Showing posts with label প্রবন্ধ. Show all posts
Showing posts with label প্রবন্ধ. Show all posts

Tuesday, February 16, 2016

মালয়েশিয়ার 'ইন্দুরের' গল্প

রফিকুল ইসলাম সাগর
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ইন্দোনেশিয়ানরা 'ইন্দুর' নামে ব্যাপক পরিচিত। অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের অবস্থার দিক থেকে মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে এগিয়ে। তবে শুনেছি, চলচ্চিত্র ও খেলাধুলায় মালয়েশিয়ার চেয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ভালো। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের মতো ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ। দুই দেশের মানুষ শারীরিক গঠন, আকার, গায়ের রঙসহ সব মিলিয়ে দেখতে একই রকম। যে কারণে বোঝার উপায় নেই_ কে মালয়েশিয়ান আর কে ইন্দোনেশিয়ান। শুধু পরিচয় প্রকাশ করলেই জানা যায়। দু'দেশের ভাষাও একই রকম। 
সিঙ্গাপুর আর থাইল্যান্ডের মানুষদের কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়া আসার প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। তবে মালয়েশিয়ায় আছে প্রচুর সংখ্যক ইন্দোনেশিয়ান। স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় প্রতিদিনই ইন্দোনেশিয়ানরা মালয়েশিয়ার বর্ডার অতিক্রম করে বৈধ-অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করে। মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটা কথা বলাবলি করে, 'অবৈধ ইন্দোনেশিয়ানদের মালয়েশিয়ার পুলিশ গ্রেফতার করে সকালের লঞ্চে ফেরত পাঠালে রাতে আরেক লঞ্চে মালয়েশিয়া চলে আসে।' 
এবার আসা যাক একটি গল্পে। এক বাংলাদেশি ছেলে ইন্দোনেশিয়ান মেয়ের প্রেমে পড়ে। প্রথমদিকে ছেলেটার কাছে নিজের দেশীয় পরিচয় গোপন করে মেয়েটি নিজেকে মালয়েশিয়ান হিসেবে পরিচয় দেয়। পরবর্তীকালে ছেলেটা যখন জানল মেয়েটা ইন্দোনেশিয়ান, তখন দু'জনের মধ্যে হৃদয় দেওয়া-নেওয়া হয়ে গেছে। ছেলেটা আরও জানতে পারে, মেয়েটির মালয়েশিয়া থাকার বৈধ ভিসা নেই। যদিও বাংলাদেশি ছেলেটাও অবৈধ। ছেলেটা ভেবেছিল, মালয়েশিয়ান মেয়ের কারণে এ দেশে স্থায়ীভাবে থাকার একটা উপায় হবে। কিন্তু সে পড়ল কিনা ইন্দোনেশিয়ান মেয়ের প্রেমে। একেই বুঝি বলে ভাগ্য। প্রেম হওয়ার পর দু'জন একসঙ্গে একই বাড়ির একটি ঘরে স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতে শুরু করে। দু'জনে কাজ করলেও ছেলেটা একাই দু'জনের খাওয়া-দাওয়া, বাড়ি ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করে। মেয়েটা যা বেতন পায় পুরোটাই ইন্দোনেশিয়ায় নিজের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। আর ছেলেটা তিন মাস বাংলাদেশে মা-বাবার কাছে টাকা পাঠায় না। একদিন গাঁয়ের সহজ-সরল মা ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় জানতে চান_ 'বাবা, কোম্পানি কি বেতন দেয় না? কাজ কি ঠিকমতো করিস না? টাকা পাঠাস না কেন? মায়ের প্রশ্নে ছেলে উত্তর দেয়_ 'মা টাকা তো কামাই করি; সব টাকা ইন্দুরে খেয়ে ফেলে।' এবার মা আশ্চর্য ভঙ্গিমায় বলেন_ 'কস কী বাবা! ইন্দুরে খেয়ে ফেলে!' ছেলের উত্তর_ 'হ মা। ইন্দুরে খেয়ে ফেলে।' মায়ের পাল্টা প্রশ্ন_ 'এত ইন্দু-র-র-র-র-র? ইন্দুর কি অনেক বড়? ওষুধ দিলে মরে না?' ছেলের উত্তর_ 'হ মা। অনেক বড় ইন্দুর। ওষুধ দিলেও মরে না।' 
এবার মা ছেলেকে সান্বস্ননা দেন_ 'থাক বাবা; মন খারাপ করিস না। এত কষ্টের টাকা; এখন থেকে টাকা-পয়সা সাবধানে রাখিস।' ছেলে ঠিক আছে বলে লাইনটা কেটে দেয়।

Wednesday, May 13, 2015

আমার লেখালেখি

রফিকুল ইসলাম সাগর
লেখালেখি করে জীবন চলে না, এই কথা মেনে নিয়েই লেখালেখিতে হাত বাড়িয়েছিলাম। এ পর্যন্ত বন্ধু-বান্ধব, আত্বীয়-স্বজন ছাড়াও নানান জনে নানান রকম কথা বলেছে। কে কী বলল না বলল আমার কিছু যায় আসে না। 'এগিলা কইরা কোনো লাভ নাই, কি হয় লেইখা!,'' এমন কথা শুনে কখনো কখনো হতাশ হয়েছি, ভয় পেয়েছি। কিন্তু এই লেখালেখির কারণে যখন কোনো ভক্তের চিঠি আমার ঠিকানায় এসেছে, চিঠি পড়ে অনেক খুশি হয়েছি। আবার যখন কোনো ভক্তের ফোনে আমার মোবাইলের রিংটোন বেজে উঠেছে, কথা বলে সাহস পেয়েছি। নতুন করে আশা জেগেছে। এ পর্যন্ত বড় বড় যতো লেখকের সান্নিধ্য পেয়েছি সবার উপদেশের তালিকায় একটা উপদেশ ছিলই, 'বেশি বেশি বই পড়তে হবে'। ভালো লিখতে হলে বেশি বেশি বই পড়তে হবে, একথা মানতেই হবে ভালো লিখতে হলে বইপড়া বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি লেখা যে বিষয়ে হবে সে বিষয়ে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

