Showing posts with label ফিচার. Show all posts
Showing posts with label ফিচার. Show all posts

Tuesday, August 9, 2016

এখন নারীদের হট বলার মানে প্রশংসা করা!


রফিকুল ইসলাম সাগর  
আগে নারীদের প্রকাশ্যে 'হট' বলার ব্যাপারটা বলা হতো নোংরামি। 
যে নারীকে উদ্দেশ্য করে বলা হতো তার জন্যে হট শব্দ শোনাটা ছিল, লজ্জাজনক। যারা বলতো তাদের বলা হতো, বখাটে। 
আর এখন নারীদের 'হট' বলা মানে, প্রশংসা করা। এছাড়া খোলামেলা পোশাকপড়ার নাম আধুনিকতা। এযুগের নারীদের হট বললে তারা খুশি হয়।
.
একটা উদহারণ:- ভারতীয় টিভি চ্যানেলে একটি রিয়েলিটি শো দেখছিলাম। তাতে ছোট পোশাকে এক নারী অংশগ্রহণকারীর নাচের পার্ফম্যান্সের পর প্রোগ্রামের 'জজ' প্রথমেই বলল, ''ইউ আর লুকিং ভেরি ভেরি হট।'' এমন কমেন্ট শোনার পর অংশগ্রহণকারী নারী খুশিতে কয়েক সেকেন্ড লাফালাফি করল। এরপরে অট্টহাসিতে জজকে ''থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ সো মাচ'' জানালো। 
আর গ্যালারিভর্তি দর্শকরাও খুশিতে ''ও...ও....ও'' করে চিৎকার করল। 

এবার হট প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে ক'দিন যাবৎ আকর্ষণীয় ও অধিক আলোচিত যে ইস্যু সেই হাতির কথা-
''ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেপড়া একটি হাতিকে নিয়ে আমাদের মিডিয়া গুলো যেভাবে আগ্রহ আর সহানুভূতি দেখাচ্ছে। অভাবগ্রস্থ, বিপদগ্রস্থ, ক্ষতিগ্রস্থ ও অসহায় যে মানুষগুলোর আসলে এই সহানুভূতি প্রাপ্য তাদের বেলাতে সহানুভূতির পাল্লা হালকা।'' দু'একদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, হাতিটিকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! কেউ কেউ হেডলাইন করছে, হাতিটি কি মারা গেল! কারো হেডলাইনে, হাতিটি কি তাহলে ভারতে চলে গেছে! এছাড়া এইতো একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার হেডলাইনে দেখলাম, ''ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল হাতিটিকে খুঁজে না পেয়ে চলে গেছে''।
যাই হোক হাতির পরিণতি, ঘটনাটা আসলে দুঃখজনক। আমার মনে হয়, বোবা প্রাণীদের জন্য আমাদের ভেতরে যে মায়া কাজ করে মানুষের জন্য করেনা। আর করলেই অনুভুতিটা দুইটা দুইরকম। 


লেখার এদিকটায় এসে আমার মন যে কথা বলছে...
হাতির সাথে আমাদের চলচ্চিত্রের নায়িকাদের তুলনা করছে। এইতো কয়েকবছর আগেও আমাদের চলচ্চিত্রের নায়িকাদের দেহের যে অবস্থা ছিল তাতে অনেক দর্শকই তাদের হাতির সাথে তুলনা করত। অবশ্য তখন সিনেমার বাজেট কিন্তু হাতির মত মোটা ছিলনা। বোধয় বাজেটের কারণেই স্লিম নায়িকাদের অভাব ছিল। 
এখন অবশ্য আমাদের চলচ্চিত্রের মান অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রে অবাক করার মত পরিবর্তন হয়েছে। যা একসময়ে কল্পনাই করা যেতনা। বাংলাদেশি নায়িকারা এখন বলিউডেও কাজ করে। সেদিন দূরে নয় যেদিন তারা হলিউডেও কাজ করবে। সে যোগ্যতাও এখনকার নায়িকাদের আছে। 

Sunday, January 24, 2016

যখন প্রথম দেশে রেমিট্যান্স পাঠাই

রফিকুল ইসলাম সাগর

বিদেশ থেকে প্রবাসীদের আয় করা বৈদেশিক মুদ্রা বৈধভাবে দেশে পাঠানোকে রেমিট্যান্স বলে। রেমিট্যান্স শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রবাসীদের প্রেরিত আয়। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ।

