Monday, May 18, 2015

গুজব নিয়ে ছুটাছুটি



রফিকুল ইসলাম সাগর 

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ক'টি বাংলা পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যার একটির প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই। কারণ এই সব পত্রিকায় প্রকাশিত বেশিরভাগ খবর মিথ্যা, বানোয়াট গুজব ছড়ানো। বাংলাদেশের খবরের সাথে এই পত্রিকা গুলোতে প্রকাশিত খবরের মিল পাওয়া যায়না। বেশিরভাগ খবর তারাই সৃষ্টি করে, এই সব খবরের উত্স কই থেকে তারা পায় আমার জানা নেই। আকর্ষনীয় শিরোনাম ও ছবি দেখে প্রবাসীরা পত্রিকা কিনে। শিরোনাম দেখে প্রবাসীরা মনে করে হয়তো ভালো কিছু জানা যাবে, কিন্তু পত্রিকা পড়ে তারা হতাশ হয়। পত্রিকার পাতা গুলোতে এমন ভাবে পিন মারা থাকে যে খুলে পত্রিকা পড়ার উপায় নেই, বাধ্যতা মূলক পত্রিকা কিনতেই হবে। প্রথম এবং শেষ পাতায় খবরের শিরোনাম সহ সর্বোচ্চ দুই লাইন লেখা থাকে বিস্তারিত ভিতরের পাতায়। কখনো কখনো দেখা যায় সংবাদের শিরোনামে লেখা থাকে 'শাহরুখ খান সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্নক ভাবে আহত'। অনেক সময় দেখা যায় কেউ পত্রিকা হাতে নিয়ে এমন শিরোনাম দেখতে পায়, তারপর আর পত্রিকা কিনেন না
শিরোনাম পড়ে তখন সেই ব্যক্তি এই খবর ছড়িয়ে দেন সবার কাছে, এ নিয়ে আলোচনা তর্ক-বিতর্ক করেন। অনেকে জানতে পারেন শাহরুখ খান সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্নক ভাবে আহত হয়েছেন। কিন্তু বিস্তারিত খবর পড়লে দেখা যায় কোনো এক সিনেমায় একটি দৃশ্যে দেখা যাবে শাহরুখ খান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত। পত্রিকা গুলোতে সংবাদ মিথ্যা, কাজের কথা না লিখে বাড়তি কথা লিখে পাতা ভরাট হয়, নেই সঠিক কোনো তথ্য এছাড়া উস্কানি মূলক, ভয় দেখানো সংবাদ, নানা রকম গুজব ছড়ানো খবর তাদের পত্রিকার পাতায় বরাদ্ধ পায়। প্রবাসীরা মিথ্যা সংবাদই বিশ্বাস করে। এই পত্রিকা গুলো প্রবাসীদের বিশ্বাস নিয়ে ব্যবসা করছে, রঙ তামাশা করছে। এই কথা অনেক প্রবাসী জানেন না। কেউ কেউ বিষয়টি বুঝতে পারে (যারা অনলাইনে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা পড়েন তারা)। মালয়েশিয়া থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা পত্রিকায় দেয়া মোবাইল নাম্বারে অসংখ্যবার ফোন করেছি কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করে না। কখনো কখনো মোবাইল বন্ধ থাকে। পত্রিকায় দেয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করতে গিয়েছি কিন্তু কোনদিন অফিস খোলা পাইনি। তাদের দেয়া ই-মেইল আইডিতে মেইল করেছি কেউ উত্তর দেয় না। ক'মাস যাবত সেই পত্রিকায় দেখতে পাচ্ছি যোগাযোগের জন্য দেয়া ফোন নাম্বারের নিচে লেখা থাকে 'প্রয়োজনে শুধু মেসেজ পাঠান ফোন করে বিরক্ত করবেন না'।  