বইয়ের ক্ষেত্রে আমি খুব যত্নবান। আমার সংগ্রহে থাকা দশ বছর পুরনো বই গুলো যে কেউ দেখলে বলবে নতুন কেনা। যখন স্কুলে পড়তাম তখনো বছর শেষে অন্য সহপাঠীদের বই পুরান হয়ে গেলেও আমারটা থাকতো নতুনের মতো। কেউ যখন পড়ার জন্য আমার কাছে বই ধার চায় দিতে মায়া লাগে। বই দিলে কারো কারো কাছ থেকে আর ফেরত পাওয়া যায় না, কেউ কেউ হারিয়ে ফেলে নয়তো দেখা যায় আমার অনুমতি ছাড়া তার কাছ থেকে আরেকজন নিয়ে গেছে। কেউ ফেরত দিলেও বই হাতে পেয়ে দেখা যায় অযত্ন অবহেলায় ছিড়ে গেছে। কাউকে বই দেয়ার পর যদি কোনদিন তার বাড়ীতে গিয়ে দেখি বইটি নোংরা জায়গায় রাখা, বইয়ের উপর ধুলো পড়ে আছে তখন যেন আমার ভিতরে পুড়ে। যখন এমন কাউকে পেয়েছি যার ভিতরে বই পড়ার চরম আগ্রহ, যার ভিতরে বই পড়ার মারাত্নক নেশা অনুভব করেছি তার হাতে আমার সংগ্রহে থাকা অসংখ্য বই তুলে দিয়েছি। তাদের হাতে নিজের জমানো বই তুলে দিতে একটুও খারাপ লাগেনি বরং অসীম আনন্দ অনুভব করেছি।

'লেখক' এই পরিচয় যে কোনো পরিচয় না এটা কিছু কিছু মানুষ সব সময় মনে করিয়ে দেয়। আমার মনে হয় যারা এমন করে তারা একজন লেখককে হতাশ করার জন্য এবং হিংসায় এই কাজ করে কিন্তু সেটা বুঝতে দেয় না। এই মানুষ গুলোর কথায় যখন নিজেকে পরাজিত মনে হয় তখন, ক'জন মানুষের অনুপ্রেরনায় আমি আবার স্বপ্ন দেখি। তারা যখন বলেন, 'লিখতে থাকো একদিন ফলাফল পাবে।' তখন স্প্রিড আরো বেড়ে যায়। গত বই মেলায় একজন লেখকের সাথে পরিচয় হয়েছিল। তার দুইটি বই প্রকাশ হয়েহে। কিছুদিন আগে সেই লেখক আমাকে ফোন করলেন, আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি দেখা করলাম। নানান বিষয়ে কথার ফাঁকে তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আইচ্ছা ভাই আপনি যে পত্রিকায় লেখেন এর জন্য কত টাকা দিতে হয়? তার প্রশ্নে আমি অবাক হলাম! তাকে বললাম, ভাই আপনি কোনদিন পত্রিকায় লেখেন নি? বলল, না! তারপর পত্রিকায় লেখা কিভাবে দিতে হয় জানতে চাইল। তার এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনার তো দুইটা বই প্রকাশ হইছে বই গুলো কী টাকা দিয়ে প্রকাশ করেছেন? বলল, হুম। এরপরে তার বই প্রসঙ্গে আর কথা বললাম না। তাকে পত্রিকায় কিভাবে লেখা পাঠাতে হয় বুঝিয়ে দিলাম। এটাও বললাম, 'পত্রিকায় লেখা মানসম্মত হলেই ছাপে, টাকা দেয়া লাগে না, শুধু তাই নয় লেখার জন্য অনেক লেখকদের সম্মানীও দেয়া হয়।' আমার মতে একজন প্রকিত লেখক সম্মানী পাওয়ার আশায় লেখেনা। লেখালেখি এক প্রকার নেশা। লেখা প্রকাশ হওয়ার যে আনন্দ তা কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া যাবে না। তবে জীবন সংসারের প্রয়োজনে সম্মানী প্রয়োজন। এবং সম্মানী লেখকের উত্সাহ বাড়ায়। লেখালেখিতে হাত বাড়ানোর পর ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।লেখালেখি করে সম্মানী খুব কম লেখক পায়। এ সম্মানী পেতে একজন লেখককে কতো কষ্ট করতে হয়, কতো সময় অপেক্ষা করতে হয় তা শুধু লেখকই জানে। অনেকে সম্মানী দেয়ার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। দেশে নিজের টাকা খরচ করে বই প্রকাশ করা লেখকেরঅভাব নেই। এমন বই প্রকাশ করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। টাকা দিয়ে তো সবাই বই প্রকাশ করতে পারে। যারা রাতারাতি লেখক হতে চায়, তারা রাতের আধারেই আবার হারিয়ে যায়। এ সময়ের অনেক লেখক লেখার আগেই হিসেব করে সম্মানী কত দেয়া হবে। মানসম্মত লেখা না লিখলে যে ছাপাই হবে না সেই হিসেবের আগেই সম্মানীর হিসেব করা ঠিক না।লেখালেখি এমন একটা পেশা যার ফল পেতে অপেক্ষা করতে হয়। ধৈর্য ধারণ করে লেখা চালিয়ে গেলে ভালো ফলাফল আসবে বলে বিশ্বাস করি।    

Wednesday, April 29, 2015

প্রথম ভোট গ্রহণ অভিজ্ঞতা!

রফিকুল ইসলাম সাগর 

এই প্রথম নির্বাচন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম। আমি ছিলাম, মহাখালী টি এন্ড টি স্কুল ভোট কেন্দ্রের ২০৬ নম্বর কক্ষে। ২০ ওয়ার্ডের এই কেন্দ্রে ছোটখাটো কিছু অনিয়ম ছাড়া সুষ্ঠু ভাবেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে আমি নির্বাচনের আগে নানান রকম কথাবার্তা শুনেছিলাম। কথাবার্তা ছিল এমন, 'নির্বাচনের দিন এই কেন্দ্রে গন্ডগোল হবে। অনেক জাল পরবে। মাইর খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।' সকালে কেন্দ্রে প্রবেশ করার আগে হটাত একটি উড়ন্ত খবর পেলাম। তা হলো, অমুক দল প্লান করেছে প্রতি কেন্দ্রে এক ঘন্টা করে জাল ভোট দিবে। এই কেন্দ্রে নাকি দুপুরে এক ঘন্টা জাল ভোট দিতে তাদের একটা গ্রুপ ঢুকবে। 