বৈধভাবে প্রবাসীদের পাঠানো আয় সেটা যে দেশ থেকে পাঠানো হয় সে দেশের মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট হয়ে আসে। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে রেমিট্যান্স অনেক বড় ভূমিকা রাখে। অনেক প্রবাসী অবৈধভাবে দেশে তাদের আয় পাঠান। যাকে বলে, 'হুন্ডি'। এ ধরনের আদান-প্রদান হয় ব্যক্তিগতভাবে। অধিকাংশ প্রবাসী সময় বাঁচাতে হুন্ডি করে দেশে টাকা পাঠান। এর মধ্যে এক শ্রেণীর প্রবাসী অবৈধভাবে বিদেশে থাকেন। তারা অবৈধভাবে হুন্ডি করে মুদ্রা পাঠান। আরেক শ্রেণীর প্রবাসীর কাছে হুন্ডি করে পাঠানো সহজ মনে হয়। তবে কারণ যাই হোক, হুন্ডির মাধ্যমে আদান-প্রদানে দেশের ক্ষতি। আমার প্রবাসী হওয়ার শুরুতে জীবনের প্রথম যেদিন নিজের পরিশ্রমে অর্জিত আয়ের কিছু অংশ দেশে বাবার কাছে পাঠিয়েছিলাম ২০১১ সালে। সে অনুভূতিটা ছিল অন্য রকম। কী যে এক তৃপ্তি পেয়েছিলাম! সেটা ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় এক আনন্দময় মুহূর্ত। জীবনে অনেক রকম আনন্দের স্বাদই তো অনুভব করেছিলাম। তখন মনে হয়েছে, যেন এ রকম একটা আনন্দ অনুভব করাই বাকি ছিল। প্রথম রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখলাম। ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে সে মুহূর্তে বাবা মনে হয় ভেবেছিলেন_ ছেলে আমার আর অকর্মা নেই। মনে মনে বাবাও খুব আনন্দ পেয়েছিলেন এবং আমাকে নিয়ে গর্ব হয়েছিল তার। একজনের কাছে শুনেছিলাম, আমার পাঠানো টাকা পাওয়ার পর বাবা কয়েকদিন তার বন্ধুদের কাছে ছেলের টাকা পাঠানোর গল্প শুনিয়েছেন। এ কথা শুনে দারুণ রকমের ভালো লাগা থেকে নিজের অজান্তেই আমার চোখে জল এসেছিল। আমি জানি, আমার মা-বাবা সেদিন টাকা পাওয়ার চেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছিলেন আমি কিছু করছি বলে। আমাকে নিয়ে অনেকটা চিন্তামুক্ত হয়েছিলেন। সম্ভবত এমন অনুভূতি বিশ্বের সব প্রবাসীর পাঠানো টাকা পাওয়া মা-বাবার। 

Wednesday, June 10, 2015

কয়েনের নেশায়

  • রফিকুল ইসলাম সাগর 

তার বাড়ি ঢাকার বনানীতে। অদ্ভুত শখ তার। তিনি বিশ্বের নানা দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করেন। তার নাম আবুল বাশার বাদশা। সব চেয়ে বড় বিষয় তার সংগ্রহে রাখা দেশী-বিদেশী কয়েনের বেশির ভাগই আদিকালের। যেগুলোর হয়তো সাধারণ কোনও মুল্য নেই, কিন্তূ প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সবই অমুল্য। এমন কিছু কয়েনও রয়েছে যেগুলো এত পুরনো যে, এর ভিতরকার ছাপ ও লেখা মুছে গেছে। দেখে বুঝার উপায় নেই এগুলো কোন আমলে প্রচলিত ছিল। দেশী-বিদেশী কাগজি মুদ্রাও সংগ্রহ করেন তিনি। পাকিস্তানি আমলের কিছু টাকার সংগ্রহ আছে তার কাছে। ২০০২ সাল থেকে বাদশা কয়েন ও টাকা সংগ্রহ শুরু করেন। কয়েন ও টাকা সংগ্রহ তার নেশা। বন্ধু-বান্ধব ও নিজে দেশ-বিদেশ ঘুরে তিনি এই মুদ্রা সংগ্রহ করেছেন। ওমানের বাইসা,সিঙ্গাপুর,অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকান ডলার,সৌদি আরবের রিয়েল,তুর্কির ব্রলীয়ন,মিশরের পাউন্ড,মায়ানমারের কায়াস,ব্রাজিলের ব্রুজীয়র্স,মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত,ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের রুপি এবং মুক্তিযুদ্ধের আগে প্রচলিত কিছু পাকিস্তানি টাকা তার সংগ্রহে আছে। এ ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ৯৩টি দেশের ১ হাজার ৫২৩টি কয়েন আছে তার সংগ্রহে। মূলত বিদেশী টাকা ও কয়েন সংগ্রহ করতে তিনি বিদেশ ভ্রমন করেন। কারও কাছে আদিকালের কয়েন থাকার খবর পেলে ছুটে যান তার কাছে। অনুরোধ বা অর্থের বিনিময়ে তিনি তা সংগ্রহ করে ছাড়েন। তার বাড়িতে একটি মুদ্রার সংগ্রহশালা আছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত 

