধরেন, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেক মিথ্যা অপবাদ সইয়ে যান নিরবে। এমন একজন মহান মায়ের গল্প জানাচ্ছি-

এই মা যে বাবা-মায়ের ঘরে জন্মেছেন তাদের খুব বেশি আদরের সন্তান ছিলেন। এতোটাই আদরের ছিলেন যে, তার সকল চাওয়া-পাওয়ার কথা মুখ ফেটে বলবার প্রয়োজন হয়নি কোনদিন তার আগেই সব কিছু সামনে হাজির করা হতো। তিনি জন্ম নেয়ার পূর্বে দশ বছর সন্তানহীন ছিলেন তার বাবা-মা। আর এ কারণেই আদরের কোনো কমতি ছিলনা। তার বাবা-মা তাকে লালন পালন করেছেন মাটিতে পা ফেলতে না দেয়ার মতো করে। যাকে বলে মাথায় তুলে রাখা। তার বাবার আর্থিক অবস্থাও খুব ভালো ছিল। গ্রামে একনামে তাদের বাড়ি পরিচিত। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন মেয়েকে। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির এক মহিলার কথায় ঢাকার স্থানীয় এক ছেলের হাতে তুলে দেন আদরের মেয়েকে। ঢাকায় বিয়ে দেয়ার আগে বাবা ভাবেন, 'আমার মেয়ে শহরে লাইটের আলোয় থাকবে, ফ্যানের বাতাসে ঘুমাবে, আমাদের গ্রামে কারেন্ট নাই'। ছেলের ব্যাপারে খুব বেশি খোজ-খবর নেয়া হয়নি। শোনা কথায় ছেলের সম্পর্কে সবকিছু ভালোই তো মনে হয়েছে।

গ্রাম থেকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শহরে আসা মা'টির নাম রাবেয়া (ছদ্দ নাম)। বাড়ির বড় বউ। শশুর বাড়ির সবাইকে আপন করে নেন প্রথম দিন থেকেই। বড় বাড়ির মেয়ে হলেও ছিলনা বিন্দুমাত্র অহঙ্কার। বাবার বাড়িতে কোনো কাজ করেননি কোনদিন। তাতে কি শশুর বাড়িতে এসে বসে থাকেননি। গুণবতী মেয়ে বলে কথা। একদিন জানলেন তার স্বামী সন্ত্রাস। সন্ত্রাসী নানান কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। স্বামীকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস ছিল। নিজ বাবা-মায়ের কাছে ব্যাপারটা গোপন রাখেন এই ভেবে যে, বাবা-মা জানলে কষ্ট পাবে চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবেনা। একদিন দুইদিন করে এভাবে পেরিয়ে যায় অনেকদিন। কিন্তু স্বামীকে অন্ধকার পথ থেকে পারেননি ফিরিয়ে আনতে। পারবেনই বা কিভাবে শশুর-শ্বাশুড়ির তো এ পথ থেকে আনা টাকায় ভাত খেতে কোনো আপত্তি নেই। যাই হোক তার স্বামী একদিন আলোর পথে ফিরবেন এমন আশা বুকে নিয়ে চলছিল তার জীবন। একদিন তার কোল থেকে জন্ম নিলো ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান। নিষ্পাপ সন্তানের দিকে তাকিয়ে তার হতাশ মন খুঁজে পায় জীবনের নতুন মানে।

সন্তান জন্ম নেয়ার কয়েক মাসের মাথায় তার স্বামী এক অপরাধে পুলিশের কাছে ধরা পরে। জেল হয়। একপর্যায়ে তার বাবা মায়ের কাছে কোনো কিছু আর গোপন থাকেনা। মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেও আসেন। কিন্তু তিনি স্বামীর সংসার ও সন্তান ছেড়ে বাবার সাথে যান না। জেলে যাওয়ার পর শশুর-শ্বাশুড়ির হাতে স্বামীর টাকা দেয়া বন্ধ হয়ে যায় তার পরই বেড়িয়ে আসে শশুর-শ্বাশুড়ির আসল রূপ। তারা শুরু করে খারাপ ব্যবহার। শুরু হয় তার উপর অমানবিক নির্যাতন। খাওয়া একবেলা জোটে তো আরেক বেলা জোটেনা। এতো কষ্টের পরেও বাবার বাড়ি ফিরে যাননি। শশুর-শ্বাশুড়ির অত্যাচারে কাজের লোকের মতো জীবন যাপন শুরু হয় তার। স্বামীর সাথে যে ঘরটিতে থাকতেন সেটি ভাড়া দিয়ে তাকে থাকতে দেয়া হয় রান্না ঘরে। একরাতে শিশু ছেলেটিকে নিয়ে রান্না ঘরের মেঝেতে ঘুমাচ্ছিলেন। রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। রান্না ঘরের চালের ফুটো দিয়ে বৃষ্টির পানি পরে মেঝে ভিজে যায়। সেই ভিজা মেঝেতেই শিশুটিকে বুকে তুলে নিয়ে রাত পার করেছেন অসহায়ের মতো এই দুঃখিনী মা। 