প্রবাসী বাঙালিদের মুখে গুজবের ছড়াছড়ি। গুজব নিয়ে মাতামাতি। বাংলাদেশের কোনো সঠিক তথ্য তাদের কাছে পৌছেনা। বাংলাদেশে কী ঘটছে তার সঠিক তথ্য না জেনেই প্রবাসী বাঙালিরা রাতের ঘুম নষ্ট করেন। অনেক সময় যা ঘটেনি তাও প্রবসীদের কানে আসে। কিছু কিছু সবজান্তা মানুষ এই সব খবরের জন্ম দেয় দেশে বড় কোনো ঘটনা ঘটলেই পরিচিত অনেকে ফোন করে জানতে চান ভাই কী হয়েছে ঘটনা বলেন। তাদের কাছে যখন জানতে চাই আপনি কিভাবে জানলেন কিছু হয়েছে? তখন তাদের কথায় বুঝতে পারি কারো কাছে শুনেছে কিন্তু মূল ঘটনা পুরো পুরি শুনেনি, আবার যা শুনেছে ভুল শুনেছে। কেউ কেউ আছেন যারা নিজেকে অতি চালাক মনে করেন তারা না জেনেই সবার মাঝে গুজব ছড়িয়ে দেন আর সবাই তাই বিশ্বাস করে মাতামাতি শুরু করে দেয়। দেশের কোনো ঘটনার মূল কাহিনী আজ পর্যন্ত কোনো মালয়েশিয়া প্রবাসী বাঙালির মুখে শুনতে পাইনি। খুব কম প্রবাসী আছেন যারা দেশের সব খোজ খবর রাখেন। প্রতিদিন বাংলাদেশের অনেক গুলো জাতীয় পত্রিকা অনলাইনে পড়ি অনেক সময় বাঙালিদের সাথে অনেক আড্ডায় নানা রকম প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়। অনেকে দেশের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বলেন বেশির ভাগ সময় দেখা যায় যে সংবাদ গুলো শুনি তার শিরোনাম ঠিক আছে কিন্তু বিস্তারিততে ভুল আছে। এভাবেই ভুল সংবাদ গুজব ছড়িয়ে পড়ে পুরো মালয়েশিয়াতে। 

কুয়ালালামপুর থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা গুলোতে ভিসা, পারমিট সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়না। সারা বছর তারা সংবাদে শিরোনাম দেয় 'পারমিট দেয়া হবে'। কবে কোথায় দেয়া হবে নির্দিষ্ট করে কিছু লেখা থাকেনা সংবাদে। পত্রিকা বিক্রির ধান্দা। দালালের খপ্পরে পড়ে নিজের কষ্টে আয় করা পরিশ্রমের টাকা হারাতে হয় বাঙালিদের। জি টু জি পদ্ধতিতে এখন মালয়েশিয়া শ্রমিক প্রেরণ করা হলেও এখনো অনেকে জানেন না কি এই জি টু জি প্রদ্ধতি। অনেকে এখনো দালালের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন মালয়েশিয়া যাওয়ার ভিসা করার জন্য। এখন মালয়েশিয়া যেতে চাইলে শুধু মাত্র সরকারী প্রকিয়ায় যাওয়া যায়। কোনো দালালের মাধ্যমে গেলে সে আপনাকে ট্যুরিস্ট অথবা স্টুডেন্ট ভিসায় পাঠাবে। এই দুটি ভিসায় গেলে অবৈধ থাকতে হবে, কাজ পেতেও সমস্যা, যারা কাজ করার উদ্যেশ্যে মালয়েশিয়া যেতে চান এই দুই ভিসায় না যাওয়াই উত্তম। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলা চ্যানেল প্রচারের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলা চ্যানেল গুলো মালয়েশিয়ায় দেখা গেলে প্রবাসীদের জন্য অনেক ভালো হবে এবং গুজব থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। 

(১৪-০৮-২০১৩) দৈনিক বর্তমানের 'প্রবাস থেকে' পাতায় প্রকাশিত

No comments:

Post a Comment