Tuesday, June 9, 2015

ফেইসবুকে প্রতারণা

-রফিকুল ইসলাম সাগর 

"হ্যালোআমি রোস জিনাউই। আমার বয়স ১৮ বছর। আমি তোমার প্রোফাইলটি দেখলাম। বেশ ভালো লেগেছে। আমরা চাইলে খুব ভালো বন্ধু হতে পারি এবং একটা ভালো সম্পর্কে জড়াতে পারি। কিছুটা কাছাকাছি যেতে পারি। আমি তোমার সাথে ব্যক্তিগত কিছু ব্যাপার শেয়ার করতে চাই। এই যে আমার ই-মেইল। আমার আরো খোলামেলা, মোহনীয় ছবি দেখতে চাইলে মেইল করো বন্ধু। তোমার মেইলের অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থেকো। ইতি তোমার নতুন বন্ধু রোস।"
ইদানিং, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ইনবক্সে অপরিচিত বিদেশী মেয়েদের এমন মেসেজ (বার্তা) আসছে নিয়মিত। এ নিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। তাদের প্রোফাইল পিকচারে আকর্ষনীয় লোভনীয় ছবি দেয়া থাকে। সম্পর্ক তৈরির আকুতি জানিয়ে তাদের পাঠানো মেসেজ পেয়ে অনেক নতুন ফেসবুক ব্যবহারকারী বাংলাদেশী খুশি হয়ে যায়। নতুন প্রেমে পড়ার মতো আবেগে ভাসতে থাকে। স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এ সব বিদেশী মেয়েদের পাঠানো মেসেজের রিপ্লাই দিয়ে ধীরে ধীরে তাদের পাতানো ফাদে পা দেয় নতুন ও অজ্ঞ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এবং তারপর আর্থিক ভাবে প্রতারিত হয়। 
যারা অনেক আগে থেকে ইন্টারনেট/ফেসবুক ব্যবহার করে তাদের কাছে এই মেসেজ গুলো গুরুত্বহীন। তারা জানে এটা অর্থ হাতিয়ে নেয়ার আধুনিক কৌশল। অনেক ছেলেরাও মেয়েদের ছবি দিয়ে ফেসবুকে একাউন্ট খুলে প্রতারণার ফাদ পাতে। কিন্তু অনেক ইন্টারনেট/ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফ্রেক আইডি অথবা এইসব আধুনিক প্রতারণার কৌশলের ব্যাপারে ধারণা নেই। তাদের কাছে বিদেশী মেয়ে বন্ধু বিশাল ব্যাপার। আর নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদান তো আরো বিশাল ব্যাপার। ছেলেরাও যে মেয়েদের ছবি দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট তৈরী করে ছেলেদের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করে এটা অনেকেই জানেন না। কিছু মানুষ মেয়েদের ছবি দেখলেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুর তালিকা ভারী করে নিজেই প্রতারনার পথে পা বাড়ায়।
এ সব বিদেশী মেয়েদের সাথে নিয়মিত মেসেজ আদান-প্রদান করলে দেখা যায় তারা খোলামেলা ছবি পাঠিয়ে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করে। বিশ্বাস অর্জন করে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা চায়। এই যেমন, ''আমার বাবা নেই। আমার কোনো ভাই নেই। আমরা খুব গরিব। এ মাসের নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে আমার কলেজে টিউশন ফি দিতে হবে। না দিতে পারলে আমি পরীক্ষা দিতে পারবনা। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই। এখন কি করব ঠিক বুঝতে পারছি না। যদি পারো এই একাউন্টে কিছু টাকা পাঠাও।'' এমন মেসেজ পেয়ে অনেকে আবেগে পড়ে টাকা পাঠিয়ে দেয়। আবার কোনো কোনো মেয়ে বন্ধু পরিচয় হওয়ার এক পর্যায়ে মেসেজ পাঠায়, ''আমি তোমার সাথে দেখা করতে তোমার দেশে আসব। কিন্তু আমার কাছে এই মুহুর্তে টাকা নেই। তুমি বিমান ভাড়া পাঠাও।'' টাকা পাঠানোর পর দেখা যায় সেই নারী আর যোগাযোগ করছে না। এই সব প্রতারণার ফাদে পা দেয় অসংখ্য প্রবাসী বাঙালিরা। 
মালয়েশিয়া প্রবাসী জামালপুরের সোহাগের সাথে কথা হয়। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ফিলিপাইনের এক মেয়ে তাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়। মেয়েটির প্রোফাইল ঘটিয়ে সে অসংখ্য আকর্ষনীয় সুন্দর ছবি দেখতে পায় এবং ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করে। নিমিষেই মেয়েটিকে নিয়ে তার নানান রকম কল্পনা সৃষ্টি হতে থাকে। প্রথম দিনেই মেসেজ আদান-প্রদানে দুইজনের মধ্যে প্রেম হয়ে যায়। মেয়েটি ক্রিস্টান ধর্মের। সোহাগকে জানায় সে তাকে বিয়ে করবে এবং মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করবে। মোবাইল নাম্বার পেয়ে দু'জনের কথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সম্পর্ক আরো গভীর হয়। প্রথম প্রথম সোহাগ মেয়েটিকে মোবাইলে টাকা পাঠায়। আস্তে আস্তে পরিবারের নানান অজুহাত দেখিয়ে দফায় দফায় টাকা আদায় করে মেয়েটি। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে মালয়েশিয়া দেখা করতে আসার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠানোর পর মেয়েটির ফেসবুক একাউন্ট গায়েব। যে মোবাইল নাম্বারে কথা বলত সে নাম্বার বন্ধ। তখন সোহাগ বুঝতে পারে সে প্রতারিত হয়েছে। প্রায় একই ভাবে প্রতারিত হয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসী টাঙ্গাইলের অভি, মিরপুরের নাজমুল ও নরসিংদীর তৌকির।