এভাবে চলতে চলতে একদিন গার্মেন্টসে কাজ নিলেন। একবছর পর তার স্বামী জেল থেকে ছাড়া পায়। ছাড়া পেয়ে বউ সন্তান নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই। বউ সন্তান খেয়েছে কি না খেয়ে আছে সে নিয়ে তার কোনো মাথা ব্যথা নেই, নিজের খিদে মিটলেই হলো। এবার শুরু হয় স্বামীর শারীরিক মানসিক নির্যাতন। কোনো ব্যাপারে মুখ ফুটে প্রতিবাদ করলেই স্বামীর শারীরিক নির্যাতন। সাথে সঙ্গ দেয় শশুর-শ্বাশুড়ি। সন্তানের দিক তাকিয়ে সব সইয়ে যেতেন। বাবার বাড়ির দরজা খোলা থাকলেও যাননি। বাঙালী নারী বলে কথা। এভাবেই চলতে থাকে। দিন দিন অত্যাচার বাড়তে থাকে। দেখতে দেখতে ছেলেও বড় হয়ে যায়। একদিন ছেলে ভাত খেতে চায়। ঘরে আছে শুধু পানিভাত। তা লবন দিয়ে মাখিয়ে ছেলেকে খেতে দেয়। ছেলে বলে, মা আমাকে একটা পেয়াজ দাওনা মাখিয়ে খাই'। মা উত্তর দেয়, বাবা এমনেই খেয়ে নাও ঘরে পেয়াজ নেই। স্বামী বলে, পাশের ঘর থেইকা আইন্না দে পেয়াজ। মা উত্তর দেয়, রোজ রোজ আমি পারবোনা....ব্যাস এ কথা বলতেই তার উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। শুধু তাই নয় সেদিন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি তার ছেলেকে সাথে নিয়ে যেতে চান! কিন্তু পারেননা। 


বাবা-মার কাছে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ছেলের চিন্তায় একটি রাতও ঘুমাতে পারেননা। বাড়ী থাকলেও মন পরে থাকতো ছেলের কাছে। প্রায়ই লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলেকে দেখতে আসেন। যেভাবেই হোক ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে তার সব চেষ্টা শুরু করেন। বাবা-মা তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য জোর করতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি কোনভাবেই রাজি হননি। বছর দুয়েক যেতে এক পর্যায়ে বাবা তাকে জোর করে আবার বিয়ে দিয়ে দিবেই। বিয়ের আসর থেকে তিনি পালিয়ে থাকা চলে আসেন। গার্মেন্টসে কাজ নেন। তখন ছেলে স্কুলে পড়ে। ছেলেকে দেখতে স্কুলের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতেন। ডেকে নিয়ে এটা সেটা কিনে দিতেন। শ্বশুর বাড়িতে একদিন যখন জানতে পারলেন তিনি স্কুলের সামনে ছেলের সাথে দেখা করেন ছেলের স্কুলে যাওয়াই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। 

আজ অনেক বছর পেরিয়েছে। এই মায়ের ছেলের বয়স ২৬বছর। এখনো তিনি নতুন করে সংসার করেননি। ছেলে বড় হয়েছে। সব কিছু বুঝে। মায়ের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। কিন্তু ছেলেকে তার মতো করে মানুষ করতে পারেননি বলে তার দুঃখ হয়। 


চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত সাহিত্য বিষয়ক ম্যাগাজিন সবুজের মেলার ৩০তম সংখ্যায় প্রকাশিত 