সব মিলিয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। ভিতরে কোনো ঝামেলা হলে যেন সাথে সাথে কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাইরে এসে খবর দেই। এমনটা করতে বলা হলো আমাদের। কিছুটা আতঙ্ক মনোভাব নিয়ে কক্ষে বসলাম। তার আগে প্রথমে একজন নির্বাচন অফিসারের কাছে সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ দিয়ে তার স্বাক্ষর করা একটি আইডি কার্ড পেলাম। এখানে যারা ভোট দিতে পারবে তাদের সকলের তথ্যের একটি তালিকা শিট ছিল আমার কাছে। সকাল ৮টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ। ঘন্টাখানেক পর একজন নির্বাচন অফিসার এলেন। আমাদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, সব ঠিক আছে তো? উত্তর দিলাম হ্যা। তারপর তিনি বললেন, সমস্যা হলে কিন্তু আপনারাই দেখবেন। আমরা কিন্তু কিছু করতে পারব না, আপনারা এই এলাকার স্থানীয়। এসব কথা বলে তিনি চলে গেলেন। আমার পাশে অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকে যারা পোলিং এজেন্ট ছিল তারা সবাই আমার পরিচিত। এলাকার ভাই ব্রাদার। উত্সব মুখর পরিবেশে কাটছিল সময়।

আগেরদিন জেনেছিলাম কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবেনা। তাই সকালে মোবাইল বাড়ীতে রেখে এসেছিলাম। কিন্তু দেখলাম অন্য সবাই মোবাইল সঙ্গেই এনেছিল। এবং কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করার ব্যাপারে কোনো বাধা ছিলনা। কক্ষে একজন নির্বাচন অফিসার এসে বলেছিলেন, যারা মোবাইল সাথে এনেছেন মোবাইল বন্ধ করেন। কিন্তু কেউ মোবাইল সত্যিই বন্ধ করল কিনা এ বিষয়ে কোনো কার্যকরী ভূমিকা ছিলনা। শুধু বলেই দায় শেষ। কেন্দ্রের ভেতরে নিরাপত্তার জন্য ছিল পুলিশ ও আনসার। পুলিশের চেয়ে আনসারের সংখ্যা ছিল বেশি। কেন্দ্রের ভেতরে সবার অবাধ মোবাইল ফোন ব্যবহার দেখে মনে হয়েছে, মোবাইলটা বাড়ীতে রেখে না আসলেও পারতাম। একজন ভোটার ভোট দিতে কক্ষের ভেতর ঢুকলে আমার কাছে থাকা তালিকা শিট দেখে সেই ভোটারের তথ্য মিলিয়ে যাচাই করা সে আসল ভোটার কিনা। মিলিয়ে সব ঠিক থাকলে তার তথ্যের স্থলে কলম দিয়ে দাগ কাটা। তার মানে এর ভোট দেয়া হয়েছে। এ ছিল আমার দায়িত্ব।

খেয়াল করলাম, ভোটারকে ব্যালট পেপার দেয়ার পূর্বে তার পেছনে অফিসার একটি সরকারী সিল লাগান। একই সিল ব্যালট পেপার ছিড়ে যে অংশ অফিসারের কাছে থাকে তাতেও লাগান। এবং সেই অংশে ভোটারের ভোট নম্বর লিখে দেন ও ভোটারের টিপসই অথবা স্বাক্ষর রাখেন। তারপরই ভোটার ব্যালট পেপার পান ভোট দেয়ার জন্য। দুপুর ১২টার সময় ভোটারদের ভিড় লেগে যায়। তাদের সামাল দিতে হিমসিম খেতে হয়। ভোটাররা হইচই শুরু করেদিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে একটু ভয় পেয়েগিয়েছিলাম। মনে মনে আতঙ্ক বিরাজ করছিল এটা আবার অন্যকোন নজিরা নাতো! জাল ভোট দেয়ার গ্রুপ ঢুকল নাকি? এরকম ভাবছিলাম। কিন্তু না একটুপর সুষ্ঠুভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেল। এরই মধ্যে আমাদের সরবরাহকারী খোঁজখবর নিতে এলেন সব ঠিক আছে তো! আমাদের কিছুর প্রয়োজন আছে কিনা এসব জানতে। তাকে জানালাম সব ঠিক আছে। তার পরপরই একজন প্রার্থী এলেন খোঁজখবর নিতে। এভাবেই পেরিয়ে যায় গোটা দিন। বিকেলে যখন বের হলাম বাইরে এসে জানলাম, অসংখ্য ভোট কেন্দ্রে নাকি জাল ভোট দেয়া, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া সহ নানান গন্ডগোল হয়েছে। এসব কারণে দুপুরেই বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। এমন খবর জানার পর কিছুটা অবাকই হলাম এই ভেবে যে, তাহলে এই কেন্দ্রে এতটা সুষ্ঠু নির্বাচন হলো কিভাবে!


Wednesday, April 22, 2015

মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা

ব দ লে যা ও ব দ লে দা ও মি ছি ল


রফিকুল ইসলাম সাগর 
‘বদলে যাও বদলে দাও মিছিল’-এ দেশের বিভিন্ন জরুরি সমস্যা ও নির্বাচিত তিনটি ইস্যু নিয়ে অব্যাহত আলোচনা হচ্ছে। আজ নৌ-দুর্ঘটনার বিষয়ে বদলে যাও বদলে দাও মিছিল ব্লগের নিয়মিত লেখক সাঈদ চৌধুরীর দেশীয় বাস্তবতা ও সমাধানমূলক নির্দেশনা এবং রফিকুল ইসলাম-এর মালয়েশিয়ার নৌপথ-ব্যবস্থাপনা দেখার অভিজ্ঞতার লেখা ছাপা হলো।