২৩ অক্টোবর ২০১৩, দৈনিক বর্তমানে প্রকাশিত 

Monday, June 1, 2015

দূরত্ব পেরিয়ে


১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২, দৈনিক সমকালে প্রকাশিত   

Sunday, May 31, 2015

::: ছবির কথা :::


দিন-তারিখ ঠিক মনে নেই। আমি ছিলাম তখন যুগান্তর স্বজন সমাবেশ গুলশানের সাধারণ সম্পাদক। নটর ডেম কলেজে সেদিন অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুগান্তর স্বজন মহাসমাবেশ। কবি ছিলেন সেই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। আমরা যারা স্বজন সমাবেশ ঢাকায় কমিটিগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিলাম মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। সেই সুবাদে প্রিয় কবির খুব কাছে যাওয়ার সুযোগ পাই। সুযোগ হয় তার সঙ্গে কথা বলার। কবি তখন খুব অসুস্থ। ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। হাঁটতেও সমস্যা হচ্ছিল। আমি খুব ছোট মানুষ একটু-আকটু লেখালেখি করি। সেই সময়ে এতবড় একজন কবির সান্নিধ্য আমার জন্য বিশাল পাওয়া, সারা জীবন মনে রাখার মতো, গর্ব করার মতো স্মৃতি। তার দেয়া কিছু উপদেশ আমার সারা জীবনের সম্পদ।  
ছবিতে অনুষ্ঠান শেষে কবিকে তার গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার সময়-
বাঁ থেকে আশফাক আহমেদ খান জুয়েল, স্বজন সমাবেশ গুলশানের সভাপতি (সাবেক), আমি (পেছনে), প্রিয় কবি ও স্বজন সমাবেশ গুলশানের সহ-সভাপতি (সাবেক)। এই ছবিটি তোলার কিছুদিন পরই কবি আমাদের ছেড়ে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। এই ছবিটি আমার কাছে অনেক মূল্যবান একটি ছবি।
রফিকুল ইসলাম সাগর
সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বজন সমাবেশ, গুলশান। 