Saturday, January 28, 2012

একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প

রফিকুল ইসলাম সাগর

নিজাম আর সুমি দু'জন খালাতো ভাই বোন I দু'জন দুজনকে অসম্ভব ভালবাসে I এ বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানে না I ভবিষ্যতে নিজেদের সংসার নিয়ে দুজনের চোখে অনেক স্বপ্ন I সুমির বাবা-মা ওদের বিয়েতে রাজি হবে কিনা তা নিয়ে দু'জন খুব চিন্তিত I সুমিদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা নিজামদের চেয়ে অনেক ভাল I  সুমি ঢাকায় থাকে আর নিজাম গ্রামে I সুমি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে,নিজাম খুব বেশি পড়াশুনা করেনি I নিজামের মধ্যে এমন কিছু আছে যা সুমিকে নিজামকে ভালবাসতে বাধ্য করেছে I সুমিকে এক নজর দেখার জন্য নিজাম  ক'দিন পর পর খালার বাসায় বেড়াতে চলে আসে I দু'জন দুজনকে কাছে পেয়ে খুব খুশি হয় I অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা,ইশারায় কথা বলা I কাছে পেলে দুজনের ভয়টা আরও বেড়ে যায় I 
-আমরা দু'জন সারাজীবন এক সাথে থাকতে পারবো তো...?     
করুন সুরে উত্তর দিলো নিজাম পারবো তুমি কোনও চিন্তা কর না I এর চেয়ে বেশি তার আর বলার কিছুই নেই I  রাত শেষ হলে সকালে নিজাম গ্রামে চলে যাবে,অনেকদিন দেখা হবে না কথা হবে না সুমির সাথে I সকালে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সময় নিজামকে সুমি বললো আমাকে তাড়াতাড়ি তোমার কাছে নিয়ে যাও I সুমিকে কাছে পেতে হলে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে I নিজের পরিচয় বানাতে হবে I  নিজাম ভাল করেই জানে বেকার অশিক্ষিত ছেলের কাছে কোনও বাবা-মা তার মেয়েকে বিয়ে দিবেনা I বিয়ের কথা বলবেই বা কোন মুখে I নিজাম সিদ্ধান্ত নিল বিদেশে যাবে I সুমিও রাজি হলো I বড় চাচার সহযোগিতায় সব কিছু ঠিক হলো I নিজাম দুবাই যাবে বিমান বন্দরে সবাই এলো মা-বাবা,বড় বোন,বড় চাচা I সুমির আসার কথা ছিল কিন্তূ আসেনি I সুমির ছোট ভাই নিজামের হাতে একটা চিঠি দিয়ে বললো এটা অপু দিয়েছে I বিমানে বসে চিঠিটি খুলল নিজাম I লেখা ছিল......
তোমার দুরে চলে যাওয়া দেখতে আমার খুব কষ্ট হবে I তাই তোমাকে বিদায় জানাতে আসলাম না I সব কিছু কেমন জানি অন্ধকার মনে হচ্হে I আপনজন গুলো কাছে আছে তবুও নিজেকে একা মনে হচ্হে I তোমাকে ছেড়ে থাকতে আমার খুব কষ্ট হবে I তুমি ফিরে এসো আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব I 
ইতি,
তোমার আমি I 
 মনের অজান্তে চোখে জল আসে গেল I  মনে মনে বললো জীবনে যদি টাকা পয়সার প্রয়োজন না থাকতো তাহলে কত ভালই না হত I মানুষ মানুষের মধ্যে বেবধান থাকতো না I ধনী গরিবের এই পার্থক্য থাকতো না I দুবাই পৌছে প্রথম ফোন করলো সুমি কে I সুমির সাথে কথা বলে তৃপ্তি অনুভব করলো নিজাম I নিমিষেই যেন দুঃখ বেদনা দূর হয়ে গেল I প্রতিদিন ফোনে কথা হয় দু'জনের I দিন অতিক্রম হওয়ার সাথে সাথে স্বপ্ন গুলো যেন কাছে চলে আসছে I এখন শুধূ অপেক্ষা I এক বছর পর নিজাম সুমিকে জানালো সে দেশে ফিরে আসছে I পারিবারিক ভাবে দুই পরিবারের কথা হলো I সবাই রাজি I স্বপ্ন গুলো এখন সত্যি হওয়ার পথে I দু'জন কাছে থাকবে,সুখে থাকবে ও ভাল থাকবে I রাতের বিমানে ঢাকা আসবে নিজাম I আনন্দের শেষ নেই I ওদিকে সুমি এতদিন পর তার পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে দেখবে I মনে অনেক কৌতুহল I প্রাণ ভোরে দেখবে মনের মানুষটিকে I শেষ সময়ে আসে প্রতিক্ষার প্রহর যেন আর কাটেনা I নিজাম সুমিকে জানিয়ে দিলো আমি বিমান বন্দরে যাওয়ার জন্য টেক্সীতে উঠেছি I আমার মোবাইল এখন বন্ধ করে দিবো I দেশে এসে তোমার সাথে সরাসরি কথা হবে I তোমরা ভোর ৬ টায় ঢাকা বিমান বন্দরে আমার জন্য অপেক্ষা কর I 
ভোরে সবার অপেক্ষা I সবার দৃষ্টি গেইট এর দিকে I মনে প্রশ্ন এখনো বের হচ্ছে না কেন? অপেক্ষা.....অপেক্ষা....অপেক্ষা......সকাল ৭ টা,তারপর ৮ টা,এভাবে ৯ টা,১০ টা,১১ টা I নিজামের কোনও খোজ নেই I ফ্লাইট মিস হইনি তো I দুবাই থেকে বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের সেই বিমানটি সঠিক সমেয়েই এসেছে কিন্তূ নিজাম আসেনি I সবাই খুব চিন্তায় পড়ে গেল I ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলো কিন্তূ মোবাইল তো বন্ধ I সুমি খুব ভয় পাচ্ছিল I এদিক থেকে ওদিক ছুটা ছুটি করছিল I কিছুতেই মন স্থির করতে পারছিল না I চোখের জল আটকিয়ে রাখা যাছিল না I পরদিন সকালে খবর এলো টেক্সীতে করে বিমান বন্দরে আসার পথে নিজাম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় I তিনদিন পর নিজামের লাশ আনা হলো I   নিজাম সুমির কাছে এলো ঠিকই কিন্তূ জীবত না মৃতI