মালয়েশিয়ার কুয়ালা পারলিস ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে করে গিয়েছিলাম লাংকাউই। নৌপথে সে দেশের উন্নত ব্যবস্থা দেখে আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি। কত আধুনিক, কত বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থাপনা নৌপথেও থাকতে পারে! সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা, তারপর আর কোনো ফেরি বা লঞ্চ নৌপথে চলাচল করে না। এই নিয়ম মালয়েশিয়ায় একটি শক্তিশালী কার্যকর আইন বলা যায়। কোনো নৌযান সেই আইন লঙ্ঘন করে না। টিকিট কিনে লঞ্চে ওঠার আগে একটি রেজিস্ট্রেশন খাতায় আমার নাম-ঠিকানা লিখে দিলাম। লঞ্চে ওঠার আগে নিজের নাম-ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর কারণ, যদি কোনো রকমের দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে কে কে এই লঞ্চটিতে ছিল, তা সহজেই জানা যাবে—অনেকটা বিমানের মতো। স্থানীয় মুদ্রা ১৮ রিঙ্গিত দিয়ে যে টিকিটটি কিনেছিলাম, তার সঙ্গে সাত রিঙ্গিতের একটি জীবনবিমা করা ছিল। যদি কোনো রকমের দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ বহন করবে। দুর্ঘটনা-পরবর্তী সময়ে উদ্ধারের জন্য হেলিকপ্টার ও জাহাজ মজুদ থাকে সব সময়। যদিও দেশটিতে নৌ-দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। মোট আসনসংখ্যার অতিরিক্ত একজন যাত্রীও বহন করতে দেখিনি। লঞ্চের ভেতরের পরিবেশ দেখেও মুগ্ধ হয়েছি। কী ঝকঝকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। যাত্রীদের বসার আসনগুলো ঠিক উড়োজাহাজের আসনের মতো। প্রত্যেক যাত্রীর জন্যই লাইফ জ্যাকেট সংরক্ষিত আছে। দুর্ঘটনা ঘটলে কী করতে হবে, তা লঞ্চটি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিভির পর্দায় সবাইকে দেখানো হলো। যে লঞ্চটিতে করে গিয়েছিলাম, তার নির্মাণশৈলী দেখে বোঝা গেল ভেতরে পানি ঢোকার কোনো উপায় নেই। নীল সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে লঞ্চটি গেলেও আমার একটুও ভয় লাগেনি। সার্বিক ব্যবস্থাপনাই এই নির্ভয় জুগিয়েছে। সমুদ্রপথে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল। তা ছাড়া চালকের জন্য সুন্দরভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। চালকের দক্ষতার বিষয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই। লঞ্চে কর্তব্যরত প্রত্যেক কর্মচারী যাত্রীদের প্রতি আন্তরিক, যেন আমাদের পরিবারের কোনো সদস্য। লাংকাউই ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর আবার গণনা করা হলো সবাই ঠিকমতো এসেছে কি না, তা জানার জন্য। এই ভ্রমণে বুঝতে পেরেছিলাম, কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তার ব্যাপারে কতটা সচেতন। তাই আমাদের মাননীয় নৌমন্ত্রী মহোদয়, আপনাকে বিনীতভাবে বলতে ইচ্ছা করে, আমাদের দেশ কি পারে না এভাবে নৌপথ পরিচালনা করতে? চেয়ার থেকে উঠে একটু ঝেড়ে দাঁড়ান, দেশের মানুষের জীবনরক্ষায় একটু ইচ্ছা পোষণ করুন না! সৎ মন নিয়ে সৎ উদ্যোগ নিলে আমরা দেশবাসী কত আন্তরিক, সেটার প্রমাণ পেয়ে যাবেন। 

প্রতিবাদী মেয়েটিকে সালাম

রফিকুল ইসলাম সাগর
রামপুরা থেকে মোটরসাইকেলে করে হাতিরঝিলের রাস্তা দিয়ে ফিরছিলাম, তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর দেড়টা। গাড়ির চলাচল খুব একটা ছিল না। মানুষের চলাচলও খুব কম। চলতি পথে লক্ষ্য করলাম রাস্তার ডান পাশে ফুটপাতের ওপর একটি মেয়ে একটি ছেলের শার্টের কলার চেপে ধরে আছে, ছেলেটি পালানোর চেষ্টায় মেয়েটিকে আঘাত করছে। আমি তাৎক্ষণিক মোটরসাইকেল থামিয়ে এগিয়ে যাই সেখানে। মেয়েটির বয়স ১৩ কি ১৪ বছর হবে। ছেলেটির বয়স ১৬ কি ১৭ হবে।
সম্ভবত মেয়েটির বাড়ি আশপাশেই, কোচিং থেকে বাড়ি ফিরছিল। আমি কাছে গিয়ে মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই আঘাতের চিহ্ন।
মেয়েটিকে ছেলেটা থাপ্পড়-ঘুষি মেরেছে এগুলো তারই চিহ্ন। এত আঘাত সহ্য করেও মেয়েটি ছেলেটির কলার চেপে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল যদি কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। আমি মেয়েটিকে প্রশ্ন করলাম কী হয়েছে। সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে অনেক জেদে আমাকে বলল_ আঙ্কেল খুব অশ্লীল... একটা কাজ করেছে। কথাটা বলতে অনেক লজ্জা পাচ্ছিল, তারপরও বাচ্চা মেয়েটি সাহস করে কথাটা আমাকে বলেছে। আমি অবাক হলাম। প্রিয় পাঠক যে অশ্লীল কাজ করার কথা মেয়েটি আমাকে বলেছে, তা এই লেখায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছেলেটি কাজটি করে পালাতে চেয়েছিল কিন্তু প্রতিবাদী, খুব জেদি মেয়েটির আত্মসম্মানে লাগে।
সে কিছুতেই মানতে পারেনি, তাই সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটির কলার চেপে ধরে। ছেলেটি সেখান থেকে পালানোর জন্য মেয়েটিকে উপর্যপুরি আঘাত করেও মেয়েটির হাত থেকে মুক্তি পায়নি। আমি মেয়েটিকে অনুরোধ করি, তাতেও লাভ হয়নি। মেয়েটি শুধু একটি কথাই বলছিল, আঙ্কেল আপনার মোবাইল থেকে আমার ভাইয়াকে একটা ফোন দেন। ছেলেটির দিকে তাকিয়ে আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না তাকে কী শাস্তি দেওয়া যায়। কত নিচু মানসিকতা থাকলে এমন কাজ করা যায়, তাই ভাবছিলাম। শরীরের সব শক্তি প্রয়োগ করে ছেলেটাকে কয়টা থাপ্পড় দিলাম। এরই মধ্যে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক এগিয়ে এসে ঘটনা কিছু বুঝতে পেরে বললেন_ 'এসব পোলাপানের লাইগা মা-বোনরে ঘর থেকে বের হইতে দিতে ভয় করে।' মেয়েটি তার সিদ্ধান্তে অটুট, কিছুতেই ছেলেটাকে যেতে দেবে না। আমি তার বড় ভাইকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বললাম। মেয়েটির ভাই এলো, সঙ্গে আরও কয়জন ছিল। আমার জরুরি কাজ থাকায় মেয়েটির ভাই সেখানে পেঁৗছার পর চলে এলাম। ইভ টিজিং, নারীর শ্লীলতাহানি ও নারী নির্যাতন এরকম অনেক ঘটনা শুনেছি। কিন্তু এরকম ঘটনা সামনাসামনি আর কোনোদিন পড়েনি। ভাবতে অবাক লাগছিল, আমাদের দেশের নারীরা কতটা অনিরাপদ। নারীদের নিরাপত্তায় আমরা কত দুর্বল। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও এমন ঘটনা ঘটছে।
বেশিরভাগ নারী এমন পরিস্থিতিতে লজ্জায় কাউকে কিছু বলে না, প্রতিবাদ করে না। এতে এমন ছেলেদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে। স্যালুট সেই মেয়েটিকে, স্যালুট তার সাহসিকতাকে, স্যালুট তার মা-বাবাকে।
তার সেই প্রতিবাদ প্রমাণ করে সে ভালো পরিবারের মেয়ে। অবশ্যই সেই মা-বাবা আদর্শ শিক্ষা দিয়েছেন তাদের মেয়েকে। আর ধিক্কার সেসব ছেলেদের, যারা রাস্তায় এমন কাজ করে। ধিক্কার সেসব মা-বাবাকে, যারা তাদের ছেলেকে কিছুই শিক্ষা দেন না, নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। যে কারণে ছেলে এমন কাজ করে বেড়ায়।