Friday, May 29, 2015

পহেলা বৈশাখে বনানীতে পুনর্মিলন

-রফিকুল ইসলাম সাগর 

খুব সকাল থেকেই একে একে এসে হাজির হয়েছেন সবাই বনানী দুই নাম্বার রোডের সড়কে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চের সামনে প্যান্ডেলের নিচে। বাবুর্চিদের তখনও রান্না শেষ হয়নি। সেচ্ছায় অনেকে যার যার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন। 
বনানী দুই নাম্বার রোড ট ব্লক ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যেগে এইবারই প্রথম পহেলা বৈশাখের দিন 'বনানী দুই নাম্বার রোড বসবাসরত এলাকাবাসী পুনর্মিলন ২০১৩ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের' আয়োজন করা হয়। উপস্থিত সবাই একই এলাকায় থাকেন কিন্তু নানান রকমের ব্যস্ততার কারণে সবার সাথে সবার দেখা হয়না। এলাকার সবাই এক সাথে একদিন কাটানোর জন্যই আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। 
দুই নাম্বার রোড এলাকাবাসী প্রায় সবাই হাজির হয়েছিলেন। একই প্যান্ডেলের নিচে সবাই সবাইকে পেয়ে আনন্দ মুখর পরিবেশে কেটেছে সময়। আগামীতে প্রতি বছর এরকম অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেকে। এলাকায় অনেক মানুষ থাকে, এমন হয় প্রতিদিন পথে দেখা হয় কিন্তু কথা হয় না, ব্যক্তিগত ভাবে মানুষটির সাথে পরিচয় নেই। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে সেই মানুষটির সাথে পরিচিত হওয়ায় খুশি হয়েছেন অপরিতিচিত জনেরা। 
সকালে নাস্তার তালিকায় সবার জন্য ছিল পান্তা ভাত,ইলিশ মাছ,আলু ভর্তা,মরিচ ভর্তা ও শুটকি ভর্তা। আন্তরিকতার সাথে সবাই নিজ নিজ খাবার প্লেট হাতে নিয়ে বসে পড়ে খাবার টেবিলে এ যেন ছিল পারিবারিক অনুষ্ঠান। 
সকালের পর থেকে দুপুরের আকাশটা ছিল মেঘলা। তার সাথে প্রচন্ড বাতাস যেন বলে যাচ্ছিলবৈশাখ এসেছে। উপস্থিত অনেকেই ধারণা করেছিল বৃষ্টি হবে। কিন্তু না শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি। 
দুপুরে পোলাও ভাত,মুরগি ও গরুর মাংশ দিয়ে খাবার শেষ করে নিজ নিজ আসনে বসে একে অপরের সাথে গল্পে মেতেছিল আগতরা। কারো আলোচনায় ছিল দেশের বর্তমান পরিস্থিতি,কেউ কেউ রাজনৈতিক,কেউ পারিবারিক আবার কেউ অনেকদিন পর কারো সাথে দেখা হওয়ার সুবাদে কার কী অবস্থা সেই হাল জেনে নিচ্ছিলো। এরই মাঝে বিকেল বেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করার প্রস্তুতি চলছিল। 
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু করার পূর্বে বনানী দুই নাম্বার রোড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উপদেষ্টা এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি আব্দুল গাফফার,হিটু,আব্দুল মুনসুর দুলাল,আব্দুল খালেক ও সোসাইটির সভাপতি জয়নাল আবেদীনকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান অনুষ্ঠান উপস্থাপক আব্দুল কাদের।
অনুষ্ঠান সূচনায় বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের ও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন। তারপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী শামসুল হুদা মেহেদী ও তার দল। একতারা,হারমনি ও তবলা বাজিয়ে শিল্পীরা মাটির গান,বাংলার গান গেয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন দর্শকদের। গান গুলো মনে করিয়ে দিচ্ছিল আমাদের বাংলার ঐতিহ্যকে। যা আমরা হিন্দি ও ইংলিশ গানের মাঝে ভুলতে বসেছি। একে একে গান ও কবিতা আবৃতি করে এলাকার শিল্পীরা। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 
এই অনুষ্ঠান সফল করতে যারা অনেক পরিশ্রম করেছেন--জাহাঙ্গীর হোসেন,আনোয়ার হোসেন,শেখ আনোয়ার আলী কালু,অলি মিয়া,সহীদ ও জুয়েল। 

২৬ এপ্রিল ২০১৩ দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত 


Thursday, May 28, 2015

রমনার বটমূল

:: নববর্ষের ঐতিহ্য ::
  • রফিকুল ইসলাম সাগর

ষাটের দশক থেকে রমনার বটমূল আমাদের সংস্কৃতি এবং সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক স্থান। বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ উদযাপন হয় এই রমনার বটমূলকে ঘিরেই। বর্ষবরণ উৎসবে রমনার পুরো এলাকাজুড়ে জমে ওঠে প্রাণের মেলা।
মোঘল আমল থেকেই এটি একটি বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। রমনার নামকরণ মোঘলদেরই দেয়া। রমনা শব্দের অর্থ সবুজ ঘাসে ঢাকা চত্বর। কোম্প্যানি আমলে, ১৮৭০ সালে রমনা পার্ক এলাকাটি ছিলো একটি জঙ্গল। আর ইংরেজ আমলে, ১৯০১ সালে রমনা পুনরুদ্ধারে প্রথম হাত দিয়েছিলেন ঢাকার মেজিস্ট্রেট চার্লস গ্যজ। ১৮২৫ সালে তিনি জেলের কয়েদিদের দিয়ে রমনার জঙ্গল পরিষ্কার করিয়েছিলেন।
চার্লস গ্যজ চলে যাওয়ার পর, রমনার বটমূল আবারো জঙ্গল হয়ে উঠেছিলো। পরবর্তী কালে, নবাবি আমলে, নবাব আহসান উল্লাহ এখানে একটি চিড়িয়াখানা করেছিলেন।
মূলত রমনা পার্কের গোড়াপত্তন হয় ১৯০৮ সালে। কারো কারো মতে ১৯০৯ সালে। সে সময়ে লন্ডনের কিউ. ই. গার্ডেনের অন্যতম কর্মী আর এল প্রাউডলকের তত্ত্বাবধানে, পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শুরু হয়। বলা যায় তিনিই রমনা পার্কের পরিকল্পক। তাঁরই তত্ত্বাবধানে এখানে রোপন কড়া হয়েছিলো একটি অসক্ত গাছ। রমনার বটমূলে যে গাছটিকে আজও আমরা বটগাছ বলে জানি; আসলে সেটি বটগাছ নয়, অসক্ত গাছ।
১৯৬৭ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে এখানে প্রথম বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছায়ানটের সেচ্ছাসেবীরা এ জায়গাটি পরিচ্ছন্ন করে। বটগাছ তথা অসক্ত গাছটির নিচে সেই গানের আসর বসে। তখন থেকেই শুরু হয়েছিলো বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন। []
::

