- রফিকুল ইসলাম সাগর
মা ল য়ে শি য়া
বাংলাদেশ বিমানে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফ্লাইট। ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর। দেড় ঘণ্টা আগে ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশ বিমানে আমার প্রথম ভ্রমণ। সবার কাছে বাংলাদেশ বিমান সম্পর্কে নানান কথা শুনেছি সময়মতো ছাড়ে না, সেবার মান ভালো না এরকম কথাবার্তা। বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে বোডিং কার্ড নিয়ে ইমিগ্রেশন থেকে বেড় হয়ে বিমানের কাউন্টারে বসে অপেক্ষা করছিলাম। ভেবে নিয়েছিলাম দুই তিন ঘণ্টা লেট তো হবেই। কিন্তু না, নির্দিষ্ট সময়ের আধ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশাল বড় একটা বিমান এসে নামল। এত বড় আর এত সুন্দর বিমান! এটা বাংলাদেশের বিমান বিশ্বাস হচ্ছিল না। উঠে বসলাম। ভিতরে সবকিছুই আধুনিক। আছে বিনোদনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। বুঝলাম বাংলাদেশ বিমান সেবার মান বাড়িয়েছে। বিমানের ভেতরে সবাই বলা বলি করছিল মালেয়শিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানও এত বড় না। প্রতিটা আসনের সামনে একটি করে টিভি দেয়া হয়েছে এবং সেই টিভিতে নিজের পছন্দমতো গান, নাটক, ছবি, প্রামাণ্যচিত্র দেখতে পারবেন। অন্যসব উন্নত বিমানগুলোতে এসব সুবিধা পূর্বে থেকে থাকলেও বাংলাদেশ বিমানে এই প্রথম। বিমান আকাশে উড়ল। কয়েক মিনিটের মধ্যে উঠে গেল ৩৯ হাজার ফুট উঁচুতে। ঘোষণা করা হলো তিন ঘণ্টা পনের মিনিটে কুয়ালালামপুর অবতরণ করবে। ঘুম ঘুম চোখে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে আমার দৃষ্টি। রাতের আঁধারে আকাশ ছাড়া নিচের কিছুই দেখা যায় না। মাঝে মাঝে নিচে আলো দেখা যায়। চাঁদটা দেখা যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল চাঁদটা খুব কাছে। আমার পাশের দুই সিট খালি ছিল। আমি একা বসে ছিলাম। মনে ভাব কাজ করছিল। গান শুনছিলাম। গান অফ করে একটি নাটক ছাড়লাম। নাটকও দেখতে ভালো লাগছিল না। গেমস খেলা শুরু করেছিলাম। বিমান আকাশে উড়ার ৪০ মিনিট পর দেয়া হলো রাতের খাবার। খাবার খেতে খেতে টিভির পর্দায় দেখছিলাম বিমানটি কত স্পিডে চলছে, কত উঁচুতে আছে, কোন জায়গার উপর দিয়ে যাচ্ছে এসব। জানালা দিয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি দিয়ে নিচের দৃশ্যগুলো দেখার চেষ্টা করছিলাম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মিয়ানমারের সীমানা পার হয়ে থাইল্যান্ডের সীমানায় প্রবেশ করার পর নিচের দিকে আলো দেখতে পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল এ যেন আলোর শহর। মালেয়শিয়ার সীমানায় নিচের দিকে বিশাল বড় বড় গাছ দেখা যাচ্ছিল। স্পষ্ট দেখা না গেলেও বুঝা যাচ্ছিল নিচে জঙ্গল। মালয়েশিয়ার সময় রাত একটা চার মিনিটে বিমান ল্যান্ড করল। মালয়েশিয়া বিমানবন্দরে পথের দিকনির্দেশনা দেয়া আছে বলে খুব সহজেই ইমিগ্রেশন পার হলাম। লাগেজ নিলাম। বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হবে। ভোর পাঁচটা তার আগে কোনো বাস নেই। একা একা বসে অপেক্ষা করছি...।


No comments:
Post a Comment