২৮ মে ২০১৩, সমকালের নারীস্থান পাতায় প্রকাশিত

সোনার বাংলাদেশ


-রফিকুল ইসলাম সাগর 
আমার দেশ সকল দেশের চেয়ে সেরা। আমরা অনেকে বলে থাকি বাংলাদেশ ভালো না। এছাড়া বিদেশি দেশের প্রশংসা করি। কেউ কেউ মনে করেন বাংলাদেশে জন্ম না হয়ে বিদেশের কোনো দেশে জন্ম হলে ভালো হতো। যাদের এমন মন-মানসিকতা তাদের মধ্যে কত জন দেশ ছেড়ে বিদেশ গিয়ে যাচাই করেছেন যে, নিজের দেশের চেয়ে বিদেশ ভালো? যদি যাচাই করতে যান তাহলে কোনো না কোনো দিন কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনাকে বলতেই হবে বাংলাদেশই ভালো। আমরা আমাদের দেশের মানুষেরা বিদেশি দেশগুলো নিয়ে যেভাবে ভাবি সেই ভাবনাটা যদি নিজের দেশের জন্য কাজে লাগাই তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। কিন্তু তা সম্ভব নয় কারণ, আমরা সবাই বিদেশে যেতে চাই, ডলার আয় করতে চাই। সমস্যা সব দেশেই থাকে। কোনো দেশে কম কোনো দেশে বেশি। সমস্যা সমাধান না করে পালিয়ে গেলে সমস্যা আরও বাড়ে। আমরা দেশের মানুষ চাইলে দেশটাকে নিজের মতো করে গড়তে পারি। কিন্তু তা আমরা করব না। আমরা চাই নিজের উন্নতি, দেশের উন্নয়ন না। আমরা অনেকে অনেক নীতিকথা বলি। দুর্নীতির জন্য দুর্নীতিবাজকে গালাগাল দেই। কিন্তু আজ আমাকে যদি সেই একই আসনে বসানো হয় তাহলে আমি ঠিকই সব নীতিকথা ভুলে দুর্নীতিবাজ হয়ে যাব। আমরা এমনই। আমরা বাংলাদেশের মানুষেরা কাজকে সম্মান করতে জানি না, তাই আমাদের কর্মসংস্থানের অভাব। যারা প্রবাসী শুধু তারাই বলতে পারবে, সেখানে তাদের কত কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। কত দুঃখ-যন্ত্রণা বুকে চাপা রেখে দিনযাপন করতে হয়। দেশের মানুষগুলোর ধারণা বিদেশ মানেই আনন্দ আর রাজকীয় জীবন-যাপন সঙ্গে বস্তা বস্তা টাকা। এ রকম কঠিন পরিশ্রম বাংলাদেশে থেকে করলে আয়ের পরিমাণ সমান না হলেও খুব একটা ব্যবধান হবে না।
খুব বেশি দেশে আমি যাইনি। চার-পাঁচটা দেশ ভ্রমণ করেছি। ছোটবেলা থেকে একটা কথা জেনে এসেছি, বাংলাদেশ সোনার বাংলাদেশ। আমার মনে প্রশ্ন জাগত, সোনার বাংলাদেশ কীভাবে? নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশ ভ্রমণ করে আমি এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। বিদেশি দেশগুলোতে মানুষের জীবন-যাপন রোবটের মতো। আমাদের মতো স্বজনদের জন্য তাদের মায়া নেই। আমাদের দেশের আবহাওয়া, মাটি, নদী, ঐতিহ্য সবকিছু মিলিয়ে বলতেই হয়- বাংলাদেশ আসলেই সোনার বাংলাদেশ।


সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ''দেশের জন্য ভালোবাসা'' সংখ্যায় প্রকাশিত