Tuesday, May 26, 2015

নিঝুম দ্বীপ


  • রফিকুল ইসলাম সাগর


নোয়াখালী জেলার দক্ষিণে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত হাতিয়া উপজেলার সর্ব দক্ষিণে নিঝুম দ্বীপের অবস্থান। ১৯৪০-এর দশকে এ দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর হতে জেগে ওঠা শুরু করে। চর গঠনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ৪০-এর দশকের শেষদিকে নিঝুম দ্বীপ তৃণচর বা গোচারণের উপযুক্ত হয়ে ওঠে। মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা নিঝুম দ্বীপ আবিষ্কার করে। ৫০-এর দশকের মাঝামাঝি নিঝুম দ্বীপে জনবসতি শুরু হয়। মূলত হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন থেকে কিছু জেলে পরিবার প্রথম নিঝুম দ্বীপে আসে। নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়ত বিধায় জেলেরা এ দ্বীপের নাম দেয় 'ইছামতির দ্বীপ'। এ দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মতো ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এ দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেও ডাকত। কালক্রমে ইছামতি দ্বীপ নামটি হারিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকেরা এখনো এ দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেই সম্বোধন করে। নিঝুম দ্বীপ বা বাইল্যার ডেইল যে নামই হোক না কেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দিয়ারা জরিপ বিভাগ এ দ্বীপের জমি চর ওসমান মৌজা হিসেবে জরিপ করে। কথিত আছে সরদার ওসমান নামের এক সাহসী বাথানিয়া ১০০ মহিষ নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিয়ে প্রথম এ দ্বীপে আসে এবং দিয়ারা জরিপ কর্মচারীদের জরিপ কাজে প্রভূত সহায়তা করে বিধায় তার নাম অনুসারে নিঝুম দ্বীপে মৌজার সরকারি নাম হয় 'চর ওসমান'। সমগ্র নিঝুম দ্বীপের প্রায় তিন হাজার একরে মানুষের বসতি রয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন রয়েছে।


বানর পাড়া


  • রফিকুল ইসলাম সাগর

কুয়ালালামপুরের আম্পাং জায়া, জালান রেশমি, দারুল এহসান গলফ ক্লাবের পাশের সড়কটিতে গেলে দেখা মিলে ছোট-বড় শত শত বানরের। যে জায়গাটি কোনো চিড়িয়াখানা নয়, স্বেচ্ছায় বানরগুলো সেখানে বসবাস করে। বানরগুলো দেখতে খুব পরিষ্কার-পরিছন্ন। মালয়েশিয়াতে প্রতিদিন বৃষ্টিপাত হয় বলেই বানরগুলো পরিষ্কার-পরিছন্ন। এ জায়গাটিকে বলা যায় বানর পাড়া। একসঙ্গে এত বানর অন্য কোথাও দেখা যায় না। বানর দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করে সেখানে। সবাই বানরের জন্য খাবার কিনে নিয়ে যায়। নিজ হাতে সেই খাবার বানরের হাতে তুলে দেয়। মানুষের সঙ্গে বানরগুলো বন্ধুসুলভ আচরণ করে। বানরগুলো মানুষের পাশ দিয়ে হাঁটছে, আবার কোনোটি মানুষের সঙ্গে বসে থাকে। তাদের মধ্যে হিংস্রতা নেই। কোনো কোনো বানর গাছে ঝুলছে, কোনোটি একটি আরেকটির সঙ্গে মারামারি করে, কোনোটি খাবার খাচ্ছে। একটি বানর আছে যে বানরটি সবচেয়ে বড়। অন্য সব বানর সে বানরকে ভয় পায়। বড় বানরটিকে দেখা যায় অন্য বানরগুলো থেকে খাবার কেড়ে নিতে। তাই বলা যায়, এ বানর পাড়ার রাজা সেই বড় বানরটি। স্থানীয়রা বড় বানরটিকে ওসামা বিন লাদেন নামে ডাকে। কেউ কেউ নিয়মিত সেখানে যায়। কিছু কিছু বানরকে পোষও মানিয়েছে। তারা নিয়মিত বানরগুলোকে খাবার দেয় বলে বানরগুলো তাদের কথা শোনে। দূর থেকে তাদের গাড়ি দেখতে পেলে সব বানর ছুটে যায় সেই গাড়ির দিকে। পছেন্দের মানুষটি গাড়ি থেকে নামলে বানরগুলো খাবারের অপেক্ষায় বসে থাকে।