একটি ছবির পেছনের গল্প

রফিকুল ইসলাম সাগর

ছবিতে দুজন ব্যক্তি মহাখালীর একটি নোংরা ঝিলের পানিতে গরুর নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করছে। প্রতিদিন খুব ভোরে তাদের এখানে এভাবেই নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার করতে দেখা যায়। লক্ষ্য করেছি, সকালে লোক সমাগম হওয়ার আগে আগেই তাদের ধোয়ার কাজ শেষ হয়ে যায়। প্রথম প্রথম মনে করতাম এগুলো ধুয়ে তারাই হয়তো খায়। মনের কৌতূহল মেটাতে খোঁজখবর নিয়ে মিলল অন্যরকম উত্তর। এ দুজন মহাখালীর একটি বস্তিতে থাকে। প্রতিদিন ফজরের নামাজের আগের সময়টাতে তারা যায় মহাখালী বাজারের কসাইখানায়। সেখানে গরু জবাই হওয়ার পর তারা কসাইদের কাজে সাহায্য করে। পানি এনে দেয়া, ঝাড়ু দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করা, অবশেষে কসাইখানা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা তাদের কাজ। বিনিময়ে পারিশ্রমিক হিসেবে তারা পায় গরুর নাড়িভুঁড়ি। এ নাড়িভুঁড়ি তারা ঝিলের নোংরা পানিতে পরিষ্কার করে ধুয়ে প্রতিদিন আশপাশের নির্দিষ্ট কয়েকটি হোটেল এবং পথের হালিমের দোকানে বিক্রি করে বলে কিছু বস্তিবাসী জানিয়েছে। রোববার বাদে এটা তাদের নিত্যদিনের ব্যবসা বলে খোঁজখবর নিয়েছি। এ নাড়িভুঁড়িই যখন খাবারের জন্য আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয় তখন দেখে কি বোঝার উপায় আছে_ এটা কোথা থেকে কীভাবে এসেছে।

আমরা আশপাশের হোটেল অথবা রেস্টুরেন্টে জীবনের প্রয়োজনে কখনও কখনও খেতে যাই। কারও কারও প্রতিদিন হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে হয়। এছাড়া পথ-ঘাটে এখানে-সেখানে বাইরের খোলা কত খাবারই তো আমরা খাই। এসব খাবার আগে-পরে আমাদের অনেকের মনে হরেক রকমের প্রশ্ন জাগে। খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, খাবারটি কোথায় রান্না হয়েছে, কীভাবে রান্না হয়েছে, কী দিয়ে রান্না হয়েছে, কোন পানিতে ধোয়া হয়েছে_ এ রকম নানান প্রশ্ন। সব প্রশ্নের উত্তর সব সময় মেলে না। অনেক ক্ষেত্রে একান্তেই প্রশ্ন জাগে। আবার একান্তেই মনকে কোনো রকমের বুঝ দিয়ে খেয়ে নিই, যা হওয়ার হবে_ এমন ভেবে খেয়ে নেয়ার মতো সাহস অনেক মানুষের মাঝেই নেই।

বাইরের খোলা খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন যতই উঠুক তারপরও আমরা থেমে নেই। সমাজে সবাই একশ্রেণীর মানুষ নয়। কিছু শ্রেণীর মানুষের বাইরের খোলামেলা খাবারই ভরসা। তাছাড়া এসব খোলা খাবারের মান যাচাই-বাছাই করার জন্য কেউ নেই। নেই কোনো বিধিনিষেধ। তাই যে যা ইচ্ছে তা খাওয়াচ্ছে। আর আমরাও খাচ্ছি।

- See more at: http://www.alokitobangladesh.com/editorial/2014/11/15/107050#sthash.N19PvHno.dpuf

আলোকিত বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত (১৪ নভেম্বর, ২০১৪ ২১:৩৬:৫৯)

Wednesday, March 11, 2015

জোড়াতালি দিয়ে লেখা


রফিকুল ইসলাম সাগর
সারাদিন কত রকমের ভাবনা মাথায় ঘুরপাক করে। কত কিছু লিখব লিখব করি। রাতে যখন লিখতে বসি তখন সব হারিয়ে ফেলি। আবার এমনো হয় এক লেখা শেষ না করতেই আরেক লেখার আইডিয়া মাথায় ঢুকে যায়। এটা ছেড়ে ওটা ধরে কোনটাই আর হয়না। কাকের রচনা শিরোনাম দিয়ে লেখা শুরু করলে তখন মাথায় ঘুরঘুর করে কুকুরের কথা। কাক বাদ দিয়ে কুকুর নিয়ে কয়েক লাইন লিখলে মনে হয় কুমির নিয়েও লেখা যায়। এরকম তিন প্রাণী নিয়ে একসাথে ভাবতে ভাবতে কোনোটা নিয়েই লেখা হয়না। এক রাতের কথা- রম্যগল্প লেখার ভাবনা নিয়ে লিখতে বসে যে যে আইডিয়া ঢুকে গেল তা একসাথে জোড়াতালি দিয়ে এই লেখা।


'লোকে বলে, কবি কবি ভাব
কবিতার অভাব। আমার হয়েছে সেই দশা
পাইনা খুঁজে আইডিয়া
লেখি তাই যাচ্ছে তাই লেখা।' 

নো রিড ওনলি কমেন্টস পাঠক 
বিভিন্ন ইন্টারনেট মাধ্যম বিশেষ করে ব্লগে এ টাইপের পাঠকদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এদের বৈশিষ্ট এবং গুণাবলী হচ্ছে তারা ব্লগে পোস্ট হওয়া সকল লেখা না পড়েই কমেন্টস করতে পারেন। এদের চেনার উপায় মাঝে মাঝে দেখতে পাবেন কোনো কোনো নারীর পোস্ট করা লেখায় কমেন্টস, ভাই লেখাটা দারুণ হয়েছে। আরো দেখবেন একজন লেখা পোস্ট করেছে স্বজনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে সেখানে কমেন্টস, ভালো লাগলো।
লেখাটির সাথে আরো কিছু লাইন যোগ করা যায় মনে হয়ে কথা গুলো হারিয়ে ফেললাম। খুজতে শুরু করলাম। খুঁজে পেলাম ঠিকই তবে তা অন্য কিছু। যা পেলাম তা হলো, কিছুদিন আগে লিখব লিখব করে না লেখা হারিয়ে ফেলা একটি আইডিয়া।

অনলাইন পত্রিকা
সেদিন এক ছোট ভাই আমার সাথে পরামর্শ করতে এলো, বিষয় অনলাইন পত্রিকা। প্রথমে আমাকে প্রশ্ন করলো, ভাই অনলাইন পত্রিকা খুলবো কিভাবে? আমি তাকে জানালাম, এ ব্যাপারে আমি সঠিক ভাবে কিছু জানিনা। তার কাছে আমি জানতে চাইলাম, অনলাইন পত্রিকা খোলার আগ্রহ হলো কেন? উত্তরে জানলাম, তার ক'জন বন্ধু একটি অনলাইন পত্রিকায় নাকি জব করে। তার সেই বন্ধুরা অনলাইন পত্রিকা থেকে পাওয়া সাংবাদিক পরিচয় পত্র দেখিয়ে সবখানে ভাব নেয়। এই ব্যাপারটা নিয়ে তার খুব হিংসে হয়। ছোট ভাইটির ধারণা তার যদি একটি সাংবাদিক পরিচয় পত্র থাকে সেও সব জায়গায় ভাব নিতে পারবে। এই কারণে সে ঠিক করেছে নিজেই অনলাইন পত্রিকা খুলবে এবং পরিচয় পত্র বানাবে। আমি তার এমন চিন্তা-ভাবনার কথা শুনে হতাশ হয়ে বললাম, অনলাইন পত্রিকা তো চাইলে তুমি খুলতে পারবা তবে শুধু খুললেই তো হবেনা। সেটা পরিচালনা করতে সাংবাদিক নিয়োগ করতে হবে। সব মিলিয়ে অনেক খরচ। প্রশ্ন করলাম, এই খরচ তুমি বহন করবে কিভাবে? উত্তরে ঘরে বসে একাই অনলাইন পত্রিকা পরিচালনার যে আইডিয়া তার কাছে জানলাম তা আর লিখলাম না।

বর্তমানে যেভাবে অনলাইন পত্রিকা বাড়ছে এভাবে চলতে থাকলে সবাই হয়ে যাবে সাংঘাতিক থুক্কু সাংবাদিক। পাঠক পাওয়া যাবে না। যারা সাংবাদিকের 'স' বোঝেনা তারা হচ্ছে অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক। এই হচ্ছে অবস্থা। এখন মানুষ বেশি ডিজিটাল হইয়্যা গেছে। ক্লিক করলেই যা ইচ্ছা হওয়া যায়। এই যেমন, ফেইসবুক প্রফাইলে ড্রাইভার হলেও লিখে দেয়া যায় গাড়ির শো-রুমের মালিক।

এই পুরো লেখাটির সাথে আরো কিছু জোড়াতালি দিতে চেয়েছিলাম। পরে আবার মনে হলো আরো জোড়াতালি দিলে যারা পড়বে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হবে। এতটুকুতেই না জানি কার কার বিরক্তির কারণ হয়েছি। ব্যাস! ভয়ে থেমে গেলাম।

Sunday, May 12, 2013

ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল

রফিকুল ইসলাম সাগর
ছোট ভাইয়ের দোকানের ভেতর বসে ছিল রহিম (ছদ্মনাম)। এলাকার ছিঁচকে রংবাজ বাবুল (ছদ্মনাম) হঠাৎ এসে বলল রহিম ভাই আপনার সঙ্গে একটু কথা আছে দোকানের বাইরে বের হন। দুজন একই এলাকার বাসিন্দা তাই পূর্ব পরিচিত। রহিমকে যেই দোকান থেকে ডেকে বাইরে আসতে বলা হয়েছিল সেই দোকানের বাইরে একটি সাদা মাইক্রোবাস দাঁড় করানো হয়েছিল। মাইক্রোবাস থেকেই বাবুলকে নামতে দেখেছিল রহিম। মাইক্রোবাসের ভেতরে আরও চার-পাঁচ জন ছিল। রহিম ধারণা করেছিল মাইক্রোবাসের ভেতরে যারা ছিল তারা গোয়েন্দা পুলিশ। মহল্লার সবাই জানে বাবুল বর্তমানে পুলিশের ইনফর্মার হিসেবে কাজ করে। অনেকেই তাকে দেখেছে নিয়মিত পুলিশের গাড়িতে করে ঘুরতে। 

রহিমকে ডেকে নিয়ে আসার পর পাশের একটি নিরিবিলি গলিতে নিয়ে যায় বাবুল, তার সঙ্গে আরেকজন ছিল যে নিজেকে পুলিশ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। বাবুল রহিমকে বলল আমরা তথ্য পেয়েছি আপনার সঙ্গে মাদকদ্রব্য আছে আপনাকে তল্লাশি করা হবে। তল্লাশির নামে রহিমের পকেটের ভেতরে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বাবুল। রহিমের মোবাইল ও মানিব্যাগ নিজের পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে বাবুল তার সঙ্গে থাকা পুলিশ পরিচয়দানকারীকে বলল_ স্যার আপনি কথা বলেন আমি যাই, এই কথা বলে বাবুল পুনরায় সেই সাদা মাইক্রোবাসের ভেতর উঠে বসে। রহিমের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে সেই লোক যখন চলে যাবে তখন রহিম বলল স্যার আমার মোবাইল? লোকটি বলল 'তোমার মোবাইল নিয়ে গিয়েছে আচ্ছা তুমি দাঁড়াও আমি দেখছি'। এ কথা বলে লোকটিও মাইক্রোবাসের ভেতর উঠে বসে। রহিমের মোবাইল ফেরত না দিয়ে গাড়িটি সেই স্থান ত্যাগ করে। রহিম বুঝতে পারে অভিনব কায়দায় তার মোবাইল ছিনতাই করা হয়েছে। 

বাবুল পুলিশের ইনফর্মার হিসেবে কাজ করে জানতে পেরে রহিম থানায় বাবুলের নামে অভিযোগ করতে যায়। থানায় গিয়ে সে জানতে পারে অনেকের অভিযোগের ভিত্তিতে বাবুলকে ইনফর্মার হিসেবে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন নাকি আর বাবুল পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে ঘুরে না। থানার একজন পুলিশ রহিমকে বলল আপনি বাবুলের নামে একটা জিডি করেন আমরা এই ব্যাপারটা দেখব। রহিমের সঙ্গে কথা বলার পর সে বলল সে নিশ্চিত না যে সেই সাদা মাইক্রোবাসে যারা ছিল তারা পুলিশ। সে বলল এমন হতে পারে বাবুল পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করছে, এটা ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল। বাবুলের নামে আরও অনেক অভিযোগ আছে যে সে পরিচিতদের ডেকে নিয়ে ঠিক রহিমের মতো সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। বাবুলদের মতো যারা তাদের কখনো বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায় না। বাবুলের মায়ের বক্তব্য অনেকদিন সে বাড়িতে আসে না কোথায় আছে জানি না। কিন্তু মহল্লার অনেকেই বললেন বাবুল নিজ বাড়িতেই থাকে। তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে তার মা টাকা খরচ করে জামিনে ছাড়িয়ে আনে।