নিজের ইচ্ছায় ফিরতে পারে না

রফিকুল ইসলাম সাগর 

মা ল য়ে শি য়া
সহজ সরল বোকা প্রকৃতির মানুষ আমিরুল। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার বীর খাগিয়ান গ্রামে তার বাড়ি। আজ থেকে ছয় বছর আগে গুলশানের এক দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া এসেছিলেন তিনি। মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পরই তাকে আরেক চীনা দালালের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বলা যায়, অনির্দিষ্টকাল তাকে গোলামি করার জন্য বিক্রি করা হয়েছে। শুধু আমিরুল নন, তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে আসা আরও ৪৩ জন বাঙালিকে সেই একই দালালের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ থেকে তাদের বেতন ১৮ হাজার টাকা দেয়া হবে বলা হয়েছিল, যা সেই সময়ে মালয়েশিয়া রিঙ্গিত প্রায় ১০০০। কিন্তু মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর তাদের বেতন নির্ধারিত হয় ৪৮৩ রিঙ্গিত। যা ছয় বছর আগে বাংলা টাকায় প্রায় ৮ হাজার ৬৯৪ টাকা ছিল (তখন মালয়েশিয়া ১ রিঙ্গিত বাংলা টাকায় ছিল ১৮ টাকার মতো)। বর্তমানে আমিরুলসহ আরও ১০২ জন বাঙালি সেই চীনা দালালের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে। এদের সবার পাসপোর্ট চীনা দালালের কাছে। মালয়েশিয়া আসার পর থেকে পাঁচ বছর তাদের সবার বেতন ছিল ৪৮৩ রিঙ্গিত। গত বছর তাদের বেতন বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬২০ রিঙ্গিত।
দিনে ১২ ঘণ্টা ক্লিনারের কাজ করতে হয় আমিরুলদের। বর্তমানে মালয়েশিয়াতে ১২ ঘণ্টা কাজ করলে মাসে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত থেকে ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত আয় করা যায়। আমিরুল যেখানে কাজ করে সেই একই জায়গায় পাকিস্তানি, নেপালি এবং ভারতীয়রা দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করে ৫০ রিঙ্গিত আয় করছে। মাসে ৩০ দিন কাজ করলে হয় ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত, বাংলা টাকায় প্রায় ৩৯ হাজার টাকা (বর্তমানে ১ রিঙ্গিত বাংলা টাকায় ২৬ দশমিক ২২ টাকা)। আমিরুলের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম ছয় বছরে একবারও দেশে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তার। দেশে যেতে কি ইচ্ছা করে না? আমার প্রশ্নের উত্তরে আমিরুল বলেন ‘ইচ্ছা তো করে, কিন্তু দালাল বই (পাসপোর্ট) দেয় না যে। তিনি আরও বলেন, দেশে যাইতে চাইলে ৩ হাজার রিঙ্গিত দালালের কাছে জমা দিয়া যাইতে অইব। বিমান ভাড়াও আমার বহন করতে অইব। এত কম টাকা আয় কইরা বিমান ভাড়া নিজে বহন করমু কেমনে?  
আমিরুল বলতেই থাকেন, এছাড়া প্রতি মাসে বেতন পাইয়া দেশে বউ বাচ্চারে পাঠাইয়া দেই। দুই মাইয়্যা আমার। কিছুদিন আগে আমার অবর্তমানে আমার বড় মাইয়ার বিয়া হইছে। ৩ হাজার রিঙ্গিত জমা দিমু কইত্তে। ৩০০০ রিঙ্গিত জমা না রাখলে বই দিব না (পাসপোর্ট) দালালে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যে চীনা দালালের তত্ত্বাবধানে আমিরুলরা কাজ করছে সেই দালাল প্রতি মাসে আমিরুলদের কর্মস্থল থেকে মাথাপিছু ১ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত বেতন তুলছে। যার তিন ভাগের এক ভাগ পাচ্ছে আমিরুলরা। আর এ কারণেই কাজ শেষে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমিরুলরা ঘরে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়েন। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ নেই। কর্মস্থল আর ঘুমানো- এর বাইরে তাদের আর কোনো জীবন নেই। শুধু মালয়েশিয়া না বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেশিরভাগ প্রবাসী বাঙালির জীবন কাহিনী প্রায় একই রকম। বেশির ভাগ মানুষ নিজের জমিজমা বিক্রি করে প্রবাসে যায়। প্রবাসে গিয়ে যখন তারা এরকম বিপদের সম্মুখীন হয় তখন তাদের সাহায্য করার জন্য কেউ থাকে না। বাধ্য হয়ে কষ্ট সহ্য করতে করতে এক সময় সব কিছু মানিয়ে নেন। জানি না কর্তৃপক্ষের তাদের জন্য কিছু করার আছে কি-না। প্রবাসে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে সাহায্য চেয়ে কেউ প্রতিকার পেয়েছে- এ রকম কথা এখনো কোনো মালয়েশিয়া প্রবাসীদের কাছে শুনিনি। যখন খুব কাছের মানুষের অসুস্থতার খবর পায় প্রবাসীরা তখন নিজের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরতে পারে না। কেউ মারা গেলেও তার লাশ দেখতে যেতে পারে না বাংলাদেশে। দেশের আত্মীয়স্বজনরা মনে করে বিদেশ গিয়ে স্বার্থপর হয়ে গিয়েছে, ইচ্ছে করেই ফিরছে না, বিদেশে খুব আনন্দ করছে। কিন্তু চাইলেই যে ফেরা যায় না এই কথা কেউ জানে না। যখন কাউকে কর্মের জন্য প্রবাসে পাঠানো হয় তখন বেতন নির্ধারণ করা হয় এক রকম। কিন্তু প্রবাসে পৌঁছানোর পর তারা পায় নির্ধারিত বেতনের চেয়ে অনেক কম। যতটুকু জানি কর্তৃপক্ষের কাছে এরকম হাজার হাজার দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। কিন্তু এসব দালালই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো শাস্তি হচ্ছে না। গায়ের সহজ সরল মানুষ প্রবাসে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করছে না। তারা যাচাই করবেই বা কী করে? তারা যে অজ্ঞ!