সারাদেশে এমন অনেক বাবুল আছে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। সবাই সাবধানে থাকবেন আপনার সঙ্গেও ঘটতে পারে এমন ঘটনা। 

Monday, June 20, 2011

কুয়ালালামপুরে ভালো নেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা


রফিকুল ইসলাম সাগর :  কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া থেকে : স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশ এসে আমি এখন প্রবাসী। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর শহরে বর্তমানে আমার অবস্থান। কি নেই এই শহরে? সব আছে, অনেক উন্নত দেশ, উন্নত শহর। বলা যায় স্বপ্নের শহরও, নেই শুধু কারও জন্য কারও সময়। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সবাই। এই দেশের রাস্তাতে নেই ধুলাবালি, যানজট নেই, ট্রাফিক পুলিশ সব সময় থাকে না, সবাই সিগনাল বাতি মেনে চলাচল করে। নেই লোডশেডিং সমস্যা। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত। সিটির মধ্যে দুই ধরনের ট্রেন মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করে একটি, আরেকটি মাটির উপর দিয়ে। অসংখ্য সরকারি বাস। বেশিরভাগ যাত্রী ট্রেন দিয়ে চলাচল করে। ট্রেনের টিকিট কাটার ব্যবস্থাও খুব উন্নত। আজ থেকে ২০ বছর আগে নাকি মালয়েশিয়ায় এসব কিছুই ছিল না। ছিল শুধু পাহাড় আর জঙ্গল।
মাত্র বিশ বছরে এত উন্নত! ভাবতে অবাক লাগে ! সবচেয়ে অবাক লাগে এ পর্যন্ত এদেশের গাড়িগুলোতে হর্ন দিতে দেখিনি। বুঝতে পারলাম এখানে মানুষ শব্দদূষণ সম্পর্কে অনেক সচেতন। মালয়েশিয়ার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ খুব ভালো। এত বড় এই দেশের জনসংখ্যা নাকি মাত্র তিন কোটি। এখানে নিজের কাজ নিজেকে করতে হয়, নিজের গাড়ি সবাই নিজে ড্রাইভ করে ড্রাইভার রেখে কেউ টাকা নষ্ট করে না। শিক্ষক নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে এয়ারপোর্ট-এ ছাত্রকে রিসিভ করতে আসে। এ দেশের মেয়েরা খুব পরিশ্রমী। তারা ঘরে বসে থাকে না, কাজ করে। কিন্তু তারা রান্না করতে পারে না। বেশিরভাগ মানুষ রেস্টুরেন্টে খাবার খায়। প্রচুর শাকসবজি খায় আর কোন কিছুই পুরোপুরি রান্না করে না, হালকা কাঁচা রেখে খায়। তাই সবাই খুব স্বাস্থ্যবান। রেস্টুরেন্টগুলোর খাবার একেবারে নির্ভেজাল, অর্ডার করার পর রান্না করা হয় এবং তা খেতে দেয়া হয়।
সবাই বলত বিদেশের জীবন নাকি খুব কষ্টের। কিন্তু আমার কাছে তা মনে হয় না। কষ্ট লাগে যখন কথা বলার জন্য কাউকে পাই না, এখানে সব থাকলেও আমার আপন মানুষগুলো নেই, বন্ধুবান্ধবরা নেই। খুব মনে পড়ছে আমার মাতৃভূমির কথা, আমার দেশে মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করা যায় কিন্তু এখানে নানা জটিলতা কারণ আমি বিদেশি।

আজ এক মাস হল দেশ ছেড়ে প্রবাসী। মালেশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বর্তমানে অবস্থান। আমাদের দেশ থেকে অনেক উন্নত এই দেশ, অসংখ্য বাঙালি এখানে অবস্থান করছে। সমস্যা হল এখানে যে পরিমাণ বাঙালি আছে তার মধ্যে বেশিরভাগই অবৈধ। যাদের ভিসার মেয়াদ নেই, পাসপোর্ট নেই। এর মধ্যে কিছু আছে যারা নিজের ইচ্ছায় ভিসার মেয়াদ বাড়ায়নি লুকিয়ে কাজ করছে, কাউকে ভিসা দেয়নি, আর এমন কিছু লোক আছে যাদের পাসপোর্ট দালালের কাছে। এখানে এসে যা দেখলাম এখানে বাংলাদেশ থেকে আসা দালালের সংখ্যাও অনেক বেশি। এ দালালরা যখন দেশ থেকে একজন শ্রমিককে এখানে নিয়ে এসে তার পাসপোর্ট রেখে দেয় এবং সেই শ্রমিকের প্রতি মাসের বেতনের ২৫% কেটে নেয়।

প্রবাসে এসে বুঝতে পেরেছি পাসপোর্ট কত মূল্যবান জিনিস! যেদিন মালয়েশিয়াতে প্রথম এসেছি সেদিন আমার বন্ধু অসীম বলেছিল তুই হারিয়ে যাবি কিন্তু পাসপোর্ট যেন না হারায়। যেখানেই যাই পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হয়। বিদেশে পাসপোর্টই আমার পরিচয়। বাঙালি যারা তাদের পুলিশ বেশি আটকায় পাসপোর্ট দেখার জন্য। আমি স্টুডেন্ট বলে আমার বেশি সমস্যা হয় না; পাসপোর্ট দেখালেই ছেড়ে দেয়। যাদের ওয়ার্ক ভিসা তারা বাইরে ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ ঝামেলা করে। টাকা না দিলে ছাড়ে না। যা দেখলাম যা শুনলাম তাতে বুঝলাম এখানে বাঙালি শ্রমিকরা ভালো নেই।