কে এল টাওয়ার


  • রফিকুল ইসলাম সাগর   


কে এল টাওয়ার। কুয়ালালামপুরের সংক্ষিপ্ত নাম কে এল। কুয়ালালামপুরের মসজিদ ইন্ডিয়া, কোতারায়া ও বুকিট বিনতাং এলাকার কাছেই কে এল টাওয়ারের অবস্থান। ১৯৯১ সালে শুরু হয় নির্মাণ কাজ। ১ মার্চ ১৯৯৫ সালে নির্মাণ কাজ শেষে এই টাওয়ারটি সবার জন্য উš§ুক্ত করা হয়। টাওয়ারটি নির্মাণ হয়েছে মালয়েশিয়া সরকারের অর্থায়নে। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। কে এল টাওয়ার নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ২৭০ মিলিয়ন রিঙ্গিত। মিনারা কুয়ালালামপুর এসডিএনবিএইচডি নামক প্রতিষ্ঠানকে কে এল টাওয়ার নির্মাণ কাজ দেয়া হয়েছিল। 
কে এল টাওয়ারের চূড়ায় আছে খাবার হোটেল। খাবার হোটেলের যেই আসনেই আপনি বসেন না কেন দেখতে পাবেন পুরো কুয়ালালামপুর শহর। খাবার হোটেলগুলো ঘূর্ণায়মান। শুধু তাই নয়, বিয়ের অনুষ্ঠানও হয় নিয়মিত। উচ্চতার দিক থেকে কে এল টাওয়ার প্রায় পেট্রোনাস টাওয়ারের কাছাকাছি। বিশ্বে কে এল টাওয়ারের অবস্থান ছয় নম্বর অবস্থানে। কে এল টাওয়ারের চূড়ায় উঠতে হয় লিফটে করে। চূড়ায় যেতে খরচ হবে ৩০ রিঙ্গিত।
বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উš§ুক্ত। কে এল টাওয়ারকে মালয়েশিয়ার টেলিযোগাযোগ টাওয়ারও বলা হয়। নিচ থেকে মাথা উঁচু করে কে এল টাওয়ারের চূড়ায় তাকালে মনে হয় এত উপরে গেলে ভয় লাগবে। কিন্তু চূড়ায় যাওয়ার পরেই আপনি বুঝতে পারবেন কে এল টাওয়ার ভ্রমণ কতটা আনন্দদায়ক। প্রতিটা মুহূর্ত আপনার ভালো কাটবে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অসংখ্য পর্যটককে প্রতিদিন কে এল টাওয়ার ভ্রমণ করতে দেখা যায়। 



Saturday, October 27, 2012

শ্রী মাহা মারিয়াম্মান মন্দির


মালয়েশিয়ার চায়না টাউনের সাথেই এই মন্দিরটির অবস্থান। ১৮৭৩ সালে 'থামবোসামি পিল্লাই' নামক একজন এই মন্দিরটি তার নিজ উদ্যেগে বানিয়েছিলেন। তখন এই মন্দিরটি ছিল তার ব্যক্তিগত পারিবারিক মন্দির। ১৯২০ সালে এই মন্দিরটি সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। 

ছবি:

-রফিকুল ইসলাম সাগর 

Monday, January 16, 2012

জুয়া খেলার শহর

১৫ জানুয়ারী ২০১২ বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত